ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৭

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজ্যটির ছাতরা জেলার সিমারিয়া গ্রামের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর এনডিটিভির।

ঝাড়খণ্ড রাজ্যে সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইটটি ঝাড়খণ্ডের রাচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ছাতরার ডিসি কীর্তিশ্রী জি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, “এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা সাত আরোহীর সবাই এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বিমানটি রাচি থেকে দিল্লির পথে ছিল।”

রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালনাধীন বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাচি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছিল।

কীর্তিশ্রী জি জানান, প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে বিমানটি নিখোঁজ হয় আর পরে সিমারিয়ার কাছে গভীর বনে আচ্ছাদিত বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) জানান, সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা শুভম খান্ডেলওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সাতজনেরই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সবরাজদীপ সিং, রোগী সঞ্জয় কুমার, ডা. বিকাশ কুমার গুপ্তা, শচীন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী এবং ধুরু কুমার।

রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের সিইও অনন্ত সিনহা জানান, ৬৫ শতাংশ পোড়া ক্ষত নিয়ে চিকিৎসাধীন সঞ্জয় কুমারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। রোগীর স্বজনরা জানান, রোগীর অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে চিকিৎসকদের পরামর্শে সড়কপথের ঝুঁকি এড়িয়ে তাকে বিমানে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার জানান, উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করলেও, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এছাড়া এই ঘটনা তদন্তে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) একটি দলকে পাঠানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৭

আপডেট সময় : ১২:০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজ্যটির ছাতরা জেলার সিমারিয়া গ্রামের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর এনডিটিভির।

ঝাড়খণ্ড রাজ্যে সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইটটি ঝাড়খণ্ডের রাচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ছাতরার ডিসি কীর্তিশ্রী জি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, “এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা সাত আরোহীর সবাই এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বিমানটি রাচি থেকে দিল্লির পথে ছিল।”

রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালনাধীন বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাচি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছিল।

কীর্তিশ্রী জি জানান, প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে বিমানটি নিখোঁজ হয় আর পরে সিমারিয়ার কাছে গভীর বনে আচ্ছাদিত বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) জানান, সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা শুভম খান্ডেলওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সাতজনেরই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সবরাজদীপ সিং, রোগী সঞ্জয় কুমার, ডা. বিকাশ কুমার গুপ্তা, শচীন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী এবং ধুরু কুমার।

রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের সিইও অনন্ত সিনহা জানান, ৬৫ শতাংশ পোড়া ক্ষত নিয়ে চিকিৎসাধীন সঞ্জয় কুমারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। রোগীর স্বজনরা জানান, রোগীর অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে চিকিৎসকদের পরামর্শে সড়কপথের ঝুঁকি এড়িয়ে তাকে বিমানে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার জানান, উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করলেও, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এছাড়া এই ঘটনা তদন্তে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) একটি দলকে পাঠানো হচ্ছে।