রেকর্ড গড়া জয়ে সুপার এইট শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ক্যারিবিয়দের দানবীয় রূপ দেখার দুর্ভাগ্যই হলো জিম্বাবুয়ের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে খড়-কুটোর মতোই উড়ে গেল গ্রুপপর্বে অপরাজিত থাকা দলটি। রেকর্ড বইয়ে পাতা ওলট-পালট করে রান বন্যা বইয়ে দেওয়ার পর সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়রা পেল বড় জয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০৭ রানের জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়াংখেড়েতে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে তারা। এরপর রান পাহাড়ে চাপা পড়া সিকান্দার রাজার দল ১৭.৪ ওভারে অলআউট হয় ১৪৭ রানে। ম্যাচসেরা হয়েছেন জীবন পেয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের তুলোধুনো করা শিমরন হেটমায়ার। তিনে নেমে বাঁহাতি ব্যাটার করেছেন ৩৪ বলে ৮৫।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের একগাদা রেকর্ড দেখে নেওয়া যাক আগে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের পুঁজি এখন ক্যারিবিয়ানদের, আর নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে উদ্বোধনী আসরে জোহানেসবার্গে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রান করে চূড়ায় আছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২১৮, ঘরের মাঠে ২০২৪ আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে চতুর্থবার দুইশোর বেশি সংগ্রহ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বোচ্চ দক্ষিণ আফ্রিকার, ছয় বারের মতো দুশো উর্ধ্ব রান তুলেছে প্রোটিয়ারা। এতদিন ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ছিল ক্যারিবিয়ানদের।
ক্যারিবিয়ান ব্যাটররা এ দিন ছক্কা মেরেছেন মোট ১৯টি, বিশ্বকাপে এক ইনিংসে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০১৪ আসরে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ ছক্কা মেরেছিল নেদারল্যান্ডসের ব্যাটসম্যানরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯ ছক্কার সাতটি মারেন শিমরন হেটমায়ার। চারও মারেন তিনি সাতটি। ৯ রানে জীবন পেয়ে ৩৪ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড ১৯ বলে ফিফটি করেন তিনি।
আসরে হেটমায়ারের মোট ছক্কা হলো ১৭টি, বিশ্বকাপের এক আসরে যা কোনো ব্যাটারদের যৌথভাবে সর্বোচ্চ। গত আসরে ১৭ ছক্কা মেরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই নিকোলাস পুরান। তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া হেটমায়ারের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে আজ টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সিকান্দার রাজা। লাল মাটির বাউন্সি উইকেটে জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বড় ভুল ছিল তা প্রমাণে বেশি সময় নেননি হেটমায়ার। ১৭ ও ৫৪ রানে ব্রেন্ডন কিং ও শাই হোপ ফিরলেও ক্যারিবিয়ানদের আশাহত হতে দেননি হেটমায়ার ও পাওয়েল।
স্পিনারদের বিপক্ষে ঝড় তুলেছেন হেটমায়ার। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ক্রেমারের বলে দুই ছক্কা মারার পর অষ্টম ওভারে রাজার ওভারে তিন ছক্কা মেরেছেন তিনি। তাঁর করা ১৯ বলে ফিফটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুততম। এর আগের রেকর্ডটিও তাঁরই ছিল। এবারের বিশ্বকাপেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ বলে ফিফটি করে রেকর্ড গড়েছিলেন হেটমায়ার।
এদিন হেটমায়ার ফিরেছেন ব্যাক্তিগত ৮৫ রানে। সাতটি করে চার-ছক্কায় ৩৪ বলে এই স্কোর করেন তিনি। পাঁচ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারের রান ২১৯। স্ট্রাইক রান রেট ১৮৬। দুটি অর্ধশতক রয়েছে হেটমায়ারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়েলের। ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে দুটি করে উইকেন নেন রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজরাবানি। একটি করে উইকেট নেন ইভান্স ও গ্রাহেম ক্রেমার।
প্রায় অসম্ভব রান তাড়া করে জিততে হলে ইতিহাসও গড়তে হতো জিম্বাবুয়ের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩০ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপের ২০২৬ সংস্করণে এই মুম্বাাইতেই দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া লক্ষ্য পেরোয় ইংলিশরা। সেই রান থেকেও ২৫ রান বেশি লাগতো জিম্বাবুয়ের।
তবে ইতিহাস গড়া তো দূরে থাক ২.৪ বলে দলীয় ২০ রানেই তিন উইকেট খুঁইয়ে বসে জিম্বাবুয়ে। রানের চাপে পিষ্ট হয়ে বাকিরাও ছিলেন আসা যাওয়ার মধ্যেই। সর্বোচ্চ ১৫ বলে ২৮ করেন দিয়ন মার্য়াস। ২০ বলে ২৭ করেন অধিনায়ক সিকান্দার।
বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে সফল গুদাকেশ মতি। বাঁহাতি স্পিনার ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন। ২৮ রান দিয়ে তিনটি শিকার আকিল হোসেনের।
বিশাল এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপ ‘ওয়ান’ এ বড় জয়ে নেট রান রেটে ফুলে ফেঁপে উঠল তাদের। এই গ্রুপের আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার নেট রান রেট ৩.৮। আর জিম্বাবুয়েকে বিধ্বস্ত করা ক্যারিয়দের রান রেট এখন ৫.৩৫০ ।
বৃহস্পতিবার সুপার এইটের নিজেদের পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর একই দিন জিম্বাবুয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে।

























