ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিস ইউনিভার্স হলেন মেক্সিকান সুন্দরী ফাতিমা বশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

মিস ইউনিভার্স হলেন মেক্সিকান সুন্দরী ফাতিমা বশ

বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় এবার সব আলো কেড়ে নিলেন মেক্সিকোর প্রতিযোগী ফাতিমা বশ। কয়েকদিন আগেই আয়োজকদের অশালীন মন্তব্যের বিরুদ্ধে ‘আমি কোনো পুতুল নই’ বলে সাহসিকতার সাথে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন যিনি, সেই ফাতিমা বশই জিতে নিলেন বিশ্বসৌন্দর্যের এই সর্বোচ্চ সম্মান।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা গছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ বছর বয়সী ফাতিমাকে বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন গত বছরের জয়ী ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেজার থাইলভিগ।

এবারের আসরে রানার আপ হয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রভিনার সিং। এর শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবসালি, ফিলিপাইনের আহতিসা মানালো এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসি।

চূড়ান্ত পর্বে সাঁতারের পোশাকের রাউন্ডের পর শীর্ষ ৩০ প্রতিযোগীর সংখ্যা ১২-তে নামিয়ে আনা হয়। আর সন্ধ্যার রাউন্ডের পর সেখান থেকে নির্বাচিত হন ৫ জন।

বিচারকদের দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার ছাপ রেখে ফাতিমা বাকি সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে দেন। ফাইনালের কয়েকদিন আগে আয়োজক নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিলের কাছ থেকে ফাতিমা ‘ডাম্বহেড’-এর মতো অপ্রত্যাশিত মন্তব্য শুনেছিলেন। এমন অপমানে ক্ষুব্ধ ফাতিমা শুধু প্রতিবাদই জানাননি, বরং প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তার এই দৃঢ় অবস্থান সেসময় বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। সহ-প্রতিযোগী এবং নেটিজেনদের সংহতি ও সমর্থনে তিনি ‘ভয়হীন নারী’ হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফাইনালের মঞ্চে, বিশেষ করে নারী অধিকার, আত্মসম্মান ও নেতৃত্ব বিষয়ে তার উত্তর ছিল অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী। তার এই আত্মবিশ্বাসী উত্তর মুহূর্তেই হলজুড়ে বিপুল করতালি কুড়ায় এবং প্রমাণ করে দেয় যে, প্রতিবাদ শুধু সাহস নয়, জয়ের পথও তৈরি করে।

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ‘সুপার বোল’ হিসেবে মিস ইউনিভার্স বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিত। প্রতি বছর এর আসরে লাখো লাখো দর্শক এসে থাকেন। প্রতিবছর স্থানীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। যা মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে অনুমোদন প্রদান করা হয়।

মিস ইউনিভার্সের এবারের আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড। দেশটির প্রাণবন্ত এই প্রতিযোগিতায় ফিলিপাইনের পাশাপাশি এশিয়ার বৃহত্তম ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীও রয়েছে। প্রতিযোগিতাটি তিন সপ্তাহ ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রতিনিধিরা সারাদেশে ভ্রমণ করে মহড়া এবং ইভেন্টগুলিয় অংশগ্রহণ করেন।

এ আসরে ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রতিযোগিতায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম নারী হন নাদিন আইয়ুব এবং বাদ পড়ার আগে চূড়ান্ত ৩০ সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে জায়গা করে নেন। চূড়ান্ত পর্ব উপস্থাপনা করেন মার্কিন কৌতুক অভিনেতা স্টিভ বাইর্ন এবং এতে পরিবেশনা শুরু হয় থাই সংগীতশিল্পী জেফ সাতুরের মাধ্যমে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিস ইউনিভার্স হলেন মেক্সিকান সুন্দরী ফাতিমা বশ

আপডেট সময় : ০১:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় এবার সব আলো কেড়ে নিলেন মেক্সিকোর প্রতিযোগী ফাতিমা বশ। কয়েকদিন আগেই আয়োজকদের অশালীন মন্তব্যের বিরুদ্ধে ‘আমি কোনো পুতুল নই’ বলে সাহসিকতার সাথে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন যিনি, সেই ফাতিমা বশই জিতে নিলেন বিশ্বসৌন্দর্যের এই সর্বোচ্চ সম্মান।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা গছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ বছর বয়সী ফাতিমাকে বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন গত বছরের জয়ী ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেজার থাইলভিগ।

এবারের আসরে রানার আপ হয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রভিনার সিং। এর শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবসালি, ফিলিপাইনের আহতিসা মানালো এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসি।

চূড়ান্ত পর্বে সাঁতারের পোশাকের রাউন্ডের পর শীর্ষ ৩০ প্রতিযোগীর সংখ্যা ১২-তে নামিয়ে আনা হয়। আর সন্ধ্যার রাউন্ডের পর সেখান থেকে নির্বাচিত হন ৫ জন।

বিচারকদের দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার ছাপ রেখে ফাতিমা বাকি সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে দেন। ফাইনালের কয়েকদিন আগে আয়োজক নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিলের কাছ থেকে ফাতিমা ‘ডাম্বহেড’-এর মতো অপ্রত্যাশিত মন্তব্য শুনেছিলেন। এমন অপমানে ক্ষুব্ধ ফাতিমা শুধু প্রতিবাদই জানাননি, বরং প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তার এই দৃঢ় অবস্থান সেসময় বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। সহ-প্রতিযোগী এবং নেটিজেনদের সংহতি ও সমর্থনে তিনি ‘ভয়হীন নারী’ হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফাইনালের মঞ্চে, বিশেষ করে নারী অধিকার, আত্মসম্মান ও নেতৃত্ব বিষয়ে তার উত্তর ছিল অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী। তার এই আত্মবিশ্বাসী উত্তর মুহূর্তেই হলজুড়ে বিপুল করতালি কুড়ায় এবং প্রমাণ করে দেয় যে, প্রতিবাদ শুধু সাহস নয়, জয়ের পথও তৈরি করে।

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ‘সুপার বোল’ হিসেবে মিস ইউনিভার্স বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিত। প্রতি বছর এর আসরে লাখো লাখো দর্শক এসে থাকেন। প্রতিবছর স্থানীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। যা মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে অনুমোদন প্রদান করা হয়।

মিস ইউনিভার্সের এবারের আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড। দেশটির প্রাণবন্ত এই প্রতিযোগিতায় ফিলিপাইনের পাশাপাশি এশিয়ার বৃহত্তম ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীও রয়েছে। প্রতিযোগিতাটি তিন সপ্তাহ ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রতিনিধিরা সারাদেশে ভ্রমণ করে মহড়া এবং ইভেন্টগুলিয় অংশগ্রহণ করেন।

এ আসরে ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রতিযোগিতায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম নারী হন নাদিন আইয়ুব এবং বাদ পড়ার আগে চূড়ান্ত ৩০ সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে জায়গা করে নেন। চূড়ান্ত পর্ব উপস্থাপনা করেন মার্কিন কৌতুক অভিনেতা স্টিভ বাইর্ন এবং এতে পরিবেশনা শুরু হয় থাই সংগীতশিল্পী জেফ সাতুরের মাধ্যমে।