ভাষা শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন
- আপডেট সময় : ১২:২০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ দেশের বিভিন্ন শহিদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করছেন সর্বস্তরের মানুষ। আজ (শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এর আগে আজ (শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময়ে তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দলীয় প্রধান হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
পরবর্তীতে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিন বাহিনীর পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ভাষা শহিদদের স্মরণে ফুল দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শ্রদ্ধা জানায়। ছাত্রদলের পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরাও শহিদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন।
এরপরই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সবাই ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। এসময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি ভাষাশহিদদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, এদিন আমাদের প্রেরণার। এই প্রেরণা থেকেই আমাদের স্বাধীনতার পথচলা। যখন পশ্চিমারা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তখন ছাত্ররা আত্মত্যাগের মাধ্যমে মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল।
তিনি আরও বলেন, আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছি।
একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সেখানে কাজ করছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস পালন করা হয়। দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে, যা ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না–জানা আরও অনেক শহিদ। দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।






















