ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক বিভাজন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজনীতির ময়দানে ঐক্য যেন মরীচিকার মতো। আলোচনার টেবিল ছেড়ে বিতর্কেই সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলগুলো। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আর গণভোটের সময় নিয়ে ঐকমত্যে সুর মিলবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত।

মাঠে-ময়দানে, সেমিনারে চলছে কথার লড়াই, পাল্টাপাল্টি মন্তব্য। নতুন নতুন শব্দ যুক্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অভিধানে। নিজেদের অনড় অবস্থানের পক্ষে এভাবেই সওয়াল করছেন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

পিআর বাস্তবায়ন কিভাবে হবে? গণভোটের দিনক্ষণই বা কবে? এসব প্রশ্নে আলোচনা ছেড়ে রাজপথে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান জামায়াতের, আর ঠিক উল্টো অবস্থানে বিএনপি। যেন এক বিন্দুতে পৌঁছানো পাহাড় ডিঙানোর মতোই কঠিন কাজ।

রাজনৈতিক দলগুলোর রোজকার কথায় স্পষ্ট হচ্ছে অনৈক্যর সুর। এমন বাস্তবতায় শুরু হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ডামাডোল। তবে কি নির্বাচনি রেলে চেপে গন্তব্যে পৌঁছানোর সংকল্পে ঐক্যের সুর বাজবে না?

এমন প্রশ্নে বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের চেয়ে জনগণের চাওয়াকেই এগিয়ে রাখতে হবে রাজনীতিবিদদের। পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের শব্দচয়নে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ তাদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ রাষ্ট্র যে নাগরিকের সেই অনুধাবন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে খুব কমই আছে। সিনিয়রদের উচিত হলো সবসময় সংযত হয়ে কথা বলা।’

একদিকে নির্বাচনি প্রস্তুতি অন্যদিকে সংস্কার। রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থান ভোটের ময়দানকে করে তুলেছে অস্থির। সংকট সমাধানে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বড় দলগুলোকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান বিশ্লেষকদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘এটি এমন কোনো সমস্যা নয় যে বিএনপি, জামাত ইসলামী একত্রে বসলে সমস্যার সমাধান হবে না। তবে জিদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ময়দানে জেদা-জেদি সর্বনাশের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।’

এরইমধ্যে আলোচনার টেবিলে বসতে জামায়াতের আহ্বান নাকচ করেছে বিএনপি। তবে রাজপথের দখল নিতেও মরিয়া উভয় দল। যা উত্তপ্ত সময়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশষেজ্ঞরা বলছেন, জনগণের স্বার্থে বদলাতে হবে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

ড. আব্দুল লতিফ মাসুম আরও বলেন, ‘জনগণের রাজনীতির যে প্রবণতা সেটি এ মনস্তত্ব বা আমাদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এটি আগে মনে রাখলে আমাদের আর ঝামেলা হবে না।’

কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের একটি লক্ষকে সামনে রেখেই যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রকে নয়।’

ক্ষমতার লোভ-লালসা আর দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের সুরে সুর মেলাবেন রাজনীতিবিদরা। নানা পথ, নানা মত মিলবে একই মোহনায়-প্রত্যাশা দেশবাসীর।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক বিভাজন

আপডেট সময় : ০২:০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

রাজনীতির ময়দানে ঐক্য যেন মরীচিকার মতো। আলোচনার টেবিল ছেড়ে বিতর্কেই সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলগুলো। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আর গণভোটের সময় নিয়ে ঐকমত্যে সুর মিলবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত।

মাঠে-ময়দানে, সেমিনারে চলছে কথার লড়াই, পাল্টাপাল্টি মন্তব্য। নতুন নতুন শব্দ যুক্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অভিধানে। নিজেদের অনড় অবস্থানের পক্ষে এভাবেই সওয়াল করছেন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

পিআর বাস্তবায়ন কিভাবে হবে? গণভোটের দিনক্ষণই বা কবে? এসব প্রশ্নে আলোচনা ছেড়ে রাজপথে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান জামায়াতের, আর ঠিক উল্টো অবস্থানে বিএনপি। যেন এক বিন্দুতে পৌঁছানো পাহাড় ডিঙানোর মতোই কঠিন কাজ।

রাজনৈতিক দলগুলোর রোজকার কথায় স্পষ্ট হচ্ছে অনৈক্যর সুর। এমন বাস্তবতায় শুরু হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ডামাডোল। তবে কি নির্বাচনি রেলে চেপে গন্তব্যে পৌঁছানোর সংকল্পে ঐক্যের সুর বাজবে না?

এমন প্রশ্নে বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের চেয়ে জনগণের চাওয়াকেই এগিয়ে রাখতে হবে রাজনীতিবিদদের। পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের শব্দচয়নে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ তাদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ রাষ্ট্র যে নাগরিকের সেই অনুধাবন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে খুব কমই আছে। সিনিয়রদের উচিত হলো সবসময় সংযত হয়ে কথা বলা।’

একদিকে নির্বাচনি প্রস্তুতি অন্যদিকে সংস্কার। রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থান ভোটের ময়দানকে করে তুলেছে অস্থির। সংকট সমাধানে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বড় দলগুলোকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান বিশ্লেষকদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘এটি এমন কোনো সমস্যা নয় যে বিএনপি, জামাত ইসলামী একত্রে বসলে সমস্যার সমাধান হবে না। তবে জিদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ময়দানে জেদা-জেদি সর্বনাশের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।’

এরইমধ্যে আলোচনার টেবিলে বসতে জামায়াতের আহ্বান নাকচ করেছে বিএনপি। তবে রাজপথের দখল নিতেও মরিয়া উভয় দল। যা উত্তপ্ত সময়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশষেজ্ঞরা বলছেন, জনগণের স্বার্থে বদলাতে হবে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

ড. আব্দুল লতিফ মাসুম আরও বলেন, ‘জনগণের রাজনীতির যে প্রবণতা সেটি এ মনস্তত্ব বা আমাদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এটি আগে মনে রাখলে আমাদের আর ঝামেলা হবে না।’

কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের একটি লক্ষকে সামনে রেখেই যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রকে নয়।’

ক্ষমতার লোভ-লালসা আর দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের সুরে সুর মেলাবেন রাজনীতিবিদরা। নানা পথ, নানা মত মিলবে একই মোহনায়-প্রত্যাশা দেশবাসীর।