পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান
- আপডেট সময় : ০১:২৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বা জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্র প্রকাশ করে এই ঘোষণা দেন তিনি।
স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়ার কথা জানিয়ে জুনের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ার কথা বলেছেন তুলসী গ্যাবার্ড। এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকতেই আগামী ৩০ জুন থেকে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ক্যাবিনেট থেকে এ নিয়ে চতুর্থ কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেন। গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর তার প্রধান ডেপুটি অ্যারন লুকাসকে ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক এই ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে শীর্ষ এই পদে যোগ দিয়েছিলেন। তবে, সম্প্রতি ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও গোয়েন্দা তথ্যের মূল্যায়ন নিয়ে তার কিছুটা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বর্তমান উপ-জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। লুকাস সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, গ্যাবার্ড ‘দারুণ কাজ’ করেছেন। তবে তার স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিবারের পাশে থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।
জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে গোয়েন্দা কার্যক্রমে গ্যাবার্ডের তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির জন্য এই দপ্তর গঠন করা হয়।
হাওয়াই ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য হিসেবে গ্যাবার্ড ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরাকে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি কর্মকর্তা হন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা রিজার্ভে যোগ দেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
কংগ্রেস ছাড়ার পর তিনি রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন দেন এবং রিপাবলিকান দলে যোগ দেন।
রাশিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইউক্রেনে হামলার জন্য ন্যাটোকে দায়ী করার অভিযোগে এবং সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে ২০১৭ সালে দামেস্কে সাক্ষাৎ করার কারণে তিনি দ্বিদলীয় সমালোচনার মুখে পড়েন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, গ্যাবার্ড তার পদ ব্যবহার করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির প্রমাণহীন দাবিকে সমর্থন দিয়েছেন।
গত জুনে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না—গ্যাবার্ডের এমন মূল্যায়ন ভুল ছিল। এরপর থেকেই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার দূরত্বের বিষয়টি সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সামরিক অভিযান, ইরান যুদ্ধ এবং কিউবা ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় গ্যাবার্ডকে বাইরে রাখা হয়েছিল।
সূত্রটি আরও জানায়, গ্যাবার্ডের নেতৃত্বাধীন বিশেষ কার্যদলের কর্মকাণ্ডও হোয়াইট হাউসের অসন্তোষের কারণ ছিল। দলটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত নথি প্রকাশ, নির্বাচনী যন্ত্রের নিরাপত্তা তদন্ত এবং বৈশ্বিক মহামারির উৎস অনুসন্ধানের কাজ করছিল।
এছাড়া গত আগস্টে গ্যাবার্ড ৩৭ জন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করেন। অভিযোগ ছিল, তারা বিদেশে গোপনে কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেছিলেন।
গ্যাবার্ড গোয়েন্দা সংস্থার রাজনৈতিক প্রভাব দূর করার উদ্যোগ হিসেবে একাধিক পদক্ষেপ নেন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রধান জন ব্রেনানসহ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিলের অনুমোদন দেন।
সিনেট গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক ওয়ার্নার বলেন, জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদটি এখন অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও অভিজ্ঞ একজন গোয়েন্দা পেশাজীবীর।’
তার মতে, জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বৈদেশিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া, অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া নয়।



























‘এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে’