ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন ভোটারদের ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শহর থেকে গ্রাম সবখানেই বইছে নির্বাচনি হাওয়া। যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত ভোটাররা। অভিজ্ঞদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরুণ ভোটাররাও সক্রিয় ঘর, ক্যাম্পাস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। সর্বত্রই চলছে ভোটপূর্ব আলোচনা। সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের প্রথম ভোট গুরুত্বপূর্ণ হবে— এমন প্রত্যাশা তরুণদের। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন ভোটারদের ভাবনায় এসেছে কি কোনো পরিবর্তন?

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যমতে, এবার ত্রয়োদশ নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি নাগাদ দেশে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা হবে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬, যা মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ফলে এ বিশাল তরুণ অংশের ভোটই নির্ধারণ করবে রাজনৈতিক দলগুলোর জয় বা ভরাডুবি।

নির্বাচন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের আলোচনার উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবখানেই। ক্যাম্পাস থেকে ক্যাম্পাস, বাদ যাচ্ছে না ইন্টারনেট দুনিয়াও।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ফলই হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই সঙ্গে এবার রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট।

২০২৪ হওয়া সেই জনআন্দোলের নেতৃত্বই দিয়েছে এ তরুণ-তরুণীরা। যাদের বেশিরভাগই এবারের নির্বাচনের প্রথম ভোটার। তাই এবারের ভোট নিয়ে আছে আগ্রহ, উচ্ছ্বাসসহ নানান প্রত্যাশা।

তরুণীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘জুলাই মুভমেন্টের পরে বিভিন্ন দলের প্রতি আমাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেগুলো তারা ফুলফিল করতে পারছে না।’

এছাড়া তরুণ-তরুণীরা জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তরুণদের ম্যান্ডেট বুঝে, তাদের ইম্প্রেস করে রাজনীতি করা। তাছাড়া তরুণ প্রার্থীদের কাছেও তাদের এক্সপেক্টেশনের কথাও জানান তারা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জেন-জি’রা এখন রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই সচেতন, তাই তাদের সিদ্ধান্ত এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

সরকার আসে সরকার যায়, আশ্বাসবাণী ছাড়া নারী ক্ষমতায়নের বাস্তব চিত্র মেলা ভার। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং নারীদের নানাভাবে হয়রানির চিত্র বাড়ায় এবার তরুণীরাও সজাগভাবে কষছে ভোটের হিসাব। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের ভাঁজে ভাঁজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জোয়ারে গাঁথতে চান ভোট।

তরুণীরা জানান, দল দেখে ভোট দেয়ার বিষয়টি আগের মতো এবার আর দেখা যাবে না, প্রার্থী দেখেই ভোট দেবেন তারা। এছাড়া নারীদের ক্ষমতায়নে যাদের প্রাসঙ্গিক মনে হবে, তাদেরকেই সমর্থন দেয়ার ইঙ্গিত দেন অনেকেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা বলেন, ‘৬ কোটি বিশাল সংখ্যা। তারা যদি যথেষ্ট উৎসাহী না হন ভোট দিতে, তাহলে তো যে শতাংশের কথা বলা হচ্ছে, সেটি কমে যাবে। সেটা আমাদের জন্য ভালো বার্তা দেবে না। এর সঙ্গে গণভোটও আছে, সুতরাং সবাই চাইবে যে সংখ্যাটা বাড়ুক, ভোটার উপস্থিতি বাড়ুক।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার দল বা প্রতীক নয়, তরুণরা ভোট দিবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় এবং কার্যক্রম দেখে। তাই তরুণদের পছন্দকে যারা প্রাধান্য দিবে তারাই সরকার গঠনে এগিয়ে থাকবে।

সমাজ বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ শূধু নয়, সারা পৃথিবীই হচ্ছে “ইন্ডিভিজুয়ালিজমের” জায়গা। সেই জায়গা থেকে নেতা বা এমপি ইলেকশনের ক্ষেত্রে ভোটাররা, বিশেষ করে তরুণরা ‘ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের’ দিকে যাবে। যে প্রার্থীরা নতুন কিছু আনতে পারবে, নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে তার সামনে, তারাই ভোটারদের বেশি আকৃষ্ট করতে পারবে।’

এছাড়া তরুণদের ভোট পেতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন ভোটারদের ভাবনা

আপডেট সময় : ১২:১৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

শহর থেকে গ্রাম সবখানেই বইছে নির্বাচনি হাওয়া। যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত ভোটাররা। অভিজ্ঞদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরুণ ভোটাররাও সক্রিয় ঘর, ক্যাম্পাস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। সর্বত্রই চলছে ভোটপূর্ব আলোচনা। সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের প্রথম ভোট গুরুত্বপূর্ণ হবে— এমন প্রত্যাশা তরুণদের। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন ভোটারদের ভাবনায় এসেছে কি কোনো পরিবর্তন?

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যমতে, এবার ত্রয়োদশ নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি নাগাদ দেশে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা হবে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬, যা মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ফলে এ বিশাল তরুণ অংশের ভোটই নির্ধারণ করবে রাজনৈতিক দলগুলোর জয় বা ভরাডুবি।

নির্বাচন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের আলোচনার উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবখানেই। ক্যাম্পাস থেকে ক্যাম্পাস, বাদ যাচ্ছে না ইন্টারনেট দুনিয়াও।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ফলই হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই সঙ্গে এবার রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট।

২০২৪ হওয়া সেই জনআন্দোলের নেতৃত্বই দিয়েছে এ তরুণ-তরুণীরা। যাদের বেশিরভাগই এবারের নির্বাচনের প্রথম ভোটার। তাই এবারের ভোট নিয়ে আছে আগ্রহ, উচ্ছ্বাসসহ নানান প্রত্যাশা।

তরুণীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘জুলাই মুভমেন্টের পরে বিভিন্ন দলের প্রতি আমাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেগুলো তারা ফুলফিল করতে পারছে না।’

এছাড়া তরুণ-তরুণীরা জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তরুণদের ম্যান্ডেট বুঝে, তাদের ইম্প্রেস করে রাজনীতি করা। তাছাড়া তরুণ প্রার্থীদের কাছেও তাদের এক্সপেক্টেশনের কথাও জানান তারা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জেন-জি’রা এখন রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই সচেতন, তাই তাদের সিদ্ধান্ত এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

সরকার আসে সরকার যায়, আশ্বাসবাণী ছাড়া নারী ক্ষমতায়নের বাস্তব চিত্র মেলা ভার। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং নারীদের নানাভাবে হয়রানির চিত্র বাড়ায় এবার তরুণীরাও সজাগভাবে কষছে ভোটের হিসাব। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের ভাঁজে ভাঁজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জোয়ারে গাঁথতে চান ভোট।

তরুণীরা জানান, দল দেখে ভোট দেয়ার বিষয়টি আগের মতো এবার আর দেখা যাবে না, প্রার্থী দেখেই ভোট দেবেন তারা। এছাড়া নারীদের ক্ষমতায়নে যাদের প্রাসঙ্গিক মনে হবে, তাদেরকেই সমর্থন দেয়ার ইঙ্গিত দেন অনেকেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা বলেন, ‘৬ কোটি বিশাল সংখ্যা। তারা যদি যথেষ্ট উৎসাহী না হন ভোট দিতে, তাহলে তো যে শতাংশের কথা বলা হচ্ছে, সেটি কমে যাবে। সেটা আমাদের জন্য ভালো বার্তা দেবে না। এর সঙ্গে গণভোটও আছে, সুতরাং সবাই চাইবে যে সংখ্যাটা বাড়ুক, ভোটার উপস্থিতি বাড়ুক।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার দল বা প্রতীক নয়, তরুণরা ভোট দিবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় এবং কার্যক্রম দেখে। তাই তরুণদের পছন্দকে যারা প্রাধান্য দিবে তারাই সরকার গঠনে এগিয়ে থাকবে।

সমাজ বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ শূধু নয়, সারা পৃথিবীই হচ্ছে “ইন্ডিভিজুয়ালিজমের” জায়গা। সেই জায়গা থেকে নেতা বা এমপি ইলেকশনের ক্ষেত্রে ভোটাররা, বিশেষ করে তরুণরা ‘ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের’ দিকে যাবে। যে প্রার্থীরা নতুন কিছু আনতে পারবে, নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে তার সামনে, তারাই ভোটারদের বেশি আকৃষ্ট করতে পারবে।’

এছাড়া তরুণদের ভোট পেতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।