রাষ্ট্র একাত্তরের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা এবং নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ৫৪ বছর পরেও যদি একটি গণঅভ্যুত্থান প্রয়োজন হয়, তার মানে হচ্ছে একাত্তরের যেই স্বপ্ন, বিশ্বাস ও প্রত্যাশা আমাদের ছিল-রাষ্ট্র তা পূরণ করতে পারেনি।
আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যখন থেকে আমরা স্বাধীন হলাম, তখন থেকেই আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার, প্রত্যাশা ছিল একটা শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার। অনেক বছর পর এখন আবার মনে হচ্ছে, ওই জিনিসগুলো আমরা অর্জন করতে পারিনি। পারিনি বলেই তো গণঅভ্যুত্থান হলো, পারিনি বলেই বিপ্লব হলো। আমরা আজ এমন একটা সন্ধিক্ষণে আছি, যেখানে আমরা একটা শাসনব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করবো। সেখানে ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের নির্বাচন আছে। আমরা খুবই আশা করছি, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে সুদৃঢ় একটা যাত্রা শুরু করবো। এজন্য যেখানে কেবল একটা নির্বাচনই হচ্ছে না, একটা গণভোটও হচ্ছে।’
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আশা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন হবে, যা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ নিরাপত্তা প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার সবটুকুই সরকারের রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক প্রস্তুতির চেয়েও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। কারণ প্রতিপক্ষ আগের চেয়ে বেশি সংগঠিত এবং পেছন থেকে আঘাত করছে। এ ধরনের আঘাত মোকাবিলায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকারের প্রচেষ্টা হচ্ছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণ যেন ভোট দিতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত করার জন্য একটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রতিহত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এক-দেড় বছরে সরকারের ব্যর্থ আর সফলতার গল্পটা একটু অন্যভাবে বিচার করতে হবে। আমরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বটা নিয়েছিলাম, তখন একেবারে ভেঙে পড়া অবস্থা থেকে কাজটা শুরু করেছি। সেই ভেঙে পড়া অবস্থাকে জোড়া লাগিয়ে রাষ্ট্রটাকে আবার একটা যাত্রার দিকে নিয়ে যাওয়াই ছিল আমাদের কাজ। আমরা সেই কাজ করেছি। সেখানে আমি এ সরকারকে ব্যর্থ বা সফল কোনোটা বলারই সুযোগ দেখতে পাচ্ছি না। এ সরকার তখনই সফল হবে, যখন দেখা যাবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ সরকারের যাত্রা— একটা সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার করা এবং সংস্কার করা—সেই কাজগুলোতে শেষ পর্যন্ত গিয়ে আমরা সফল হব।’




















