ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপ শুরু পাকিস্তানের

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্রিকেটবিশ্বে যদি কোনো দলকে সত্যিকার অর্থে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলা যায়, তবে সেই তালিকার শীর্ষে পাকিস্তানের নামই আসবে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেটিরই আরেকটি নিখুঁত উদাহরণ দিল সালমান আলি আগার দল। সহজ জয়ের পথে থেকেও মুহূর্তের মধ্যে ব্যাটিং বিপর্যয়, আবার সেখান থেকে অসম্ভব প্রত্যাবর্তন সব মিলিয়ে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে পাকিস্তান যেন নিজেদের পরিচয়ই নতুন করে লিখল।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ডাচরা। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেটে ৫০ রান তুলে ম্যাচে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় ইউরোপীয় দলটি। ১২.১ ওভারেই দলীয় একশ রান পূর্ণ করে তারা। সেই সময় স্কোরবোর্ডে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৫, বড় পুঁজির আভাস তখন স্পষ্টই।

ওপেনিংয়ে ম্যাক্স ও’দাউদ (৫) দ্রুত ফিরলেও অপর ওপেনার মাইকেল লেভিট ১৫ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মিডল অর্ডারে কোলিন অ্যাকারম্যান (২৫ বলে ৩০), বাস ডি লিড (১৪ বলে ২০) ও অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস (২৯ বলে ৩৭) ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। এডওয়ার্ডসের ইনিংসটাই ছিল নেদারল্যান্ডসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

তবে ১০৫ রানে ৩ উইকেট থেকে হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে ডাচদের। পরের ৪২ রান তুলতেই হারায় বাকি ৭ উইকেট। পাকিস্তানের বোলাররা শেষ দিকে চেপে ধরলে ১৯.৫ ওভারেই ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ২৬ রান তুলতে গিয়ে ৬ উইকেট হারায় তারা। পাকিস্তানের পক্ষে সালমান মির্জা নেন ৩ উইকেট, সাইম আইয়ুব ২টি। মোহাম্মদ নেওয়াজ ও আবরার আহমেদ নেন সমান ২টি করে উইকেট।

১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও ছিল উড়ন্ত। সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহান মারমুখী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ১৩ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ২৪ রান করে সাইম আউট হলেও ফারহান একপ্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তোলেন। পাকিস্তান দলীয় শতক পায় মাত্র ১২.২ ওভারে।

কিন্তু ৯৮ থেকে ১১৪- এই ১৬ রানের ব্যবধানে ঘটে যায় অবিশ্বাস্য বিপর্যয়। একের পর এক ফিরে যান উসমান খান (০), শাদাব খান (৮), বাবর আজম (১৫) ও মোহাম্মদ নেওয়াজ (৬)। ২ উইকেটে ৯৮ রান থেকে পাকিস্তান দাঁড়িয়ে যায় ৭ উইকেটে ১১৪ রানে। হাতে তখন আর মাত্র ৩ উইকেট, শেষ দুই ওভারে দরকার ২৯ রান।

ক্রিজে তখন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ। নেদারল্যান্ডস শিবিরে তখন জয়ের গন্ধ। কিন্তু পাকিস্তান যে পাকিস্তানই!

১৯তম ওভারে লোগান ফন বিকের এক ওভারে আগুন ঝরান ফাহিম আশরাফ। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিলেন ফাহিম, কিন্তু ম্যাক্স ও’দাউদের হাত ফসকে যায় বল। জীবন পেয়ে সেই ওভারেই তিনটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে ২৪ রান তুলে নেন ফাহিম। মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।

শেষ ওভারে দরকার পড়ে মাত্র ৫ রান। তিন বল বাকি থাকতেই সেই সমীকরণ মেলান ফাহিম ও শাহিন। ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ফাহিম আশরাফ। শাহিন আফ্রিদি অপরাজিত থাকেন ৫ রানে। ১৯.৩ ওভারে ৩ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

এই জয় আসতে পারত অনেক সহজেই। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘সহজ’ শব্দটা যেন নিষিদ্ধ। ২ উইকেটে ৯৮ রান করা একটি দল কীভাবে ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারায়, সেটাই তার প্রমাণ। তবুও শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে আর সেটি এসেছে একজন অলরাউন্ডারের দৃঢ়তায় ও প্রতিপক্ষের একটি ক্যাচ মিসের সুবাদে।

এই ম্যাচে আলোচনায় থাকবেন বাবর আজমও। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধাজনক পরিস্থিতিতেও ১৮ বলে ১৫ রানের ধীর ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাতে চাপ বাড়ে দলের ওপর। ফখর জামানের একাদশের বাইরে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তবে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও পাকিস্তান আজ প্রশংসা কুড়িয়েছে ফিল্ডিংয়ে। মোট ৯টি ক্যাচ ধরেছে তারা। বিশেষ করে মাইকেল লেভিটকে আউট করতে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদির যৌথ প্রচেষ্টায় নেয়া বাউন্ডারি ক্যাচটি ছিল চোখে পড়ার মতো। উইকেটকিপার উসমান খানের দৃষ্টিনন্দন ক্যাচেও থামে ম্যাক্স ও’দাউদের ইনিংস।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নাটকীয় জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল পাকিস্তান। গ্রুপ ‘এ’ তে তাদের পরের ম্যাচ ১০ ফেব্রুয়ারি, প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই ম্যাচটাই আবার মনে করিয়ে দিলো পাকিস্তানকে কখনোই হালকাভাবে নেয়া যায় না। কারণ তারা প্রমাণ করতেই ভালোবাসে, তারা কেন পাকিস্তান।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপ শুরু পাকিস্তানের

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্রিকেটবিশ্বে যদি কোনো দলকে সত্যিকার অর্থে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলা যায়, তবে সেই তালিকার শীর্ষে পাকিস্তানের নামই আসবে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেটিরই আরেকটি নিখুঁত উদাহরণ দিল সালমান আলি আগার দল। সহজ জয়ের পথে থেকেও মুহূর্তের মধ্যে ব্যাটিং বিপর্যয়, আবার সেখান থেকে অসম্ভব প্রত্যাবর্তন সব মিলিয়ে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে পাকিস্তান যেন নিজেদের পরিচয়ই নতুন করে লিখল।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ডাচরা। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেটে ৫০ রান তুলে ম্যাচে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় ইউরোপীয় দলটি। ১২.১ ওভারেই দলীয় একশ রান পূর্ণ করে তারা। সেই সময় স্কোরবোর্ডে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৫, বড় পুঁজির আভাস তখন স্পষ্টই।

ওপেনিংয়ে ম্যাক্স ও’দাউদ (৫) দ্রুত ফিরলেও অপর ওপেনার মাইকেল লেভিট ১৫ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মিডল অর্ডারে কোলিন অ্যাকারম্যান (২৫ বলে ৩০), বাস ডি লিড (১৪ বলে ২০) ও অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস (২৯ বলে ৩৭) ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। এডওয়ার্ডসের ইনিংসটাই ছিল নেদারল্যান্ডসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

তবে ১০৫ রানে ৩ উইকেট থেকে হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে ডাচদের। পরের ৪২ রান তুলতেই হারায় বাকি ৭ উইকেট। পাকিস্তানের বোলাররা শেষ দিকে চেপে ধরলে ১৯.৫ ওভারেই ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ২৬ রান তুলতে গিয়ে ৬ উইকেট হারায় তারা। পাকিস্তানের পক্ষে সালমান মির্জা নেন ৩ উইকেট, সাইম আইয়ুব ২টি। মোহাম্মদ নেওয়াজ ও আবরার আহমেদ নেন সমান ২টি করে উইকেট।

১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও ছিল উড়ন্ত। সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহান মারমুখী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ১৩ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ২৪ রান করে সাইম আউট হলেও ফারহান একপ্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তোলেন। পাকিস্তান দলীয় শতক পায় মাত্র ১২.২ ওভারে।

কিন্তু ৯৮ থেকে ১১৪- এই ১৬ রানের ব্যবধানে ঘটে যায় অবিশ্বাস্য বিপর্যয়। একের পর এক ফিরে যান উসমান খান (০), শাদাব খান (৮), বাবর আজম (১৫) ও মোহাম্মদ নেওয়াজ (৬)। ২ উইকেটে ৯৮ রান থেকে পাকিস্তান দাঁড়িয়ে যায় ৭ উইকেটে ১১৪ রানে। হাতে তখন আর মাত্র ৩ উইকেট, শেষ দুই ওভারে দরকার ২৯ রান।

ক্রিজে তখন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ। নেদারল্যান্ডস শিবিরে তখন জয়ের গন্ধ। কিন্তু পাকিস্তান যে পাকিস্তানই!

১৯তম ওভারে লোগান ফন বিকের এক ওভারে আগুন ঝরান ফাহিম আশরাফ। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিলেন ফাহিম, কিন্তু ম্যাক্স ও’দাউদের হাত ফসকে যায় বল। জীবন পেয়ে সেই ওভারেই তিনটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে ২৪ রান তুলে নেন ফাহিম। মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।

শেষ ওভারে দরকার পড়ে মাত্র ৫ রান। তিন বল বাকি থাকতেই সেই সমীকরণ মেলান ফাহিম ও শাহিন। ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ফাহিম আশরাফ। শাহিন আফ্রিদি অপরাজিত থাকেন ৫ রানে। ১৯.৩ ওভারে ৩ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

এই জয় আসতে পারত অনেক সহজেই। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘সহজ’ শব্দটা যেন নিষিদ্ধ। ২ উইকেটে ৯৮ রান করা একটি দল কীভাবে ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারায়, সেটাই তার প্রমাণ। তবুও শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে আর সেটি এসেছে একজন অলরাউন্ডারের দৃঢ়তায় ও প্রতিপক্ষের একটি ক্যাচ মিসের সুবাদে।

এই ম্যাচে আলোচনায় থাকবেন বাবর আজমও। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধাজনক পরিস্থিতিতেও ১৮ বলে ১৫ রানের ধীর ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাতে চাপ বাড়ে দলের ওপর। ফখর জামানের একাদশের বাইরে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তবে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও পাকিস্তান আজ প্রশংসা কুড়িয়েছে ফিল্ডিংয়ে। মোট ৯টি ক্যাচ ধরেছে তারা। বিশেষ করে মাইকেল লেভিটকে আউট করতে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদির যৌথ প্রচেষ্টায় নেয়া বাউন্ডারি ক্যাচটি ছিল চোখে পড়ার মতো। উইকেটকিপার উসমান খানের দৃষ্টিনন্দন ক্যাচেও থামে ম্যাক্স ও’দাউদের ইনিংস।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নাটকীয় জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল পাকিস্তান। গ্রুপ ‘এ’ তে তাদের পরের ম্যাচ ১০ ফেব্রুয়ারি, প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই ম্যাচটাই আবার মনে করিয়ে দিলো পাকিস্তানকে কখনোই হালকাভাবে নেয়া যায় না। কারণ তারা প্রমাণ করতেই ভালোবাসে, তারা কেন পাকিস্তান।