ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেও অল্প সময়ে এত সংস্কার আগে হয়নি: আইন উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংস্কার নিয়ে অনেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেও এত অল্প সময়ে আগে এত বেশি সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

আজ (রোববার, ১৮ জানুয়ারি) সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সংস্কার নিয়ে অনেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। এত অল্প সময়ে এত বেশি সংস্কার হয়নি। ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা ফিরেছে, রেমিট্যান্স বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে, হয়তো আরও হতে পারতো।’

সুপ্রিমকোর্টে সবশেষ নিয়োগ অনেক ভাল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা করা দরকার, তাই হয়েছে। সরকারের সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতের হাতে। শুধু ১০ বছর ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বা ‘জয় বাংলা’ বললেই আর বিচারক হওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে “রুল অব ল” প্রতিষ্ঠা হবে কি না জানি না, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া অসীম স্বাধীনতা সুফল বয়ে আনে না। এজন্য উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কার দরকার। এর উদ্যোগ তাদেরকেই নিতে হবে।’

এছাড়া ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা ফিরেছে বলেও জানান তিনি। এসময় পুলিশ সংস্কার আইন নিয়ে তার হতাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘মব’ শব্দটি বলার পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মানসিকতা কাজ করে বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তাই ‘মব’ শব্দটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, গণভবনের পতনের যে আন্দোলন, তার সঙ্গে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর কেউ যদি রাস্তায় ছিনতাইকারী অথবা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু পিটিয়ে হত্যা করে, দুটোকে একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। ‘মব’ শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তাজুল ইসলামের এমন বক্তব্যের পর একাধিক বক্তা তার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। এমন বক্তব্যকে ‘থ্রেট’ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

এ সময় অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, এই টেবিলে বসেই অন্তর্বর্তী সরকারের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছিলেন ‘মব বলে কিছু নেই, এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ’…এই জাস্টিফিকেশন দাঁড় করানোর কয়েক দিন পর আমরা দেখলাম, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, তারপর দেখলাম তারা আর মব নিয়ে কথা বলছেন না। এখন আবার যখন তারা মবের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি, অচিরেই হয়তো আমাদের ওই রকম কিছু ঘটনা বা দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে।

এর আগে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আইনের শাসন চান, আবার মবকে উসকান। এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না। মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সংলাপে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে ও পরে যেকোনো সময় ইনজাস্টিসকে অ্যালাউ করলে সেটা বাউন্স ব্যাক করবেই। মবকে অ্যালাউ করা হয়েছিল, এখন মব সরকারকে খেয়ে ফেলছে। নির্বাচন কমিশনকে খেয়ে ফেলছে। দেশকেও খেয়ে ফেলতে পারে।

সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, এখন বিচার বিভাগের নয়, মবোক্রেসির রুল দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে যে তথাকথিত তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে নিতে পারে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে গড়িমসি চলে, তখন আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যত প্রতীকী ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, তা যথেষ্ট নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেও অল্প সময়ে এত সংস্কার আগে হয়নি: আইন উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

সংস্কার নিয়ে অনেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেও এত অল্প সময়ে আগে এত বেশি সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

আজ (রোববার, ১৮ জানুয়ারি) সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সংস্কার নিয়ে অনেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। এত অল্প সময়ে এত বেশি সংস্কার হয়নি। ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা ফিরেছে, রেমিট্যান্স বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে, হয়তো আরও হতে পারতো।’

সুপ্রিমকোর্টে সবশেষ নিয়োগ অনেক ভাল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা করা দরকার, তাই হয়েছে। সরকারের সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতের হাতে। শুধু ১০ বছর ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বা ‘জয় বাংলা’ বললেই আর বিচারক হওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে “রুল অব ল” প্রতিষ্ঠা হবে কি না জানি না, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া অসীম স্বাধীনতা সুফল বয়ে আনে না। এজন্য উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কার দরকার। এর উদ্যোগ তাদেরকেই নিতে হবে।’

এছাড়া ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা ফিরেছে বলেও জানান তিনি। এসময় পুলিশ সংস্কার আইন নিয়ে তার হতাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘মব’ শব্দটি বলার পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মানসিকতা কাজ করে বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তাই ‘মব’ শব্দটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, গণভবনের পতনের যে আন্দোলন, তার সঙ্গে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর কেউ যদি রাস্তায় ছিনতাইকারী অথবা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু পিটিয়ে হত্যা করে, দুটোকে একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। ‘মব’ শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তাজুল ইসলামের এমন বক্তব্যের পর একাধিক বক্তা তার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। এমন বক্তব্যকে ‘থ্রেট’ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

এ সময় অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, এই টেবিলে বসেই অন্তর্বর্তী সরকারের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছিলেন ‘মব বলে কিছু নেই, এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ’…এই জাস্টিফিকেশন দাঁড় করানোর কয়েক দিন পর আমরা দেখলাম, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, তারপর দেখলাম তারা আর মব নিয়ে কথা বলছেন না। এখন আবার যখন তারা মবের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি, অচিরেই হয়তো আমাদের ওই রকম কিছু ঘটনা বা দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে।

এর আগে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আইনের শাসন চান, আবার মবকে উসকান। এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না। মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সংলাপে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে ও পরে যেকোনো সময় ইনজাস্টিসকে অ্যালাউ করলে সেটা বাউন্স ব্যাক করবেই। মবকে অ্যালাউ করা হয়েছিল, এখন মব সরকারকে খেয়ে ফেলছে। নির্বাচন কমিশনকে খেয়ে ফেলছে। দেশকেও খেয়ে ফেলতে পারে।

সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, এখন বিচার বিভাগের নয়, মবোক্রেসির রুল দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে যে তথাকথিত তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে নিতে পারে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে গড়িমসি চলে, তখন আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যত প্রতীকী ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, তা যথেষ্ট নয়।