ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের ব্যস্ততম রাস্তায় বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের কোয়েট্টার ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) সদর দপ্তরের কাছে একটি ব্যস্ততম রাস্তায় বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

বিস্ফোরণের পর হতাহতদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেলুচিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত মুহাম্মদ কাকর। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিভিল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।”

সিভিল লাইন্স থানার অফিসার ইনচার্জ (এসএইচও) আমিন জাফর জানিয়েছেন, “বিস্ফোরণের পর সিভিল হাসপাতালে ৮টি মরদেহ আনা হয়েছে।”

কোয়েট্টার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) স্পেশাল অপারেশনস মুহাম্মদ বালোচ বলেন, “একটি বিস্ফোরক ভর্তি যানবাহন মডেল টাউন থেকে হালি রোডের দিকে মোড় নিলে বিস্ফোরণটি ঘটে, যা এফসি সদর দপ্তরের কাছাকাছি।”

টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, শক্তিশালী বিস্ফোরণটি রাস্তাটিকে কাঁপিয়ে দেয়।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মির সরফরাজ বুগতি ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে কড়া নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, “ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং চারজন সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে।” বেলুচিস্তান সরকারের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে এ কথা বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা জাতির মনোবল দুর্বল করতে পারবে না। জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। আমরা বেলুচিস্তানকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করে গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শহীদদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি, এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

পরবর্তীতে কোয়েট্টায় এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে চারজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং অভিযান এখনো চলছে।”

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই হামলার জন্য ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীরাই দায়ী।”

রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি কোয়েট্টায় ফিতনা-আল-খারিজের পরিচালিত আত্মঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই বিপথগামী চরমপন্থীরা ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।”

ফিতনা-আল-খারিজ—এই শব্দটি রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “যারা ফিতনা-আল-খারিজ ও ভারতের স্বার্থ রক্ষা করছে, তারা পাকিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করতে পারবে না। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োচিত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেন, যা সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি আহত এফসি সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং দেশের নিরাপত্তারক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতা ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন।

ছয়জন আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক, হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

বিস্ফোরণের পর বেলুচিস্তানের স্বাস্থ্য বিভাগ রাজধানীর সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলে জানান স্বাস্থ্য সচিব মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, “কোয়েট্টা সিভিল হাসপাতাল, বেলুচিস্তান মেডিকেল কলেজ (বিএমসি) হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “সকল কনসালটেন্ট, ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, নার্স এবং প্যারামেডিক স্টাফকে হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

পরে সিভিল হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাকর বলেন, “ছয়জন আহতের অবস্থা গুরুতর।”

তিনি বলেন, “এটি একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ছিল। আমি এফসি সদর দপ্তরের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “আহতদের অধিকাংশই সাধারণ বেসামরিক মানুষ।”

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তানের ব্যস্ততম রাস্তায় বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১০

আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানের কোয়েট্টার ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) সদর দপ্তরের কাছে একটি ব্যস্ততম রাস্তায় বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

বিস্ফোরণের পর হতাহতদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেলুচিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত মুহাম্মদ কাকর। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিভিল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।”

সিভিল লাইন্স থানার অফিসার ইনচার্জ (এসএইচও) আমিন জাফর জানিয়েছেন, “বিস্ফোরণের পর সিভিল হাসপাতালে ৮টি মরদেহ আনা হয়েছে।”

কোয়েট্টার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) স্পেশাল অপারেশনস মুহাম্মদ বালোচ বলেন, “একটি বিস্ফোরক ভর্তি যানবাহন মডেল টাউন থেকে হালি রোডের দিকে মোড় নিলে বিস্ফোরণটি ঘটে, যা এফসি সদর দপ্তরের কাছাকাছি।”

টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, শক্তিশালী বিস্ফোরণটি রাস্তাটিকে কাঁপিয়ে দেয়।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মির সরফরাজ বুগতি ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে কড়া নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, “ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং চারজন সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে।” বেলুচিস্তান সরকারের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে এ কথা বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা জাতির মনোবল দুর্বল করতে পারবে না। জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। আমরা বেলুচিস্তানকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করে গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শহীদদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি, এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

পরবর্তীতে কোয়েট্টায় এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে চারজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং অভিযান এখনো চলছে।”

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই হামলার জন্য ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীরাই দায়ী।”

রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি কোয়েট্টায় ফিতনা-আল-খারিজের পরিচালিত আত্মঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই বিপথগামী চরমপন্থীরা ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।”

ফিতনা-আল-খারিজ—এই শব্দটি রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “যারা ফিতনা-আল-খারিজ ও ভারতের স্বার্থ রক্ষা করছে, তারা পাকিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করতে পারবে না। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োচিত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেন, যা সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি আহত এফসি সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং দেশের নিরাপত্তারক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতা ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন।

ছয়জন আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক, হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

বিস্ফোরণের পর বেলুচিস্তানের স্বাস্থ্য বিভাগ রাজধানীর সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলে জানান স্বাস্থ্য সচিব মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, “কোয়েট্টা সিভিল হাসপাতাল, বেলুচিস্তান মেডিকেল কলেজ (বিএমসি) হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “সকল কনসালটেন্ট, ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, নার্স এবং প্যারামেডিক স্টাফকে হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

পরে সিভিল হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাকর বলেন, “ছয়জন আহতের অবস্থা গুরুতর।”

তিনি বলেন, “এটি একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ছিল। আমি এফসি সদর দপ্তরের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “আহতদের অধিকাংশই সাধারণ বেসামরিক মানুষ।”