ইরানের ভয়ে দুবাই ছাড়ছেন ধনকুবেররা!
- আপডেট সময় : ০২:৪২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি সংঘাত দুবাইয়ের মতো ঝলমলে বাণিজ্যনগরীকে চরম উৎকণ্ঠার শহরে পরিণত করেছে। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুবাই বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত বিশ্বের প্রভাবশালী ধনী ও পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
আকাশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দেশ ছাড়ার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাইভেট জেট। তবে চাহিদার তুলনায় উড়োজাহাজের তীব্র সংকটে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কোম্পানি বীমা জটিলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখায় ইস্তাম্বুল বা মস্কোগামী চার্টার্ড বিমানের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যাতায়াতের বিকল্প পথ হিসেবে অনেকেই এখন সড়কপথে পার্শ্ববর্তী দেশ ওমানের মাসকাট কিংবা সৌদি আরবের রিয়াদের দিকে ছুটছেন। চার-সাড়ে চার ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে মাসকাট পৌঁছালেও সেখানে ইউরোপগামী বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক পর্যটক নিরুপায় হয়ে ইউরোপের বদলে শ্রীলঙ্কার মতো গন্তব্যের টিকিট সংগ্রহ করছেন। এদিকে রিয়াদ থেকে ইউরোপ যাওয়ার জন্য প্রাইভেট জেটের ভাড়া এখন কয়েক কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এসইউভি গাড়িবহরের মাধ্যমে পর্যটকদের রিয়াদে পৌঁছে দিয়ে সেখান থেকে আকাশপথের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ পর্যটকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুবাই পর্যটন বোর্ড পর্যটকদের হোটেলে রাখার নির্দেশনা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দাবি বা হোটেল ছাড়ার নির্দেশের মতো অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠছে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ঢেউ লেগেছে ইউরোপের রাজনীতিতেও। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো সপরিবার দুবাইয়ে অবকাশ যাপনে থাকাকালীন যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সরকারি বিমানে একা দেশে ফিরে আসেন। নিজ দেশের শত শত নাগরিক সেখানে আটকা পড়ে থাকলেও মন্ত্রীর এভাবে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে রোমের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। অন্যদিকে সমুদ্রপথে থাকা হাজার হাজার পশ্চিমা পর্যটকও এখন বিপদে আছেন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরগুলো অচল হয়ে পড়ায় অন্তত ছয়টি বড় প্রমোদতরি মাঝসমুদ্রে আটকা পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটকদের জাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তাঁদের নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান






















