নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির
- আপডেট সময় : ০২:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং বিশেষ করে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করতে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নতুন গভর্নরের ব্যবসায়িক পরিচয় থাকা অবস্থায় আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে তার নিয়োগ স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তৈরি করতে পারে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং গভর্নরের দায়িত্বের আওতাভুক্ত সব বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে সক্ষম এমন ব্যক্তিকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বা সাফল্যের পরিপন্থী শক্তি যাতে ক্রমান্বয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সুচিন্তিত কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’ এর ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কৌশল ও পথরেখা প্রণয়ন করতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের সামনে যেমন বিশাল সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে, তেমনি নানা ধরনের প্রতিকূলতা ও ঝুঁকিও আছে। এসব চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল নিতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কোনটি কোন যুক্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে বা হবে না, তা স্বচ্ছতার স্বার্থে স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রকাশ করা উচিত। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থক, আমলাতন্ত্র ও ব্যবসায়ীসহ অনেকের মধ্যে দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির বিস্তার রোধে দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা এবং শুদ্ধতা চর্চা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, দলবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিকে স্বাভাবিকতা দেওয়ার সব ধরনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিল করার প্রস্তাব দেয় টিআইবি। পাশাপাশি ডিজিএফআই, এসবি, ডিবি ও এনএসআই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এবং র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।





















সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি; প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭