ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিজয় দিবসে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফটক। প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতির পর রেওয়াজ অনুযায়ী গেলো চার দিন সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ ছিল স্মৃতিসৌধ এলাকায়। আজ (মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা জানানোর পর এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

এর আগে, বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ভোর থেকেই আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। এদিন ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে দেশের জন্য আত্মদানকারী বীর শহীদদের।

স্মৃতিসৌধের সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক জুড়ে দেখা যায় রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সাধারণ জনতার ঢল। কেউ কেউ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেছেন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

এদিকে বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিয়মিত পোশাকের বাইরে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করছে। তারা হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আসছেন শহীদ বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে।

হাজারও মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উল্লাস, তবে তারা ৩০ লাখ শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভুলেননি। অনেকেই দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাচ্ছিলেন, হাতে নানা রঙের ফুল নিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান জানাচ্ছিলেন। কেউ কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর নীরবতা পালন করেছেন।

সাভারের সিআরপি এলাকা থেকে কন্যা নিয়ে আসা ছাবিহা জান্নাত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের কারণে দেশ পেয়েছি। এই দিনে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা উপলব্ধি করে শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।’

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তামজিদ আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আজ নানা হুমকির মুখে। স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন চলছে। তাই শহিদদের প্রতি আরও বেশি আবেগ অনুভব করছি। এজন্য বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি শ্রদ্ধা জানাতে।’

এর আগে, সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয় এবং বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ ত্যাগের পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেয়া হয়। এরপর থেকেই সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মঙ্গলবার ঢাকা পুরাতন বিমান বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ০৬টি গান দ্বারা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ১১:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বিজয় দিবসে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফটক। প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতির পর রেওয়াজ অনুযায়ী গেলো চার দিন সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ ছিল স্মৃতিসৌধ এলাকায়। আজ (মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা জানানোর পর এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

এর আগে, বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ভোর থেকেই আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। এদিন ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে দেশের জন্য আত্মদানকারী বীর শহীদদের।

স্মৃতিসৌধের সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক জুড়ে দেখা যায় রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সাধারণ জনতার ঢল। কেউ কেউ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেছেন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

এদিকে বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিয়মিত পোশাকের বাইরে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করছে। তারা হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আসছেন শহীদ বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে।

হাজারও মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উল্লাস, তবে তারা ৩০ লাখ শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভুলেননি। অনেকেই দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাচ্ছিলেন, হাতে নানা রঙের ফুল নিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান জানাচ্ছিলেন। কেউ কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর নীরবতা পালন করেছেন।

সাভারের সিআরপি এলাকা থেকে কন্যা নিয়ে আসা ছাবিহা জান্নাত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের কারণে দেশ পেয়েছি। এই দিনে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা উপলব্ধি করে শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।’

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তামজিদ আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আজ নানা হুমকির মুখে। স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন চলছে। তাই শহিদদের প্রতি আরও বেশি আবেগ অনুভব করছি। এজন্য বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি শ্রদ্ধা জানাতে।’

এর আগে, সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয় এবং বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ ত্যাগের পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেয়া হয়। এরপর থেকেই সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মঙ্গলবার ঢাকা পুরাতন বিমান বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ০৬টি গান দ্বারা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।