স্টেডিয়াম নির্মাণে গাজাকে ৬১২ কোটি টাকা দেবে ফিফা
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময়ের ভয়াবহ যুদ্ধে গাজা উপত্যকা এখন পরিণত হয়েছে এক বিস্তীর্ণ ধ্বংসস্তূপে। শহরটির প্রায় প্রতিটি অংশ ধুলোয় মিশে গেছে। বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের চরম সংকটে বিপর্যস্ত সেখানকার জনজীবন। অনাহার মোকাবিলায় খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কবে বা কীভাবে পুনর্গঠিত হবে, তা নিয়ে যখন গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার জন্য এক বিস্ময়কর ঘোষণা এসেছে। একটি অত্যাধুনিক জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রয়ারি) ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় গাজার পুনর্গঠন সংক্রান্ত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় নয়টি দেশের সরকার গাজার ত্রাণ সহায়তার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি, আরও পাঁচটি দেশ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে সেখানে তাদের সৈন্য মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে। যদিও ব্রিটেনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শীর্ষ মিত্র দেশ এই কার্যক্রমে অংশ নেয়নি।
অনুষ্ঠানে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফুটবলের মাধ্যমে গাজায় নতুন করে আশা জাগানোর রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, কেবল বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল বা রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ করাই যথেষ্ট নয়; মানুষের আবেগ, আশা ও বিশ্বাসকেও নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা মূলত ফুটবলেরই অন্তর্নিহিত শক্তি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফিফা ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬১২ কোটি টাকা) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর পাশাপাশি ১৫ মিলিয়ন ডলারে একটি ফিফা একাডেমি তৈরি করা হবে। এছাড়াও, ৫০টি ‘অ্যারেনা মিনি পিচ’ তৈরির জন্য আড়াই মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি এক মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ আকারের ফুটবল মাঠ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।
বাস্তবতা হলো, গাজার সম্পূর্ণ নিজস্ব কোনো জাতীয় ফুটবল দল নেই। গাজা ও পশ্চিম তীরের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত ফিলিস্তিনি দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৯৮ সাল থেকে তারা ফিফার স্বীকৃতি পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ইনফান্তিনো তার বক্তব্যে ফুটবলকে বিশ্বের সর্বজনীন ভাষা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, এটি আশা, আনন্দ এবং সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এবারের বিশ্বকাপের আগে থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ইনফান্তিনোকে প্রায়শই হোয়াইট হাউসে দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট যখন ভ্রমণে থাকেন, তখনও ট্রাম্পের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গাজা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় ‘বোর্ড অফ পিস’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রার সময়ও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইনফান্তিনোর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বোর্ডের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন যে, উপস্থিত প্রায় সবাই কোনো না কোনো দেশের প্রধান, আর ইনফান্তিনো হলেন ফুটবলের প্রধান। ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প রসিকতা করে আরও বলেন যে, সম্ভবত তার চাকরিটাই ট্রাম্পের সবচেয়ে বেশি পছন্দের।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ


























