যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেন আফ্রিকার সেরা রেফারি
- আপডেট সময় : ০১:২২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
সোমালিয়ার ইতিহাসের প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দ্বারপ্রান্তে থাকা ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে আসন্ন ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক আসরে তিনি কোনো ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না। মূলত মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, ওমর আরতান “ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না।” বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি পুরো পরিস্থিতির জন্য মার্কিন সরকারকে দায়ী করেছে। ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আয়োজক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বা ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ ফিফাকে জানিয়েছে যে, ওমর আরতানের বর্তমান অবস্থার আপাতত কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
জানা গেছে, বৈধ ভ্রমণ ভিসা থাকা সত্ত্বেও গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরতানকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সোমালিয়া এমন কয়েকটি দেশের একটি, যারা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সোমালিয়া। দেশটির যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা এবং জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সিসে আদেন আবশির বলেন, “ওমর আরতান আফ্রিকার অন্যতম সম্মানিত রেফারি এবং তিনি সমগ্র ফুটবল সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। তাকে নির্ধারিত ম্যাচ পরিচালনা থেকে বিরত রাখা কেবল তার ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং এটি ন্যায্যতা, যোগ্যতা এবং ফেয়ার প্লে-র চেতনার প্রতি ফুটবলের অঙ্গীকারকেও ক্ষুণ্ণ করে।” উল্লেখ্য, সোমালিয়ার রাষ্ট্রপতি হাসান শেখ মাহমুদ এর আগে আরতানকে দেশটির “নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
২০১৮ সাল থেকে ফিফা রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওমর আরতান গত বছর আফ্রিকার সেরা রেফারি হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন এবং ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসেও ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। তিনি বর্তমানে ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন।
তবে এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা কেবল আরতানের ক্ষেত্রেই ঘটেনি। অভিবাসন-বিরোধী নীতির কারণে এর আগে বেশ কয়েকটি দল ও খেলোয়াড়কে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইরানি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরেই ভিসা সমস্যায় ভুগছিলেন, যার ফলে দলটির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয় তারা। অন্যদিকে, ইরাকি স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
পাশাপাশি, গত সপ্তাহে সুইস মিডফিল্ডার ব্রিল এমবোলোর প্রবেশ ভিসাও প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, যদিও পরে সুইস কর্তৃপক্ষ আপিলের মাধ্যমে তা সমাধান করতে সক্ষম হয়। বিশ্বকাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক আসরে আয়োজক দেশের এমন কঠোর অভিবাসন নীতি টুর্নামেন্টের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

























আসছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট