ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের স্কুলে আবারও মেয়েদের উপর বিষ প্রয়োগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩ ৭০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের হামেদান, ফার, আলবুর্জসহ ১০ প্রদেশের অন্তত ৩০টি স্কুলে ছাত্রীদের ওপর নতুন করে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে ভর্তি বহু শিক্ষার্থী। এদিকে ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

শনিবারেও শ্বাসকষ্টসহ বিষক্রিয়ার একাধিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করতে স্কুল প্রাঙ্গনের বাইরে জড়ো হতে দেখা যায় বহু বাবা-মাকে। এ অবস্থায় ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলরেজা রহমানি ফাজলি শনিবার (৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ ঘটনায় তদন্তকারীরা ‘সন্দেহজনক নমুনা’ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ জানতে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর ফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের ‘হালকা বিষ’ প্রয়োগ করা হয়েছে। কিছু কিছু রাজনীতিক বলছেন, মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতাকারী কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও চিত্রগুলোয় দেখা গেছে, স্কুলে মেয়েরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারা বমি বমি ভাব অনুভব করছে এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ শুধু মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। এসব ভিডিও যাচাই করা যায়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির মুখপাত্র জাহরা শেখ গত বুধবার বলেছিলেন, গত বছরের নভেম্বরে থেকে রহস্যময় এ বিষক্রিয়ার ঘটনা শুরু হলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে শ্বাসকষ্টের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনই তেহরানের দক্ষিণে পবিত্র কোম শহরের।

এসব ঘটনায় গত শুক্রবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্কুলছাত্রীদের ওপর এমন হামলার স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ইরান এ ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চলছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ইরান সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি হলো এ সমস্যা যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করা, পরিবারের উদ্বেগ নিরসনের জন্য নথিভুক্ত তথ্য সরবরাহ এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের স্কুলে আবারও মেয়েদের উপর বিষ প্রয়োগ

আপডেট সময় : ০২:২৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩

ইরানের হামেদান, ফার, আলবুর্জসহ ১০ প্রদেশের অন্তত ৩০টি স্কুলে ছাত্রীদের ওপর নতুন করে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে ভর্তি বহু শিক্ষার্থী। এদিকে ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

শনিবারেও শ্বাসকষ্টসহ বিষক্রিয়ার একাধিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করতে স্কুল প্রাঙ্গনের বাইরে জড়ো হতে দেখা যায় বহু বাবা-মাকে। এ অবস্থায় ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলরেজা রহমানি ফাজলি শনিবার (৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ ঘটনায় তদন্তকারীরা ‘সন্দেহজনক নমুনা’ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ জানতে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর ফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের ‘হালকা বিষ’ প্রয়োগ করা হয়েছে। কিছু কিছু রাজনীতিক বলছেন, মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতাকারী কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও চিত্রগুলোয় দেখা গেছে, স্কুলে মেয়েরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারা বমি বমি ভাব অনুভব করছে এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ শুধু মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। এসব ভিডিও যাচাই করা যায়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির মুখপাত্র জাহরা শেখ গত বুধবার বলেছিলেন, গত বছরের নভেম্বরে থেকে রহস্যময় এ বিষক্রিয়ার ঘটনা শুরু হলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে শ্বাসকষ্টের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনই তেহরানের দক্ষিণে পবিত্র কোম শহরের।

এসব ঘটনায় গত শুক্রবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্কুলছাত্রীদের ওপর এমন হামলার স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ইরান এ ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চলছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ইরান সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি হলো এ সমস্যা যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করা, পরিবারের উদ্বেগ নিরসনের জন্য নথিভুক্ত তথ্য সরবরাহ এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান