ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতের তীব্রতা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়েছে শীতের দাপট। প্রচণ্ড-কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপমাত্রা থাকে কম। উত্তরের হাওয়ায় থরথর করে কাঁপছে মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বজায় থাকতে পারে।

আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে দেশের সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সকাল ৬টায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। আজ সকাল ৯টায় ডিমলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে রাজধানী ঢাকার আকাশের কোথাও কোথাও আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মেঘের আনাগোনা থাকতে পারে, তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা বেশি। রোববার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার তথ্যানুযায়ী, রোববার সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ, যা কুয়াশার তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

আবহাওয়া অধিদফতর সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েক দিন মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। এর ফলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন এই পরিস্থিতির কারণে শীতের অনুভূতিও বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) : অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) : অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) : অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সিরাজগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সকাল ৬টায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার।

এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।

গত ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৯টা তে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের ৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তার মধ্যেও ছিল সিরাজগঞ্জ জেলা।

তাড়াশ পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, রোববার সকাল ৬টায় ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়। সকাল ৯টায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড।

কৃষক ফিরোজ হাসান বলেন, দিন যত যাচ্ছে, শীত তত বেশি অনুভব হচ্ছে। সকালের কুয়াশায় সামান্য দূরের কিছুও দেখা যায় না। মাঠে কাজ করা আরও কঠিন, তবুও জীবিকার প্রয়োজনে বের হতেই হচ্ছে। আজ বেলা যত বাড়ছে, কুয়াশার প্রভাব সময়ের সাথে সাথে কমে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নেমেছে ১২ ডিগ্রিতে
চুয়াডাঙ্গায় কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত অব্যাহত থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষি, শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যান-চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না।

এ জনপদে দ্রুত কমেছে এ জেলার তাপমাত্রার পারদ। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া হিমেল হাওয়া প্রবাহিত থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ কাজে বের হচ্ছেন না। শীতে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে আজ (রোববার, ২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নীলফামারীতে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি
উত্তরের জেলা নীলফামারীতে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে জেঁকে বসা শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের দাপটে বেশ কাবু হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সেই সঙ্গে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ডিমলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তীব্র শীতের কারণে জেলা উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শীতের কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসময়ে তাদের চলাচলে সচেতন হতে হবে।

ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর বলেন, আজকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আগামী দিনে শীত ও কুয়াশার পরিমাণ বাড়বে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, এবার শীত মোকাবেলায় ছয় উপজেলায় ৩৬ লাখ টাকা ও ৭ হাজার ৫০০ কম্বল বরাদ্দ এসেছে। শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনে আরও শীত বস্ত্রের জন্য আবার আবেদন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শীতের তীব্রতা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

আপডেট সময় : ১২:১৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়েছে শীতের দাপট। প্রচণ্ড-কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপমাত্রা থাকে কম। উত্তরের হাওয়ায় থরথর করে কাঁপছে মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বজায় থাকতে পারে।

আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে দেশের সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সকাল ৬টায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। আজ সকাল ৯টায় ডিমলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে রাজধানী ঢাকার আকাশের কোথাও কোথাও আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মেঘের আনাগোনা থাকতে পারে, তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা বেশি। রোববার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার তথ্যানুযায়ী, রোববার সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ, যা কুয়াশার তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

আবহাওয়া অধিদফতর সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েক দিন মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। এর ফলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন এই পরিস্থিতির কারণে শীতের অনুভূতিও বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) : অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) : অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) : অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সিরাজগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সকাল ৬টায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার।

এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।

গত ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৯টা তে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের ৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তার মধ্যেও ছিল সিরাজগঞ্জ জেলা।

তাড়াশ পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, রোববার সকাল ৬টায় ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়। সকাল ৯টায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড।

কৃষক ফিরোজ হাসান বলেন, দিন যত যাচ্ছে, শীত তত বেশি অনুভব হচ্ছে। সকালের কুয়াশায় সামান্য দূরের কিছুও দেখা যায় না। মাঠে কাজ করা আরও কঠিন, তবুও জীবিকার প্রয়োজনে বের হতেই হচ্ছে। আজ বেলা যত বাড়ছে, কুয়াশার প্রভাব সময়ের সাথে সাথে কমে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নেমেছে ১২ ডিগ্রিতে
চুয়াডাঙ্গায় কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত অব্যাহত থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষি, শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যান-চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না।

এ জনপদে দ্রুত কমেছে এ জেলার তাপমাত্রার পারদ। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া হিমেল হাওয়া প্রবাহিত থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ কাজে বের হচ্ছেন না। শীতে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে আজ (রোববার, ২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নীলফামারীতে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি
উত্তরের জেলা নীলফামারীতে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে জেঁকে বসা শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের দাপটে বেশ কাবু হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সেই সঙ্গে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ডিমলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তীব্র শীতের কারণে জেলা উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শীতের কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসময়ে তাদের চলাচলে সচেতন হতে হবে।

ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর বলেন, আজকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আগামী দিনে শীত ও কুয়াশার পরিমাণ বাড়বে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, এবার শীত মোকাবেলায় ছয় উপজেলায় ৩৬ লাখ টাকা ও ৭ হাজার ৫০০ কম্বল বরাদ্দ এসেছে। শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনে আরও শীত বস্ত্রের জন্য আবার আবেদন করা হবে।