ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষক ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন অংশীজনের দাবি, এ নিয়োগের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জামায়াত–শিবির সংশ্লিষ্ট একটি অংশের মধ্যে গোপন যোগসাজশ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ অতীতে আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন, নির্যাতন ও প্রশাসনিক অনিয়মে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তারা মনে করছেন, তাকে পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সম্প্রতি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগকারীদের দাবি, জামায়াত ও শিবিরের কিছু প্রভাবশালী নেতা, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ব্যক্তি এবং প্রশাসনের একটি অংশ বিষয়টি গোপনীয়ভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে নিয়োগ চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অংশীজনরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, “ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি। শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।”

তারা আরও জানান, ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র তারা সংগ্রহ করেছেন। প্রয়োজন হলে সেগুলো প্রকাশ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তারা।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত একাধিক উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ আগস্ট ২০২৪ মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যসহ ছয়জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।

পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন—অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুছ ছবুর খান, ড. নারগীস সুলতানা চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, সাঈদ ইসলাম ও হুসনে আরা বেগম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল পারভেজ নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে এবং আন্দোলন দমনে কয়েকজন শিক্ষক সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ড. ওবায়দুল্লাহ তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ক্যাম্পাস থাকা নিষিদ্ধ। সে অনুযায়ী ২০১৭ সাল থেকে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় আশুলিয়াকে স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে আশুলিয়া ক্যাম্পাস গুলশানে স্থানান্তরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গুলশানে স্থানান্তরের নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলার পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগের পর বিপ্লব-পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের মুখে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ড. ওবায়দুল্লাহসহ ছয়জন শিক্ষককে বহিষ্কার করে।

পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে আবেদন করলেও একই অভিযোগের কারণে সেখানে নিয়োগ পাননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষক ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন অংশীজনের দাবি, এ নিয়োগের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জামায়াত–শিবির সংশ্লিষ্ট একটি অংশের মধ্যে গোপন যোগসাজশ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ অতীতে আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন, নির্যাতন ও প্রশাসনিক অনিয়মে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তারা মনে করছেন, তাকে পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সম্প্রতি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগকারীদের দাবি, জামায়াত ও শিবিরের কিছু প্রভাবশালী নেতা, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ব্যক্তি এবং প্রশাসনের একটি অংশ বিষয়টি গোপনীয়ভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে নিয়োগ চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অংশীজনরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, “ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি। শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।”

তারা আরও জানান, ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র তারা সংগ্রহ করেছেন। প্রয়োজন হলে সেগুলো প্রকাশ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তারা।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত একাধিক উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ আগস্ট ২০২৪ মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যসহ ছয়জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।

পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন—অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুছ ছবুর খান, ড. নারগীস সুলতানা চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, সাঈদ ইসলাম ও হুসনে আরা বেগম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল পারভেজ নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে এবং আন্দোলন দমনে কয়েকজন শিক্ষক সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ড. ওবায়দুল্লাহ তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ক্যাম্পাস থাকা নিষিদ্ধ। সে অনুযায়ী ২০১৭ সাল থেকে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় আশুলিয়াকে স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে আশুলিয়া ক্যাম্পাস গুলশানে স্থানান্তরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গুলশানে স্থানান্তরের নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলার পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগের পর বিপ্লব-পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের মুখে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ড. ওবায়দুল্লাহসহ ছয়জন শিক্ষককে বহিষ্কার করে।

পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে আবেদন করলেও একই অভিযোগের কারণে সেখানে নিয়োগ পাননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।