ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি, কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বুধবার দুই দিনের সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এটি তার দ্বিতীয় সফর। একে ঘিরে আবারও আলোচনায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির পরিবর্তন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে দিল্লি। মোদির সফরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন নরেন্দ্র মোদি। পরের বছর পাল্টা সফরে ভারতে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ৯ বছর পর, আবারও মোদির ইসরায়েল সফর। নেতানিয়াহু বলেছেন, এ সফর দিল্লি-তেল আবিব সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।

এ ঘটনায় আলোচনা হচ্ছে ভারতের দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতির পরিবর্তন নিয়ে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন বিভাজন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভোটও দেয় ভারত।

১৯৫০ সালে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেও দীর্ঘদিন পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি দিল্লি। ষাট ও সত্তরের দশকে গোপনে ইসরায়েলের সহায়তা নিলেও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিন আন্দোলনকে সমর্থন করে ভারত। ১৯৭৪ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে স্বীকৃতি দেয় দেশটি। ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও-এর আমলে ভারত-ইসরায়েল পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়।

২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়লেও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে সমর্থন বজায় রেখেছে। সম্প্রতি পশ্চিম তীর ইস্যুতে সমালোচনায় যোগ দিলেও গাজা প্রশ্নে সতর্ক অবস্থানে দিল্লি।

মোদি বুধবারের সফরের সমালোচনা করেছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এতে ভারতের ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন-সমর্থন নীতি দুর্বল হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে ভারত, ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও আরব দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েল যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি, কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ০২:২৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বুধবার দুই দিনের সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এটি তার দ্বিতীয় সফর। একে ঘিরে আবারও আলোচনায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির পরিবর্তন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে দিল্লি। মোদির সফরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন নরেন্দ্র মোদি। পরের বছর পাল্টা সফরে ভারতে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ৯ বছর পর, আবারও মোদির ইসরায়েল সফর। নেতানিয়াহু বলেছেন, এ সফর দিল্লি-তেল আবিব সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।

এ ঘটনায় আলোচনা হচ্ছে ভারতের দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতির পরিবর্তন নিয়ে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন বিভাজন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভোটও দেয় ভারত।

১৯৫০ সালে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেও দীর্ঘদিন পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি দিল্লি। ষাট ও সত্তরের দশকে গোপনে ইসরায়েলের সহায়তা নিলেও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিন আন্দোলনকে সমর্থন করে ভারত। ১৯৭৪ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে স্বীকৃতি দেয় দেশটি। ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও-এর আমলে ভারত-ইসরায়েল পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়।

২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়লেও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে সমর্থন বজায় রেখেছে। সম্প্রতি পশ্চিম তীর ইস্যুতে সমালোচনায় যোগ দিলেও গাজা প্রশ্নে সতর্ক অবস্থানে দিল্লি।

মোদি বুধবারের সফরের সমালোচনা করেছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এতে ভারতের ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন-সমর্থন নীতি দুর্বল হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে ভারত, ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও আরব দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।