ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরাইল ও সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন করলো যুক্তরাষ্ট্র

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের সাথে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গতকাল শুক্রবার ইসরাইল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের উন্নত অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের কাছে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের ৩০টি অ্যাপাচি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ইসরাইল বর্তমানে গাজায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং ইসরাইলকে একটি শক্তিশালী ও প্রস্তুত আত্মরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে ও বজায় রাখতে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই প্রস্তাবিত বিক্রয় পদক্ষেপটি সেই উদ্দেশ্যগুলোর পরিকল্পনারই অংশ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

এছাড়াও প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের যৌথ হালকা কৌশলগত যানবাহন বিক্রি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম পাঠায়। যার বেশিরভাগই বিক্রির পরিবর্তে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়।

ইসরাইল ও হামাস গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ থেমে গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় একটি বড় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করায় এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সৌদি আরবের কাছে ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির জন্য ৯ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিও অনুমোদন করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র আসন্ন আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।

গত বছর ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বোমা হামলা চালিয়েছে।
ধর্মীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর ইরান ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।

সৌদি আরব, যদিও ইরানের বন্ধু নয়, ইরানের ওপর আক্রমণের বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। কারণ, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করছে। উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করবে এবং তাদের ব্যবসা‑বান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব বছরের পর বছর ধরে ইসরাইলের সাথে একটি ঐতিহাসিক স্বাভাবিকীকরণের কথা বিবেচনা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি ক্রমেই দূরবর্তী মনে হচ্ছে। কারণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখছে সৌদি আরব।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে, যার লক্ষ্য হামাসকে নিরস্ত্র করা।

এএফপির এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গেছে, হামাস গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আক্রমণ করে, যার ফলে ইসরাইলি পক্ষের ১,২২১ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তখন থেকে ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানে এই ছোট উপকূলীয় অঞ্চলে কমপক্ষে ৭১,৬৬৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরাইল ও সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন করলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সাথে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গতকাল শুক্রবার ইসরাইল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের উন্নত অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের কাছে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের ৩০টি অ্যাপাচি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ইসরাইল বর্তমানে গাজায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং ইসরাইলকে একটি শক্তিশালী ও প্রস্তুত আত্মরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে ও বজায় রাখতে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই প্রস্তাবিত বিক্রয় পদক্ষেপটি সেই উদ্দেশ্যগুলোর পরিকল্পনারই অংশ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

এছাড়াও প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের যৌথ হালকা কৌশলগত যানবাহন বিক্রি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম পাঠায়। যার বেশিরভাগই বিক্রির পরিবর্তে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়।

ইসরাইল ও হামাস গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ থেমে গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় একটি বড় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করায় এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সৌদি আরবের কাছে ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির জন্য ৯ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিও অনুমোদন করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র আসন্ন আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।

গত বছর ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বোমা হামলা চালিয়েছে।
ধর্মীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর ইরান ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।

সৌদি আরব, যদিও ইরানের বন্ধু নয়, ইরানের ওপর আক্রমণের বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। কারণ, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করছে। উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করবে এবং তাদের ব্যবসা‑বান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব বছরের পর বছর ধরে ইসরাইলের সাথে একটি ঐতিহাসিক স্বাভাবিকীকরণের কথা বিবেচনা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি ক্রমেই দূরবর্তী মনে হচ্ছে। কারণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখছে সৌদি আরব।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে, যার লক্ষ্য হামাসকে নিরস্ত্র করা।

এএফপির এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গেছে, হামাস গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আক্রমণ করে, যার ফলে ইসরাইলি পক্ষের ১,২২১ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তখন থেকে ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানে এই ছোট উপকূলীয় অঞ্চলে কমপক্ষে ৭১,৬৬৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।