কে হচ্ছেন পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার কাঠামো নির্ধারণে একাধিক দফা বৈঠক করেছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দলীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চলছে নিবিড় আলোচনা। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষা মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরে ফিরছে তিনটি আলোচিত নাম— সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।
অন্যদিকে, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। শিক্ষা খাতে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং মন্ত্রণালয় পরিচালনার বাস্তব দক্ষতা থাকায় তাঁকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রী করার আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় নেতারা মনে করছেন, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার বিবেচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে জয়ী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। অতীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় তিনি সমৃদ্ধ। তবে দলীয় কঠিন সময়ে এলাকায় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে কিছু মহলে সমালোচনা রয়েছে। তবুও প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ ছাড়া ড. ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সাদা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের মহাসচিব হিসেবেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন শিক্ষক অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় শিক্ষা অঙ্গনে তিনি একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে বিবেচিত। বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসন ঘিরে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও আলোচনায় ছিল। যদিও দলীয় সিদ্ধান্তে ওই আসনে শেষ পর্যন্ত অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবুও মন্ত্রিসভায় টেকনোক্রেট কোটায় তাঁর অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মন্ত্রিসভার রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত করেছে। অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক অবদান, নির্বাচনী ফলাফল এবং দলীয় ভারসাম্য—এই চারটি মানদণ্ডকে সামনে রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদ ঘিরে এই তিন নামের আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



















