ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে রাজস্ব আহরণ নিয়ে। কারণ, প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হলেও সর্বোচ্চ আদায় হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এ ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এবারের বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।সরকারের বাজেট দর্শনে থাকছে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীর বিনিয়োগের সময়ে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‎চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। অথচ আগামী অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণের পথে সরকার। প্রশ্ন উঠছে, এতো বড় ব্যবধান কীভাবে?

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু করের হার বাড়িয়ে নয় বরং আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সম্পদশালী ব্যক্তি, ডিজিটাল ব্যবসা ও অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট শুধু বড় অঙ্কের হলেই হবে না, হতে হবে বাস্তবসম্মত, আস্থাবর্ধক এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার রূপরেখা।

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়েছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

‎কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণই এখন সরকারের বড় পরীক্ষা বলে উল্লেখ করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। বাকি অর্থ আসবে কর-বহির্ভূত রাজস্ব থেকে।

আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা দেশীয় উৎস এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বাজেটের বড় ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সরকার রাজস্ব আদায় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিগত সরকারের সময় সরকারি ঋণ, সুদ ব্যয় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চিত্রও তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আসছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আগামী অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে রাজস্ব আহরণ নিয়ে। কারণ, প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হলেও সর্বোচ্চ আদায় হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এ ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এবারের বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।সরকারের বাজেট দর্শনে থাকছে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীর বিনিয়োগের সময়ে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‎চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। অথচ আগামী অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণের পথে সরকার। প্রশ্ন উঠছে, এতো বড় ব্যবধান কীভাবে?

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু করের হার বাড়িয়ে নয় বরং আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সম্পদশালী ব্যক্তি, ডিজিটাল ব্যবসা ও অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট শুধু বড় অঙ্কের হলেই হবে না, হতে হবে বাস্তবসম্মত, আস্থাবর্ধক এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার রূপরেখা।

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়েছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

‎কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণই এখন সরকারের বড় পরীক্ষা বলে উল্লেখ করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। বাকি অর্থ আসবে কর-বহির্ভূত রাজস্ব থেকে।

আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা দেশীয় উৎস এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বাজেটের বড় ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সরকার রাজস্ব আদায় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিগত সরকারের সময় সরকারি ঋণ, সুদ ব্যয় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চিত্রও তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।