ঘন কুয়াশা বাড়ছে, নৌযানসমূহকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৫ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার দাপট থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হতে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একইসঙ্গে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং শীতের অনুভূতিও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত পরবর্তী পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ২০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে। এসব এলাকার নৌ-যানসমূহকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, তবে কোনো সংকেত দেখাতে হবে না।
অন্যদিকে, উত্তরের জেলাতে আরও তীব্র হচ্ছে শীতের অনুভূতি। আজ সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। দিনভর রোদের অভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
এদিকে দিনাজপুরে সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯২ শতাংশ। কুষ্টিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ।
আজ শুক্রবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে ঢাকায় শীত আরও জোরালো হচ্ছে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইছে ঠান্ডা বাতাস, যার ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। আজ সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ (শুক্রবার) আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। একইসাথে আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৫ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৯ ডিগ্রিতে নামল চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে শীত। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে এই জেলায় সর্বনিম্ন।
ভোর ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমিকদের।
শহর ও গ্রাম– উভয় জনপদেই শীতের তীব্রতায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের দাপট কমছে না।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ সকালে রেকর্ড করা ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
শীতে বিপর্যস্ত পঞ্চগড়ের জনজীবন
পঞ্চগড়ে টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন দিন দিন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। জেলার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা থাকার কারণে শীতের অনুভূতি তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়ক, মাঠ ও ঘাট ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিনও বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। তবে বিকেলের দিকে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিলেছিল। বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর থেকেই আবার শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং বৃষ্টির মতো শিশির ঝরতে থাকে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও তাপমাত্রা আবার কমছে। আজ সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।
আগামীকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। এদিন সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এদিন রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

























