ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পঞ্চম দিনেও খালেদা জিয়ার কবরে মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পঞ্চম দিনেও তাঁর কবরে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। দাফনের পরদিন থেকেই প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভিড় করছেন।

আজ রোববার সরজমিনে সমাধিস্থল ঘুরে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে আসছেন। শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ ফুল নিয়ে আসছেন। পুষ্পস্তবকে ঢেকে গেছে কবরের বেদি। সেখানে অনেককে দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে কিংবা চোখ বন্ধ করে প্রার্থনায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়। সমাধিস্থলের এক পাশে আলেমদের কোরআন তেলাওয়াত করতেও দেখা গেছে।

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ (কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি) এবং শেরপুর জেলা ওলামা দলসহ বিভিন্ন সংগঠন মরহুমার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের অভিভাবকহীন করে চলে গেছেন। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’

বিএনপির আগামী নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো হিংসা বিদ্বেষ ছিল না। কোনোদিন কারো সাথে খারাপ আচরণ করেনি। ঠিক তেমনিও তারেক রহমানের মাঝেও কোনো ধরনের হিংসা বিদ্বেষ নেই। তিনি সবার সাথে আলোচনায় বসছেন। সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার কথা ভাবছেন। আশা করি দেশনেত্রীর মত সবাইকে একত্রিত করে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করবেন।’

ব্যক্তিগত আবেগ থেকেও অনেকে ছুটে আসছেন সমাধিস্থলে। ৫৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিনের নাতনি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন কবর জিয়ারত করতে।

তিনি বলেন, ‘নিজের মতো করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেছি।’

আবার বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে আসা মনিরুজ্জামান হাওলাদার জানান, জানাজার দিন অসুস্থ হয়ে পড়ায় আসতে পারেননি। আজ একটু সুস্থ বোধ করায় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে দেশনেত্রীর কবর জিয়ারত করতে ছুটে এসেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ৮০ বছর বয়সে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পঞ্চম দিনেও খালেদা জিয়ার কবরে মানুষের ঢল

আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পঞ্চম দিনেও তাঁর কবরে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। দাফনের পরদিন থেকেই প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভিড় করছেন।

আজ রোববার সরজমিনে সমাধিস্থল ঘুরে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে আসছেন। শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ ফুল নিয়ে আসছেন। পুষ্পস্তবকে ঢেকে গেছে কবরের বেদি। সেখানে অনেককে দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে কিংবা চোখ বন্ধ করে প্রার্থনায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়। সমাধিস্থলের এক পাশে আলেমদের কোরআন তেলাওয়াত করতেও দেখা গেছে।

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ (কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি) এবং শেরপুর জেলা ওলামা দলসহ বিভিন্ন সংগঠন মরহুমার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের অভিভাবকহীন করে চলে গেছেন। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’

বিএনপির আগামী নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো হিংসা বিদ্বেষ ছিল না। কোনোদিন কারো সাথে খারাপ আচরণ করেনি। ঠিক তেমনিও তারেক রহমানের মাঝেও কোনো ধরনের হিংসা বিদ্বেষ নেই। তিনি সবার সাথে আলোচনায় বসছেন। সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার কথা ভাবছেন। আশা করি দেশনেত্রীর মত সবাইকে একত্রিত করে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করবেন।’

ব্যক্তিগত আবেগ থেকেও অনেকে ছুটে আসছেন সমাধিস্থলে। ৫৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিনের নাতনি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন কবর জিয়ারত করতে।

তিনি বলেন, ‘নিজের মতো করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেছি।’

আবার বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে আসা মনিরুজ্জামান হাওলাদার জানান, জানাজার দিন অসুস্থ হয়ে পড়ায় আসতে পারেননি। আজ একটু সুস্থ বোধ করায় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে দেশনেত্রীর কবর জিয়ারত করতে ছুটে এসেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ৮০ বছর বয়সে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।