পিলখানার ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৪৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আজ বুধবার ((২৫ ফেব্রুয়ারি)) বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানরা, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, পিলখানার সেই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস।
তারেক রহমান বলেন, আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।
তারেক রহমান আরও বলেন, পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী এবং শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।”
সরকারপ্রধান বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি— গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।
শহিদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শহিদ সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি-তিনি যেন শহিদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ উধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সাথে ইফতার করেন।























