ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত বাউবি: প্রশাসনের কঠোরতার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পার করলেও কাঙ্ক্ষিত মান, সুশাসন ও একাডেমিক কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশের কাছ থেকে। তাদের দাবি, দিবস পালন, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও অবকাঠামোগত সৌন্দর্যবর্ধনের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক একাডেমিক সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে—সেশনজট, সময়মতো পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে বিলম্ব, নম্বরপত্রে ভুল, সার্টিফিকেট সংশোধনে জটিলতা, ক্লাস অনিয়মিত হওয়া এবং সেবা প্রদানে ভোগান্তি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আরও অস্থির হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, তারা বিধিমালা অনুযায়ী কাজ করছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্যের দপ্তরের যুগ্ম পরিচালককে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনের সঙ্গে কর্মসূচিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।

উপ-পরিচালক বদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস সৌন্দর্যবর্ধনের নামে অর্থ অনিয়ম, ভুয়া বিল দাখিল এবং কৃষিজ পণ্য থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার শেখ সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিবারের সদস্যদের চাকরি দিয়ে বিভিন্ন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে বদলি করান এবং সাবেক উপাচার্য এম এ মান্নান ও সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কর্মচারী হালিমা খাতুনের পরিবারভুক্ত একাধিক সদস্যের নিয়োগ নিয়েও আলোচনা চলছে। একইভাবে ড্রাইভার রুহুল, সাইফুল পান্নু, কেয়ারটেকার কাইয়ুম, ট্রেজারার দপ্তরের কর্মচারী সোহরাব হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্বজনদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহরিয়ার করিম, কর্মকর্তা মো. আল আমিন, আইসিটি বিভাগের মতিউর রহমান, কম্পিউটার বিভাগের জোবায়দুল হকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

আঞ্চলিক পর্যায়েও অভিযোগ রয়েছে। খুলনার বিষ্ণুপদ ভৌমিক, বরিশালের আবু বাক্কার, ফরিদপুরের আ ফ ম মেসবাহউদ্দিন এবং সিলেটের মো. মকছেদার রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধ্যাপক ড. কাজী গালিব আহসান, মো. ফরিদ হোসেন, রেজানুর রহমান, অধ্যাপক সুফিয়া বেগম, মোস্তফা আজাদ কামাল, কায়েস বিন রহমান, মহসিন উদ্দীন, জাহাঙ্গীর আলম, সরকার মো. নোমান, মামুনুর রশীদ, মেহেরীন মুনজারিন রত্না, তোফায়েল আহমেদ, শহীদুর রহমান, কামরুজ্জামান, রুমা আক্তার, নুর মোহম্মদ, মশিউর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, ড. আব্দুস সাত্তার, চাঁদ সুলতানা, শেখ ফরিদ প্রমুখ। মিডিয়া বিভাগের পরিচালক শরীফ মোহম্মদ শাহাবুদ্দিন, সোহেল আহমেদ, মো. আব্দুল কাইয়ুম ভুইয়া, রানা হামিদুর রহমান, মামুন হাসান, ওয়াহিদুজ্জামান, নার্গিস আক্তার, মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, মো. শাহরীয়ার করিম, মো. মোশাররফ হোসেন, সেতারা বেগম, মো. আমিনুল হক, নাসির উদ্দীন, মো. সাইদার হোসেন, নিকচন মিয়া, মো. সাকের সিদ্দীকী, মোস্তাক আহমেদ, মো. আব্দুস শাহীন, ফজলে আরেফিন, এসএম এমরান হোসেন, শাহনাজ পারভীন, উর্মি রহমান, রেশমা আক্তার, ড. মো. আজিজুল হক, মির তারেক হাসান, সমীর গোলদার, মোছাম্মত মমতাজ, দিদারুল আলম, মশিউর রহমান চৌধুরী, মো. আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আল-আমিন খান, তাহুর আহমেদ, মো. নাজমুল হক, মো.সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম, মো.সেলিম হোসেন, হানিফ হাওলাদার, সঞ্জয় কুমার সরকার, মাইনুল ইসলাম, আব্দুর রহমান হাওলাদার, তমালিকা মজুমদার, মনিরুজ্জামান মিয়া, মোহম্মদ জাহিদুল ইসলামের ছবি দেখা গেছে সাবেক এমপি, মন্ত্রীর সাথে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তার ছবি সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে এসেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাবেক রেজিস্ট্রার ড. শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে স্বজনদের নিয়োগ এবং অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা একাধিকবার উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “আমি চাই বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ হোক। সরকারি গাড়ি কেনা একটি নীতিমালার আওতায় হয়। ক্রয় কমিটি ও প্রকিউরমেন্ট শাখার যাচাই ছাড়া কিছুই হয় না। নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সুপারিশ আসে, কিন্তু মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা বাদ পড়েন, তারাই অনেক সময় গুজব ছড়ান।”

বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলির বিধান রয়েছে। কেউ দীর্ঘদিন দুর্গম এলাকায় থাকবেন আর কেউ পুরো চাকরি জীবন হেড অফিসে কাটাবেন—এটা হতে পারে না। নির্বাচনের পর বদলিনীতিতে আরও কঠোরতা আনা হবে।”

চাকরিচ্যুতি ও মব সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রয়োজনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে অচল করার সুযোগ নেই। ভেতরে বা বাইরে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত বাউবি: প্রশাসনের কঠোরতার আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পার করলেও কাঙ্ক্ষিত মান, সুশাসন ও একাডেমিক কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশের কাছ থেকে। তাদের দাবি, দিবস পালন, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও অবকাঠামোগত সৌন্দর্যবর্ধনের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক একাডেমিক সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে—সেশনজট, সময়মতো পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে বিলম্ব, নম্বরপত্রে ভুল, সার্টিফিকেট সংশোধনে জটিলতা, ক্লাস অনিয়মিত হওয়া এবং সেবা প্রদানে ভোগান্তি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আরও অস্থির হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, তারা বিধিমালা অনুযায়ী কাজ করছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্যের দপ্তরের যুগ্ম পরিচালককে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনের সঙ্গে কর্মসূচিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।

উপ-পরিচালক বদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস সৌন্দর্যবর্ধনের নামে অর্থ অনিয়ম, ভুয়া বিল দাখিল এবং কৃষিজ পণ্য থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার শেখ সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিবারের সদস্যদের চাকরি দিয়ে বিভিন্ন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে বদলি করান এবং সাবেক উপাচার্য এম এ মান্নান ও সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কর্মচারী হালিমা খাতুনের পরিবারভুক্ত একাধিক সদস্যের নিয়োগ নিয়েও আলোচনা চলছে। একইভাবে ড্রাইভার রুহুল, সাইফুল পান্নু, কেয়ারটেকার কাইয়ুম, ট্রেজারার দপ্তরের কর্মচারী সোহরাব হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্বজনদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহরিয়ার করিম, কর্মকর্তা মো. আল আমিন, আইসিটি বিভাগের মতিউর রহমান, কম্পিউটার বিভাগের জোবায়দুল হকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

আঞ্চলিক পর্যায়েও অভিযোগ রয়েছে। খুলনার বিষ্ণুপদ ভৌমিক, বরিশালের আবু বাক্কার, ফরিদপুরের আ ফ ম মেসবাহউদ্দিন এবং সিলেটের মো. মকছেদার রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধ্যাপক ড. কাজী গালিব আহসান, মো. ফরিদ হোসেন, রেজানুর রহমান, অধ্যাপক সুফিয়া বেগম, মোস্তফা আজাদ কামাল, কায়েস বিন রহমান, মহসিন উদ্দীন, জাহাঙ্গীর আলম, সরকার মো. নোমান, মামুনুর রশীদ, মেহেরীন মুনজারিন রত্না, তোফায়েল আহমেদ, শহীদুর রহমান, কামরুজ্জামান, রুমা আক্তার, নুর মোহম্মদ, মশিউর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, ড. আব্দুস সাত্তার, চাঁদ সুলতানা, শেখ ফরিদ প্রমুখ। মিডিয়া বিভাগের পরিচালক শরীফ মোহম্মদ শাহাবুদ্দিন, সোহেল আহমেদ, মো. আব্দুল কাইয়ুম ভুইয়া, রানা হামিদুর রহমান, মামুন হাসান, ওয়াহিদুজ্জামান, নার্গিস আক্তার, মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, মো. শাহরীয়ার করিম, মো. মোশাররফ হোসেন, সেতারা বেগম, মো. আমিনুল হক, নাসির উদ্দীন, মো. সাইদার হোসেন, নিকচন মিয়া, মো. সাকের সিদ্দীকী, মোস্তাক আহমেদ, মো. আব্দুস শাহীন, ফজলে আরেফিন, এসএম এমরান হোসেন, শাহনাজ পারভীন, উর্মি রহমান, রেশমা আক্তার, ড. মো. আজিজুল হক, মির তারেক হাসান, সমীর গোলদার, মোছাম্মত মমতাজ, দিদারুল আলম, মশিউর রহমান চৌধুরী, মো. আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আল-আমিন খান, তাহুর আহমেদ, মো. নাজমুল হক, মো.সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম, মো.সেলিম হোসেন, হানিফ হাওলাদার, সঞ্জয় কুমার সরকার, মাইনুল ইসলাম, আব্দুর রহমান হাওলাদার, তমালিকা মজুমদার, মনিরুজ্জামান মিয়া, মোহম্মদ জাহিদুল ইসলামের ছবি দেখা গেছে সাবেক এমপি, মন্ত্রীর সাথে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তার ছবি সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে এসেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাবেক রেজিস্ট্রার ড. শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে স্বজনদের নিয়োগ এবং অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা একাধিকবার উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “আমি চাই বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ হোক। সরকারি গাড়ি কেনা একটি নীতিমালার আওতায় হয়। ক্রয় কমিটি ও প্রকিউরমেন্ট শাখার যাচাই ছাড়া কিছুই হয় না। নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সুপারিশ আসে, কিন্তু মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা বাদ পড়েন, তারাই অনেক সময় গুজব ছড়ান।”

বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলির বিধান রয়েছে। কেউ দীর্ঘদিন দুর্গম এলাকায় থাকবেন আর কেউ পুরো চাকরি জীবন হেড অফিসে কাটাবেন—এটা হতে পারে না। নির্বাচনের পর বদলিনীতিতে আরও কঠোরতা আনা হবে।”

চাকরিচ্যুতি ও মব সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রয়োজনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে অচল করার সুযোগ নেই। ভেতরে বা বাইরে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।”