প্রতিবেশীর কাছে হেরে বিদায় চ্যাম্পিয়ন পিএসজির
- আপডেট সময় : ০২:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
দুই দলের স্টেডিয়াম একেবারেই লাগোয়া। এই মৌসুমেই ফরাসি লিগে উঠে এসেছে তারা। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের নগরপ্রতিদ্বন্দ্বি ক্লাব প্যারিস এফসির ফুটবলার জোনাথন ইকোনে। পিএসজিতে ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছে তাঁর। এবার সাবেক এই ক্লাবেরই হতাশার কারণ হলেন ইকোনে।
গতকাল রাতে ফ্রেঞ্চ কাপের শেষ ৩২’এ পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে প্যারিস এফসি। আর ফরাসি জায়ান্টদের বিদায় করে দেওয়া একমাত্র গোলটি আসে তাদেরই সাবেক ফুটবলার জোনাথন ইকোনের নৈপুণ্যে। নিজেদের মাঠে পার্ক দে প্রিন্সেসেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
গত ৫ জানুয়ারি লিগে প্যারিস এফসির মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি। লিগে প্রতিবেশীদের ২-১ গোলে হারালেও ফ্রেঞ্চ কাপে ধরাশায়ী হলো লুইস এনরিকের ক্লাব। ২০১৪ সালের পর এই প্রতিযোগিতায় শেষ ৩২’ থেকে বিদায় নিল পিএসজি।
পিএসজির তুলনায় প্যারিস এফসির ঘর একেবারে শূন্যই বলায় চরে। শক্তিমত্তা কিংবা সাফল্য কোনো দিক থেকেই ধনী প্রতিবেশীর ধারেকাছেও নেই ক্লাবটি। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ইতিহাসে এখনো বলার মতো কোনো অর্জনও নেই। বর্তমান দলে নেই কোনো তারকা ফুটবলারও। অথচ এই দল নিয়েই বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলকেই রুখে দিল তারা।
ফ্রেঞ্চ কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ১৬বারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ঘরের মাঠে বেশ দাপটই দেখিয়েছিল। ৭০ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখে মোট ২৫টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। তবে কাজে লাগাতে পারেনি কোনো সুযোগই। ডার্বি ম্যাচে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণের কাছে হার মানতে হয়েছে পিএসজিকে। যেখানে মাত্র চারটি শট নিয়েই শেষ হাসি হাসে প্যারিস এফসি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে তেমন বড় কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। বল পজিশনে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের বক্সে সুবিধা করতে পারছিল না পিএসজি, আর প্রতিবেশির আধিপত্যের মধ্যে শৃঙ্খলাবদ্ধ আর সুসংহত ছিল প্যারিস। বিরতির আগে সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। তবে খাভিচা কাভারেস্কেলিয়ার নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন সফরকারী দলের গোলকিপার ওবেদ এনকামবাদিও। ম্যাচে রীতিমতো প্রাচীর হয়ে যাওয়া এই গোলকিপার মোট সাতটি সেভ করেন।
বিরতির পর পিএসজি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কয়েকটি দারুণ সুযোগও তৈরি করে। তবে পিএসজির একের পর এক আক্রমণ সামলে দ্রুত এক প্রতি আক্রমণ থেকে আঘাত করে প্যারিস এফসি। ৭৪ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন জোনাথন ইকোনে।
এরপর আরও সুযোগ এসেছিল পিএসজির। হতাশার রাতে তাদের পাশে ছিল না ভাগ্যও, একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পিএসজির ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা আর প্যারিস এফসির গোলকিপারের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক এক জয় নিয়েই ফ্রেঞ্চ কাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে প্যারিস এফসি।
জয়সূচক গোল করা উচ্ছসিত ইকোনে ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা সত্যিই খুশি, আমরা ভালোভাবে রক্ষণভাগ সামলেছি। আমার গোলের জন্য আমি খুবই খুশি, এটি এক আনন্দময় মুহূর্ত, এবং আশা করি এটি আমার শেষ গোল হবে না।’


























