ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্মেন্দ্র প্রয়াত, পরিবারের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা, সকলের প্রিয় ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আর নেই। ২৪ নভেম্বর, সোমবার ৮৯ বছর বয়সে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা গুরুতরভাবে বাড়ছিল; এ কারণে চলতি মাসের শুরুতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। তবে পরিবারের তরফে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি।

তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ঢেউ। ভক্ত, সহকর্মী, বলিউডের তারকারা সকলেই বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ। ভারতীয় সিনেমার আকাশ থেকে যেন ঝরে পড়ল এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।

এদিন সকালেই মুম্বাইয়ে ধর্মেন্দ্রর জুহুর বাসভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বাড়ির ৫০ মিটারের মধ্যে ব্যারিকেড বসিয়ে সাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) টুইট করে জানায়, প্রবীণ অভিনেতার বাড়িতে তারকারা আসতে শুরু করেছেন। সালমান খান, শাহরুখ খানসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত হন।

সে থেকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রবীণ এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এ খবর ছড়িয়ে পড়লেও পারিবারিকভাবে কোনো ঘোষণা না আসায় ধোঁয়াশা কাটছিল না।

সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে মুম্বাইয়ের ভিলে পার্লে শ্মশান ঘিরে। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের দাবি, সেখানে হেমা মালিনী, সানি দেওল, ববি দেওলসহ পুরো পরিবারকে দেখা গেছে। এমনকি অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনও সেখানে উপস্থিত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। কিন্তু পরিবারের সবাই শ্মশানে, অথচ মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই; এ নিয়ে এক পর্যায়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।

তবে বলে রাখা ভালো, এখনও ধর্মেন্দ্রর পরিবার থেকে তার মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে আনেনি। যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, কয়দিন আগে মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর ছড়ানোয় এবারে কিংবদন্তির প্রয়াণ নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখছে দেওল পরিবার।

এদিকে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন বলিউড পরিচালক করণ জোহর। লিখেছেন, ‘একটি যুগের অবসান। একজন তাবড় মেগাস্টার। মূলধারার সিনেমায় একজন নায়কের মূর্ত প্রতীক। অসাধরণ সুদর্শন, এবং পর্দায় তার কালজয়ী উপস্থিতি। তিনি ভারতীয় সিনেমার একজন প্রকৃত কিংবদন্তি ছিলেন এবং থাকবেন।’

ছয় দশকের কেরিয়ারে রোমান্টিক নায়ক, অ্যাকশন হিরো থেকে কমেডি কিং… সবেতেই ছিলেন তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৬০ সালে অভিষেক। তারপর থেকেই একের পর এক চরিত্রে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রমাণ করেছেন ধমরেন্দ্র সিং দেওল। কখনও রোমান্টিক নায়ক, কখনও কঠিন-মজ্জার অ্যাকশন হিরো, আবার কখনও নিখাদ কমেডির মাস্টার – তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অভিনেতার সংজ্ঞা।

তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩০০-রও বেশি ছবি, যার বহু ছবিই আজ ভারতীয় সেরা ছবির ইতিহাসের তালিকায়। ধর্মেন্দ্রর অভিনয়-ঐতিহ্য বলতে গেলে প্রথমেই আসে ‘শোলে’র ‘বীরু’। তবে এটুকুই নয়, ‘ফুল ঔর পাথর’, ‘সীতা ঔর গীতা’, ‘ধর্মবীর’, ‘প্রতিজ্ঞা’- প্রতিটি ছবির চরিত্রেই তিনি রেখেছেন এক অনন্য ছাপ। তাঁর সহজাত আকর্ষণ, হাসি, ডায়ালগ ডেলিভারি আর অদ্ভুত স্বাভাবিক স্ক্রিন প্রেজেন্স তাঁকে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষর হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে।

১৯৯৭ সালে তিনি পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে সম্মানিত করে পদ্মভূষণ, ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানে। নিজের অভিনীত শেষ কয়েকটি ছবিতেও দারুণ উজ্জ্বল উপস্থিতি রেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র।

সাম্প্রতিক বছরেও নিয়মিত পর্দায় ছিলেন ধর্মেন্দ্র –

‘তেরি বাতোঁ মে আইসা উলঝা জিয়া’ (২০২৪)-এ শহিদ কপুরের দাদুর ভূমিকায়।

‘রকি ঔর রানি কি প্রেম কহানি’-তে তাঁর পারফরম্যান্সও দর্শক ও সমালোচকদের থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

তাঁর অভিনীত শেষ ছবি হতে চলেছে ‘ইক্কিস’, যেখানে তিনি অভিনয় করেছেন অগস্ত্য নন্দার দাদুর চরিত্রে।

পরিবারে রেখে গেলেন স্ত্রী, সন্তান, এক অমূল্য উত্তরাধিকার

ধর্মেন্দ্র রেখে গেলেন স্ত্রী হেমা মালিনী, প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর, এবং সন্তান— অভিনেতা সানি দেওল, ববি দেওল, কন্যা ইশা দেওল, আহনা দেওলকে।

তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করার ক্ষমতা কারও নেই। তবে তাঁর অভিনয়, তাঁর সিনেমা, তাঁর ব্যক্তিত্ব— আগামী প্রজন্মের অভিনেতাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে, এবং ভারতীয় দর্শকের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে তাঁর অমর স্মৃতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধর্মেন্দ্র প্রয়াত, পরিবারের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা, সকলের প্রিয় ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আর নেই। ২৪ নভেম্বর, সোমবার ৮৯ বছর বয়সে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা গুরুতরভাবে বাড়ছিল; এ কারণে চলতি মাসের শুরুতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। তবে পরিবারের তরফে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি।

তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ঢেউ। ভক্ত, সহকর্মী, বলিউডের তারকারা সকলেই বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ। ভারতীয় সিনেমার আকাশ থেকে যেন ঝরে পড়ল এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।

এদিন সকালেই মুম্বাইয়ে ধর্মেন্দ্রর জুহুর বাসভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বাড়ির ৫০ মিটারের মধ্যে ব্যারিকেড বসিয়ে সাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) টুইট করে জানায়, প্রবীণ অভিনেতার বাড়িতে তারকারা আসতে শুরু করেছেন। সালমান খান, শাহরুখ খানসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত হন।

সে থেকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রবীণ এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এ খবর ছড়িয়ে পড়লেও পারিবারিকভাবে কোনো ঘোষণা না আসায় ধোঁয়াশা কাটছিল না।

সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে মুম্বাইয়ের ভিলে পার্লে শ্মশান ঘিরে। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের দাবি, সেখানে হেমা মালিনী, সানি দেওল, ববি দেওলসহ পুরো পরিবারকে দেখা গেছে। এমনকি অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনও সেখানে উপস্থিত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। কিন্তু পরিবারের সবাই শ্মশানে, অথচ মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই; এ নিয়ে এক পর্যায়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।

তবে বলে রাখা ভালো, এখনও ধর্মেন্দ্রর পরিবার থেকে তার মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে আনেনি। যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, কয়দিন আগে মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর ছড়ানোয় এবারে কিংবদন্তির প্রয়াণ নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখছে দেওল পরিবার।

এদিকে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন বলিউড পরিচালক করণ জোহর। লিখেছেন, ‘একটি যুগের অবসান। একজন তাবড় মেগাস্টার। মূলধারার সিনেমায় একজন নায়কের মূর্ত প্রতীক। অসাধরণ সুদর্শন, এবং পর্দায় তার কালজয়ী উপস্থিতি। তিনি ভারতীয় সিনেমার একজন প্রকৃত কিংবদন্তি ছিলেন এবং থাকবেন।’

ছয় দশকের কেরিয়ারে রোমান্টিক নায়ক, অ্যাকশন হিরো থেকে কমেডি কিং… সবেতেই ছিলেন তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৬০ সালে অভিষেক। তারপর থেকেই একের পর এক চরিত্রে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রমাণ করেছেন ধমরেন্দ্র সিং দেওল। কখনও রোমান্টিক নায়ক, কখনও কঠিন-মজ্জার অ্যাকশন হিরো, আবার কখনও নিখাদ কমেডির মাস্টার – তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অভিনেতার সংজ্ঞা।

তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩০০-রও বেশি ছবি, যার বহু ছবিই আজ ভারতীয় সেরা ছবির ইতিহাসের তালিকায়। ধর্মেন্দ্রর অভিনয়-ঐতিহ্য বলতে গেলে প্রথমেই আসে ‘শোলে’র ‘বীরু’। তবে এটুকুই নয়, ‘ফুল ঔর পাথর’, ‘সীতা ঔর গীতা’, ‘ধর্মবীর’, ‘প্রতিজ্ঞা’- প্রতিটি ছবির চরিত্রেই তিনি রেখেছেন এক অনন্য ছাপ। তাঁর সহজাত আকর্ষণ, হাসি, ডায়ালগ ডেলিভারি আর অদ্ভুত স্বাভাবিক স্ক্রিন প্রেজেন্স তাঁকে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষর হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে।

১৯৯৭ সালে তিনি পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে সম্মানিত করে পদ্মভূষণ, ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানে। নিজের অভিনীত শেষ কয়েকটি ছবিতেও দারুণ উজ্জ্বল উপস্থিতি রেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র।

সাম্প্রতিক বছরেও নিয়মিত পর্দায় ছিলেন ধর্মেন্দ্র –

‘তেরি বাতোঁ মে আইসা উলঝা জিয়া’ (২০২৪)-এ শহিদ কপুরের দাদুর ভূমিকায়।

‘রকি ঔর রানি কি প্রেম কহানি’-তে তাঁর পারফরম্যান্সও দর্শক ও সমালোচকদের থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

তাঁর অভিনীত শেষ ছবি হতে চলেছে ‘ইক্কিস’, যেখানে তিনি অভিনয় করেছেন অগস্ত্য নন্দার দাদুর চরিত্রে।

পরিবারে রেখে গেলেন স্ত্রী, সন্তান, এক অমূল্য উত্তরাধিকার

ধর্মেন্দ্র রেখে গেলেন স্ত্রী হেমা মালিনী, প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর, এবং সন্তান— অভিনেতা সানি দেওল, ববি দেওল, কন্যা ইশা দেওল, আহনা দেওলকে।

তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করার ক্ষমতা কারও নেই। তবে তাঁর অভিনয়, তাঁর সিনেমা, তাঁর ব্যক্তিত্ব— আগামী প্রজন্মের অভিনেতাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে, এবং ভারতীয় দর্শকের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে তাঁর অমর স্মৃতি।