কক্সবাজারে সেনা কর্মকর্তা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ১০:০০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এই ঘটনায় দায়ের করা পৃথক অস্ত্র মামলায় ১৩ জনকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন পাঁচজন। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ও বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, রায় ঘোষণার সময় ১২ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং একজন পলাতক রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও আজ বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে ডাকাতি, হত্যা ও অস্ত্র মামলার চূড়ান্ত রায় দেন বিচারক।
রায় ঘোষণার আগেই আদালত এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে আদালত ভবন থেকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কড়া পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সেনাবাহিনীর ফাঁসিয়াখালী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ডাকাতি ও হত্যা মামলা এবং পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ব্যাপক তদন্ত শেষে গত ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। তদন্তে প্রাথমিক এজাহারভুক্ত ৬ জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন করে আরও ৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই বিচারকার্য শেষে বুধবার আদালত এই রায় দেন।
নিহত লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন্ড লাভ করেছিলেন।























সরকার পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে: প্রধানমন্ত্রী