ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয়ের নায়ক সাফোনভ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিফার বর্ষসেরা গোলকিপারকে ছাড়াই শিরোপার লড়াইয়ে নামে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। জিয়ানলুইজি দোন্নরুম্মাকে বিশ্রামে রেখে মাতভেই সাফোনভকে গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব দেন কোচ লুইস এনরিকে। আর সেই দায়িত্ব কি দারুণভাবেই না পালন করলেন রুশ এই গোলকিপার। একটি কিংবা দু’টি নয়, গুনে গুনে চারবার প্রতিপক্ষের শট ঠেকিয়ে দিয়ে পিএসজির শিরোপা জয়ের নায়ক বনে গেলেন সাফোনভ।

ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতল পিএসজি। কাতারের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে ফাইনালে ব্রাজিলের ক্লাবটির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ফরাসি ক্লাব।

২০২৫ সালে এ নিয়ে ছয়টি ট্রফি জিতে পিএসজি নাম লিখল এক এলিট ক্লাবে। এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলে কেবল বায়ার্ন মিউনিখ আর বার্সেলোনাই এক বছরে হাফ-ডজন শিরোপা জয়ের অমৃত স্বাদ পেয়েছে। লিগ আঁ, কোপ দ্য ফ্রান্স ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর লুইস এনরিকের দল ট্রফে দে চ্যাম্পিয়নস, উয়েফা সুপার কাপ এবং সবশেষ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতে স্বপ্নের এক বছর শেষ করল। ষষ্ঠ ট্রফি জয়ের পর পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে ক্লাবের জন্য ২০২৫ সালকে ‘অবিস্মরণীয় বছর’ বলে আখ্যা দেন।

ইন্টারকন্টিন্টাল কাপের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে পিএসজিকে এগিয়ে দেন খাভিচা কাভারস্কেলিয়া। এরপর পেনাল্টি থেকে জর্জিনিওর গোলে ফ্লামেঙ্গো সমতায় ফিরে ৬২ মিনিটে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দল জয়সূচক গোল না পেলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই জাদু দেখান সাফোনভ। তাঁর অবিশ্বাস্য গোলকিপিংয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারায় পিএসজি।

পেনাল্টি শুট আউটের রোমাঞ্চ নিজেদের প্রথম শটে দুই দলই জালে বল জড়ায়। এরপর ফ্লামেঙ্গোর আর কোনো খেলোয়াড়ই সাফোনভ নামক বাঁজপাখিকে পরাস্ত করতে পারেননি। সাউল নিগেসের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন সাফানভ।

পিএসজি এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি ওসমান দেম্বেলের উড়িয়ে মারা শটের কারণে। ফ্ল্যামেঙ্গোর দ্বিতীয় শুটার পেদ্রোর প্রচেষ্টাও সাফানভ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন। এরপর নুনো মেন্দেস সফল হলে ২-১ এ এগিয়ে যায়।

পিএসজির তৃতীয় শট নেওয়া ব্র্যাডলি বার্কোলার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে লড়াই আবার জমিয়ে তুলেন ফ্ল্যামেঙ্গোর গোলকিপার। তবে, পিএসজির আস্থার প্রতীক হয়ে যাওয়া বিকল্প গোলকিপার আবারও এগিয়ে এলেন। লিও পেরেইরার সোজাসুজি শট রুখে দেওয়ার পর, সাফানভ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে লুইস আরাউহোর শট ঠেকিয়ে দিতেই শিরোপা জয়ের বাঁধনহারা উচ্ছাসে মাতে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।

এর আগে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে পিএসজি। ম্যাচর ৯ মিনিটে ফাঁকা পোস্ট পেয়ে দূরপাল্লার শটে বল জালেও পাঠান ফাবিয়ান রুইস। তবে এর আগেই বল বাইলাইন পার হয়ে যাওয়ায় ভিএআরের সাহায্যে কর্নার দেন রেফারি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান ১-০ করে পিএসজি। ডান দিক থেকে দেসিরে দুয়ের শট ফ্লামেঙ্গোর গোলকিপার ঝাঁপিয়ে আটকালেও বক্সে বল পেয়ে যান কাভারস্কেলিয়া। সহজ শটেই দলকে এগিয়ে নেন জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড।

৫৯ মিনিটে ডি-বক্সে দে আরাসকায়েতাকে পিএসজি ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্ল্যামেঙ্গো। ভিএআর দেখে পরে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে সমতা টানেন ইতালিয়ান ডিফেন্সিভ-মিডফিল্ডার জর্জিনিয়ো। এরপর কোনো দল আর গোল না পাওয়ায় ম্যাচের বাকি অংশের নায়ক বনে যান পিএসজির গোলকিপার সাফোনভ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয়ের নায়ক সাফোনভ

আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ফিফার বর্ষসেরা গোলকিপারকে ছাড়াই শিরোপার লড়াইয়ে নামে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। জিয়ানলুইজি দোন্নরুম্মাকে বিশ্রামে রেখে মাতভেই সাফোনভকে গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব দেন কোচ লুইস এনরিকে। আর সেই দায়িত্ব কি দারুণভাবেই না পালন করলেন রুশ এই গোলকিপার। একটি কিংবা দু’টি নয়, গুনে গুনে চারবার প্রতিপক্ষের শট ঠেকিয়ে দিয়ে পিএসজির শিরোপা জয়ের নায়ক বনে গেলেন সাফোনভ।

ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতল পিএসজি। কাতারের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে ফাইনালে ব্রাজিলের ক্লাবটির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ফরাসি ক্লাব।

২০২৫ সালে এ নিয়ে ছয়টি ট্রফি জিতে পিএসজি নাম লিখল এক এলিট ক্লাবে। এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলে কেবল বায়ার্ন মিউনিখ আর বার্সেলোনাই এক বছরে হাফ-ডজন শিরোপা জয়ের অমৃত স্বাদ পেয়েছে। লিগ আঁ, কোপ দ্য ফ্রান্স ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর লুইস এনরিকের দল ট্রফে দে চ্যাম্পিয়নস, উয়েফা সুপার কাপ এবং সবশেষ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতে স্বপ্নের এক বছর শেষ করল। ষষ্ঠ ট্রফি জয়ের পর পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে ক্লাবের জন্য ২০২৫ সালকে ‘অবিস্মরণীয় বছর’ বলে আখ্যা দেন।

ইন্টারকন্টিন্টাল কাপের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে পিএসজিকে এগিয়ে দেন খাভিচা কাভারস্কেলিয়া। এরপর পেনাল্টি থেকে জর্জিনিওর গোলে ফ্লামেঙ্গো সমতায় ফিরে ৬২ মিনিটে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দল জয়সূচক গোল না পেলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই জাদু দেখান সাফোনভ। তাঁর অবিশ্বাস্য গোলকিপিংয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারায় পিএসজি।

পেনাল্টি শুট আউটের রোমাঞ্চ নিজেদের প্রথম শটে দুই দলই জালে বল জড়ায়। এরপর ফ্লামেঙ্গোর আর কোনো খেলোয়াড়ই সাফোনভ নামক বাঁজপাখিকে পরাস্ত করতে পারেননি। সাউল নিগেসের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন সাফানভ।

পিএসজি এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি ওসমান দেম্বেলের উড়িয়ে মারা শটের কারণে। ফ্ল্যামেঙ্গোর দ্বিতীয় শুটার পেদ্রোর প্রচেষ্টাও সাফানভ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন। এরপর নুনো মেন্দেস সফল হলে ২-১ এ এগিয়ে যায়।

পিএসজির তৃতীয় শট নেওয়া ব্র্যাডলি বার্কোলার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে লড়াই আবার জমিয়ে তুলেন ফ্ল্যামেঙ্গোর গোলকিপার। তবে, পিএসজির আস্থার প্রতীক হয়ে যাওয়া বিকল্প গোলকিপার আবারও এগিয়ে এলেন। লিও পেরেইরার সোজাসুজি শট রুখে দেওয়ার পর, সাফানভ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে লুইস আরাউহোর শট ঠেকিয়ে দিতেই শিরোপা জয়ের বাঁধনহারা উচ্ছাসে মাতে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।

এর আগে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে পিএসজি। ম্যাচর ৯ মিনিটে ফাঁকা পোস্ট পেয়ে দূরপাল্লার শটে বল জালেও পাঠান ফাবিয়ান রুইস। তবে এর আগেই বল বাইলাইন পার হয়ে যাওয়ায় ভিএআরের সাহায্যে কর্নার দেন রেফারি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান ১-০ করে পিএসজি। ডান দিক থেকে দেসিরে দুয়ের শট ফ্লামেঙ্গোর গোলকিপার ঝাঁপিয়ে আটকালেও বক্সে বল পেয়ে যান কাভারস্কেলিয়া। সহজ শটেই দলকে এগিয়ে নেন জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড।

৫৯ মিনিটে ডি-বক্সে দে আরাসকায়েতাকে পিএসজি ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্ল্যামেঙ্গো। ভিএআর দেখে পরে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে সমতা টানেন ইতালিয়ান ডিফেন্সিভ-মিডফিল্ডার জর্জিনিয়ো। এরপর কোনো দল আর গোল না পাওয়ায় ম্যাচের বাকি অংশের নায়ক বনে যান পিএসজির গোলকিপার সাফোনভ।