ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবজির দামে নেই শীতের ছোঁয়া,পেঁয়াজে বাড়তি দাম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের আগমনে সাধারণত সবজির দাম কমে আসে, কিন্তু রাজধানীর কাঁচাবাজারে এবার সেই চিরচেনা চিত্রটি উল্টো। বাজারে বেগুন, পেঁপেসহ কয়েকটি সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমে এলেও মৌসুমি সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দামে এখনও লাগেনি শীতের ছোঁয়া; ফলে স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের। পুরোনো পেঁয়াজ এখনও বাড়তি দামে পাওয়া যাচ্ছে, একই অবস্থা চলছে নতুন আলুতেও।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কিছু সবজির দাম কমেছে।

বাজারে মাঝারি বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০ টাকা, বড় বেগুন ১০০ টাকা, ছোট লম্বা বেগুন বাজারভেদে ৬০–৭০ টাকা। চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০–৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, বিচি শিম ১২০ টাকা, লাউ ৭০–৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০–৫০ টাকা। উস্তা (উচ্ছে) ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, ব্রকলি (২৫০ গ্রাম) ৭০ টাকা। নতুন আলু ৪০–৫০ টাকা, পুরোনো আলু বাজারভেদে ২০–২৫ টাকা। মূলা ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি।

কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, গাজর ৮০–১০০ টাকা, পেঁয়াজের ফুলকি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক ১৫ টাকা মুঠা, মূলা শাক ১০ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন পেঁয়াজ উঠলেও দাম কমেনি। পুরোনো পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি। নতুন পেঁয়াজ ১০০–১২০ টাকা। আমদানি করা বড় রসুন ১৭০ টাকা, ছোট রসুন ৮০–৯০ টাকা। সয়াবিন তেল লিটার ২০০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, সবজির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কম, তাই দাম আগের মতোই।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ‘শীত আসার সাথে সবজির চাহিদাও বাড়ছে। তবে সরবরাহ কিছুটা কম। আশা করছি সামনে দাম কমবে।’

বাজারে আসা শিমুল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘শীত চলে এলেও অনেক সবজির দাম এখনো কমেনি। অথচ সব সময় দেখেছি যে শীতে সবজির দাম কম থাকে।’

মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারে আগত ক্রেতা ইসমাইল বলেন, ‘শীত এসেছে, কিন্তু অনেক সবজির দাম কমছে না। ফলে চাইলেও মনমতো বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না।’

ডিম প্রতি হালি ৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা। খাসির মাংস ১২০০ টাকা, বকরির মাংস বাজারভেদে ১,০০০ থেকে ১১০০ টাকা। গরুর মাংস কেজি ৭০০–৭৫০ টাকা।

রাজধানীর বাজারে মাছের দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল। এক কেজি ওজনের রুই ৩২০ টাকা, কাতল ৩২০ টাকা, মৃগেল ৩০০ টাকা। বিভিন্ন ছোট মাছ ২২০–২৫০ টাকা কেজি। চাষের পাঙ্গাস ও সিলভার কার্প এক কেজির নিচে ১৬০–১৮০ টাকা। দেড় কেজির ইলিশ ৩২০০–৩৫০০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২৮০০–৩০০০ টাকা, ৪০০ গ্রাম ১৪০০ টাকা, ৩০০ গ্রাম ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় চিংড়ি ৯০০–১০০০ টাকা, মাঝারি চিংড়ি ৬০০–৭০০ টাকা, বেলে ৮৫০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, শোল ৯০০–১০০০ টাকা, টাকি ৪৫০ টাকা, দেশি কই ১২০০ টাকা। বড় চিতল ১০০০ টাকা কেজি। বড় মাছগুলোর দামে তেমন পরিবর্তন নেই।

নতুন চাল বাজারে আসায় কিছুটা দাম কমেছে। নতুন মোটা চাল ৪৮–৫০ টাকা কেজি। পুরোনো স্বর্ণা ৫৫ টাকা, পাইজাম ৬০ টাকা, বিরি আছড়া ৬৫ টাকা, মিনিকেট ৮০–৮৫ টাকা, কাটারিভোগ ৯০ টাকা।

মসুর ডাল (চিকন) ১৬০ টাকা, মোটা মসুর ৯০ টাকা, মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ১২০ টাকা কেজি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মোজাম্মেল হক। মাছের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম ওঠে-নামে, কমবেশি হয়, তবে মাছের দাম একেবারেই কমে না। কোনো সময় মাছের দাম কমে যেতে দেখলাম না। একই রকম দামে সব সময় মাছ বিক্রি হয়। পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, চাষের কই মাছ ছাড়া অন্য সব ধরনের মাছের দাম অতিরিক্ত বেশি। এত বেশি দাম দিয়ে মাছ কিনে খাওয়া যায় না।

মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে এলে মাছের অতিরিক্ত দামের কারণে ঘুরেফিরে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, চাষের কই, পাবদা মাছ ছাড়া অন্য মাছ তেমন একটা কেনাই হয় না। কারণ অন্য সব ধরনের মাছের দাম অতিরিক্ত বেশি, বছরের সব সময় ধরেই মাছের দাম খুব বেশি থাকে। সাধারণত মাছের দাম কমতে কখনো দেখা যায় না। এত বেশি দামে মাছ কিনে খাওয়া সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য।

মাছের দামের বিষয়ে রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা নাজমুল হক রানা বলেন, বর্তমানে কিছু কিছু মাছের দাম কমলেও, বেশিরভাগ মাছের দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। মূলত মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধি হওয়ার পর থেকে বাজারে মাছের দাম বেড়েছে। এরপর থেকে মাছের দাম সেভাবে আর কমেনি। মূলত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় মাছ আসে, সেই মাছের পরিবহন খরচ, অন্যান্য খরচ সব মিলিয়ে মাছ চাষিরা আড়তে বিক্রি করে যায়। এরপর কয় হাত ঘুরে মাছ সাধারণ ক্রেতাদের কাছে আসে, সবকিছু মিলিয়ে মাছের দাম বাড়তি যায় বাজারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সবজির দামে নেই শীতের ছোঁয়া,পেঁয়াজে বাড়তি দাম

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের আগমনে সাধারণত সবজির দাম কমে আসে, কিন্তু রাজধানীর কাঁচাবাজারে এবার সেই চিরচেনা চিত্রটি উল্টো। বাজারে বেগুন, পেঁপেসহ কয়েকটি সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমে এলেও মৌসুমি সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দামে এখনও লাগেনি শীতের ছোঁয়া; ফলে স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের। পুরোনো পেঁয়াজ এখনও বাড়তি দামে পাওয়া যাচ্ছে, একই অবস্থা চলছে নতুন আলুতেও।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কিছু সবজির দাম কমেছে।

বাজারে মাঝারি বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০ টাকা, বড় বেগুন ১০০ টাকা, ছোট লম্বা বেগুন বাজারভেদে ৬০–৭০ টাকা। চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০–৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, বিচি শিম ১২০ টাকা, লাউ ৭০–৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০–৫০ টাকা। উস্তা (উচ্ছে) ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, ব্রকলি (২৫০ গ্রাম) ৭০ টাকা। নতুন আলু ৪০–৫০ টাকা, পুরোনো আলু বাজারভেদে ২০–২৫ টাকা। মূলা ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি।

কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, গাজর ৮০–১০০ টাকা, পেঁয়াজের ফুলকি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক ১৫ টাকা মুঠা, মূলা শাক ১০ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন পেঁয়াজ উঠলেও দাম কমেনি। পুরোনো পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি। নতুন পেঁয়াজ ১০০–১২০ টাকা। আমদানি করা বড় রসুন ১৭০ টাকা, ছোট রসুন ৮০–৯০ টাকা। সয়াবিন তেল লিটার ২০০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, সবজির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কম, তাই দাম আগের মতোই।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ‘শীত আসার সাথে সবজির চাহিদাও বাড়ছে। তবে সরবরাহ কিছুটা কম। আশা করছি সামনে দাম কমবে।’

বাজারে আসা শিমুল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘শীত চলে এলেও অনেক সবজির দাম এখনো কমেনি। অথচ সব সময় দেখেছি যে শীতে সবজির দাম কম থাকে।’

মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারে আগত ক্রেতা ইসমাইল বলেন, ‘শীত এসেছে, কিন্তু অনেক সবজির দাম কমছে না। ফলে চাইলেও মনমতো বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না।’

ডিম প্রতি হালি ৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা। খাসির মাংস ১২০০ টাকা, বকরির মাংস বাজারভেদে ১,০০০ থেকে ১১০০ টাকা। গরুর মাংস কেজি ৭০০–৭৫০ টাকা।

রাজধানীর বাজারে মাছের দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল। এক কেজি ওজনের রুই ৩২০ টাকা, কাতল ৩২০ টাকা, মৃগেল ৩০০ টাকা। বিভিন্ন ছোট মাছ ২২০–২৫০ টাকা কেজি। চাষের পাঙ্গাস ও সিলভার কার্প এক কেজির নিচে ১৬০–১৮০ টাকা। দেড় কেজির ইলিশ ৩২০০–৩৫০০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২৮০০–৩০০০ টাকা, ৪০০ গ্রাম ১৪০০ টাকা, ৩০০ গ্রাম ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় চিংড়ি ৯০০–১০০০ টাকা, মাঝারি চিংড়ি ৬০০–৭০০ টাকা, বেলে ৮৫০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, শোল ৯০০–১০০০ টাকা, টাকি ৪৫০ টাকা, দেশি কই ১২০০ টাকা। বড় চিতল ১০০০ টাকা কেজি। বড় মাছগুলোর দামে তেমন পরিবর্তন নেই।

নতুন চাল বাজারে আসায় কিছুটা দাম কমেছে। নতুন মোটা চাল ৪৮–৫০ টাকা কেজি। পুরোনো স্বর্ণা ৫৫ টাকা, পাইজাম ৬০ টাকা, বিরি আছড়া ৬৫ টাকা, মিনিকেট ৮০–৮৫ টাকা, কাটারিভোগ ৯০ টাকা।

মসুর ডাল (চিকন) ১৬০ টাকা, মোটা মসুর ৯০ টাকা, মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ১২০ টাকা কেজি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মোজাম্মেল হক। মাছের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম ওঠে-নামে, কমবেশি হয়, তবে মাছের দাম একেবারেই কমে না। কোনো সময় মাছের দাম কমে যেতে দেখলাম না। একই রকম দামে সব সময় মাছ বিক্রি হয়। পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, চাষের কই মাছ ছাড়া অন্য সব ধরনের মাছের দাম অতিরিক্ত বেশি। এত বেশি দাম দিয়ে মাছ কিনে খাওয়া যায় না।

মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে এলে মাছের অতিরিক্ত দামের কারণে ঘুরেফিরে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, চাষের কই, পাবদা মাছ ছাড়া অন্য মাছ তেমন একটা কেনাই হয় না। কারণ অন্য সব ধরনের মাছের দাম অতিরিক্ত বেশি, বছরের সব সময় ধরেই মাছের দাম খুব বেশি থাকে। সাধারণত মাছের দাম কমতে কখনো দেখা যায় না। এত বেশি দামে মাছ কিনে খাওয়া সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য।

মাছের দামের বিষয়ে রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা নাজমুল হক রানা বলেন, বর্তমানে কিছু কিছু মাছের দাম কমলেও, বেশিরভাগ মাছের দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। মূলত মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধি হওয়ার পর থেকে বাজারে মাছের দাম বেড়েছে। এরপর থেকে মাছের দাম সেভাবে আর কমেনি। মূলত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় মাছ আসে, সেই মাছের পরিবহন খরচ, অন্যান্য খরচ সব মিলিয়ে মাছ চাষিরা আড়তে বিক্রি করে যায়। এরপর কয় হাত ঘুরে মাছ সাধারণ ক্রেতাদের কাছে আসে, সবকিছু মিলিয়ে মাছের দাম বাড়তি যায় বাজারে।