ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বহুল আলোচিত শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন আইনে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই ঐতিহাসিক রায় দেন। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনকে সংগৃহীত ১৭৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের ১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তা সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার পর্যবেক্ষণে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্টকে নয়।

এক্ষেত্রে কংগ্রেসের ‘স্পষ্ট অনুমোদনের’ প্রমাণ দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালত ও ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট জজও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেও সুপ্রিম কোর্টে হেরে যায় ট্রাম্প প্রশাসন।

পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের তথ্যমতে, আইইইপিএ-ভিত্তিক এই শুল্কনীতি থেকে ইতিমধ্যে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আদায় হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিশাল অঙ্কের এই অর্থ ফেরত দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে উচ্চতর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে আগামী ১৪ অক্টোবরের আগে এই রায় কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন আদালত।

এদিকে আদালতের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ তিনি রায়টিকে ‘অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন, এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, ভিন্ন আইন প্রয়োগ করে সব দেশের পণ্য আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের ওপর নতুন করে বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ত

বে শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যে যেসব বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তার অনেকগুলোই বহাল থাকবে বলে জানান তিনি। এ সময় আলাদাভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করে চুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা স্পষ্ট করেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরই চীন, কানাডা, মেক্সিকো ও ভারতসহ প্রায় সব দেশের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপরও ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছিল, যা গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংশোধন করে ১৯ শতাংশ করা হয়।

তবে ট্রাম্পের এ আইনি পরাজয়ের ক্ষেত্রে বিচারকদের রাজনৈতিক নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আপিল আদালতে হেরে যাওয়া ১১ জন বিচারপতির মধ্যে তিনজন ছিলেন রিপাবলিকানদের নিয়োগপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে যে ছয়জন রিপাবলিকান নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি রয়েছেন, তাদের মধ্যেও তিনজন সরাসরি ট্রাম্পের নিজের নিয়োগ দেওয়া, তা সত্ত্বেও রায়টি ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে গেল। তথ্যসূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ১২:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বহুল আলোচিত শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন আইনে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই ঐতিহাসিক রায় দেন। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনকে সংগৃহীত ১৭৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের ১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তা সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার পর্যবেক্ষণে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্টকে নয়।

এক্ষেত্রে কংগ্রেসের ‘স্পষ্ট অনুমোদনের’ প্রমাণ দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালত ও ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট জজও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেও সুপ্রিম কোর্টে হেরে যায় ট্রাম্প প্রশাসন।

পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের তথ্যমতে, আইইইপিএ-ভিত্তিক এই শুল্কনীতি থেকে ইতিমধ্যে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আদায় হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিশাল অঙ্কের এই অর্থ ফেরত দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে উচ্চতর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে আগামী ১৪ অক্টোবরের আগে এই রায় কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন আদালত।

এদিকে আদালতের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ তিনি রায়টিকে ‘অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন, এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, ভিন্ন আইন প্রয়োগ করে সব দেশের পণ্য আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের ওপর নতুন করে বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ত

বে শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যে যেসব বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তার অনেকগুলোই বহাল থাকবে বলে জানান তিনি। এ সময় আলাদাভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করে চুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা স্পষ্ট করেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরই চীন, কানাডা, মেক্সিকো ও ভারতসহ প্রায় সব দেশের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপরও ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছিল, যা গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংশোধন করে ১৯ শতাংশ করা হয়।

তবে ট্রাম্পের এ আইনি পরাজয়ের ক্ষেত্রে বিচারকদের রাজনৈতিক নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আপিল আদালতে হেরে যাওয়া ১১ জন বিচারপতির মধ্যে তিনজন ছিলেন রিপাবলিকানদের নিয়োগপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে যে ছয়জন রিপাবলিকান নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি রয়েছেন, তাদের মধ্যেও তিনজন সরাসরি ট্রাম্পের নিজের নিয়োগ দেওয়া, তা সত্ত্বেও রায়টি ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে গেল। তথ্যসূত্র: বিবিসি