ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফের স্প্যানিশ সুপার কাপের চ্যাম্পিয়ন বার্সা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের কাছেই রাখল বার্সেলোনা। গতকাল রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে ১৬বারের মতো এই ট্রফি জিতল বার্সা। কোচিং ক্যারিয়ারে মোট আটবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখলেন ফ্লিক। বার্সার হয়ে জার্মান কোচের এটি চতুর্থ শিরোপা।

জমজমাট এল ক্লাসিকোয় জোড়া গোল করে সবটুকু আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন রাফিনহা। ক্যাম্প ন্যূ’ এর ক্লাবটির অন্য গোলটি এসেছে রবার্ট লেভানডফস্কির পা থেকে। আর গোলখরা কাটিয়ে ফিরে আসার আভাস দেওয়া ভিনিসিয়ুসের গোলের পর রিয়ালের দ্বিতীয় গোল এসেছে গঞ্জালো গার্সিয়ার কাছ থেকে।

নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়া মাঠে নেমে প্রথামার্ধে রিয়াল ছিল পুরোই খাপছাড়া। বিপরীতে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নামা বার্সা বল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে বেশ চাপেই রাখে। শুরুর অর্ধের যোগ করা সময়ের পাগলাটে তিন গোলে সমতায় ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি পায় বার্সাই। ম্যাচে মোট ৬৮ শতাংশ বল পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে লামিনে ইয়ামাল-রাফিনহারা। যেখানে রিয়ালের নেওয়া ১২ শটের ১০টি ছিল লক্ষ্যে।

বার্সেলোনা বল দখলের আধিপত্যের মধ্যেই বল জালে পাঠানোর প্রথম বড় সুযোগটা আসে রিয়ালের। ১৪ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস। তবে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের নেওয়া দূর্বল শট ঠেকিয়ে দিতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি বার্সার গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়াকে।

২৮ মিনিটে প্রথম লক্ষ্যে শট রাখে বার্সেলোনা। কিন্তু থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেননি রাফিনহা। ৩৪ মিনিটে দলকে লিড এনে দেওয়ার অসাধারণ এক সুযোগ হাতছাড়া করেন ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার। তবে সেই সুযোগ মিসের প্রায়শ্চিত্ত করতে মোটেও সময় নেননি। এক মিনিট দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ১-০ করেন রাফিনহা।

ফার্মিন লোপেজের বাড়ানো বল থেকে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনহা। সামনে ছিলেন কেবল চুয়ামেনি। রিয়ালের ফরাসি মিডফিল্ডারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রাফিনহা।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যাবে বার্সা—এমনটাই ধরে নিয়েছিল অনেকে। তবে চরম উত্তেজনার শুরুটা হয় সেখান থেকেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে একক নৈপুণ্যে রিয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস। গার্সিয়ার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। জুল কুন্দের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। সেখানে আরেক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

গত ৪ অক্টোবরের পর এই প্রথম রেয়ালের হয়ে গোলের দেখা পেলেন ভিনি। এরমধ্যে জাতীয় দল আর ক্লাবের জার্সিতে তাঁর খেলা হয়েছে ১৯ ম্যাচ। দীর্ঘ এই হতাশার সময় পেছনে ফেলে অবশেষে গোল করার ভুল যাওয়া স্বাদ পেলেন ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গার।

তারপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে লেভানডফস্কির গোল আবারও বার্সার এগিয়ে যাওয়ার উদযাপনের উপলক্ষ্য এনে দেয়। পেদ্রির ডিফেন্স চেরা এক পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে লব শট নেন পোলিশ তারকা ফরোয়ার্ড, বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

বার্সার ২-১ এগিয়ে যাওয়ার উদযাপন শেষ হতে না হতেই সমতায় ফেরার বুনো উল্লাসে মাতে রিয়াল মাদ্রিদ। ইনজুরি টাইমের ৬ মিনিটে এবার গোলদাতার নাম গঞ্জালো গার্সিয়া। কর্নার থেকে ডিন হাউসেনের নেওয়া হেড রাফিনিয়ার মাথা ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার ভেতর নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট করেন গার্সিয়া। বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

যোগ করা সময়ের এমন অবিশ্বাস্য ‘ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার’ নাটক দেখা যায়নি এ শতাব্দিতে। একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো ক্লাসিকোয় ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেখা গেল তিন গোল।

বিরতের আগে দুই দলের এমন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমে ক্ষীর হয়ে যাওয়া লড়াই দেখে অনেকেই দ্বিতীয়ার্ধে গোল উৎসবের স্বাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই হয়নি। ৭৩ মিনিটে জয়সূচক গোল পেয়ে যায় বার্সা। কাতালান ক্লাবটির ৩-২ ব্যবধান করা গোলটি করেন রাফিনহা। বক্সের ভেতর স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাফিনিয়ার শট আসেন্সিওর পায়ে লেগে জালে জড়ায়।

এবার হান্সি ফ্লিকের ‘প্রিয় শিষ্যের’ ব্যাখা দেওয়ার সময়ও এসেছে। বার্সাকে জয় এনে দেওয়া গোলটি সবশেষ পাঁচ ম্যাচে রাফিনহার সপ্তম গোল এটি। মৌসুমের শুরুর দিকে চোটে পড়া রাফিনহা যখন থেকে দলে ফিরেছে, এরপর একটি ম্যাচও হারেনি বার্সা। মাঠে তাঁর উপস্থিতি স্প্যানিশ জায়ান্টদের খেলায় রেখেছে স্পষ্ট ছাপ। রাফিনহা ফেরার পর ১৪ ম্যাচের ১৩টিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। এমন পরিসংখ্যানের পর এই দলের অধিনায়ককে তো কোচের প্রিয় শিষ্য বলায় যায়।

রাফিনহা জাদুর আগে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের সুযোগ পেয়েছিল দুই দলই। ৫২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়ুসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গার্সিয়া। ফিরতি বল উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।

৭১ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল বার্সেলোনার। ১০ গজ দূর থেকে স্লাইডে ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। আর তারপরই আসে রাফিনহার ৩-২ ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোল।

সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া রিয়াল আশা দেখে গার্সিয়ার বদলি হিসেবে কিলিয়ান এমবাপে নামলে। সেমি ফাইনালে খেলতে না পারলেও ফাইনালে আগে যাকে উড়িয়ে নেওয়া হয় সৌদি আরবে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এই ফরাসি তারকাকে ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং।

বাকি সময়ে সুযোগ পায় দুই দলই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা বার্সেলোনার মার্কাস র‍্যাশফোর্ড রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারান। ১২ গজ দূর থেকে গোলকিপার বরাবর শট নেন রেয়ালের আলভারো কারেরাস। শেষ মুহূর্তে আসেন্সিওর হেড ঠেকান গার্সিয়া।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে বার্সা। সবশেষ ৬ এল ক্লাসিকোর পাঁচটিতেই জিতল তারা। বিপরীতে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া রিয়াল এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পঞ্চম হারের তেতো স্বাদ পেল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফের স্প্যানিশ সুপার কাপের চ্যাম্পিয়ন বার্সা

আপডেট সময় : ১২:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের কাছেই রাখল বার্সেলোনা। গতকাল রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে ১৬বারের মতো এই ট্রফি জিতল বার্সা। কোচিং ক্যারিয়ারে মোট আটবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখলেন ফ্লিক। বার্সার হয়ে জার্মান কোচের এটি চতুর্থ শিরোপা।

জমজমাট এল ক্লাসিকোয় জোড়া গোল করে সবটুকু আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন রাফিনহা। ক্যাম্প ন্যূ’ এর ক্লাবটির অন্য গোলটি এসেছে রবার্ট লেভানডফস্কির পা থেকে। আর গোলখরা কাটিয়ে ফিরে আসার আভাস দেওয়া ভিনিসিয়ুসের গোলের পর রিয়ালের দ্বিতীয় গোল এসেছে গঞ্জালো গার্সিয়ার কাছ থেকে।

নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়া মাঠে নেমে প্রথামার্ধে রিয়াল ছিল পুরোই খাপছাড়া। বিপরীতে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নামা বার্সা বল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে বেশ চাপেই রাখে। শুরুর অর্ধের যোগ করা সময়ের পাগলাটে তিন গোলে সমতায় ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি পায় বার্সাই। ম্যাচে মোট ৬৮ শতাংশ বল পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে লামিনে ইয়ামাল-রাফিনহারা। যেখানে রিয়ালের নেওয়া ১২ শটের ১০টি ছিল লক্ষ্যে।

বার্সেলোনা বল দখলের আধিপত্যের মধ্যেই বল জালে পাঠানোর প্রথম বড় সুযোগটা আসে রিয়ালের। ১৪ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস। তবে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের নেওয়া দূর্বল শট ঠেকিয়ে দিতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি বার্সার গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়াকে।

২৮ মিনিটে প্রথম লক্ষ্যে শট রাখে বার্সেলোনা। কিন্তু থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেননি রাফিনহা। ৩৪ মিনিটে দলকে লিড এনে দেওয়ার অসাধারণ এক সুযোগ হাতছাড়া করেন ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার। তবে সেই সুযোগ মিসের প্রায়শ্চিত্ত করতে মোটেও সময় নেননি। এক মিনিট দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ১-০ করেন রাফিনহা।

ফার্মিন লোপেজের বাড়ানো বল থেকে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনহা। সামনে ছিলেন কেবল চুয়ামেনি। রিয়ালের ফরাসি মিডফিল্ডারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রাফিনহা।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যাবে বার্সা—এমনটাই ধরে নিয়েছিল অনেকে। তবে চরম উত্তেজনার শুরুটা হয় সেখান থেকেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে একক নৈপুণ্যে রিয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস। গার্সিয়ার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। জুল কুন্দের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। সেখানে আরেক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

গত ৪ অক্টোবরের পর এই প্রথম রেয়ালের হয়ে গোলের দেখা পেলেন ভিনি। এরমধ্যে জাতীয় দল আর ক্লাবের জার্সিতে তাঁর খেলা হয়েছে ১৯ ম্যাচ। দীর্ঘ এই হতাশার সময় পেছনে ফেলে অবশেষে গোল করার ভুল যাওয়া স্বাদ পেলেন ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গার।

তারপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে লেভানডফস্কির গোল আবারও বার্সার এগিয়ে যাওয়ার উদযাপনের উপলক্ষ্য এনে দেয়। পেদ্রির ডিফেন্স চেরা এক পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে লব শট নেন পোলিশ তারকা ফরোয়ার্ড, বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

বার্সার ২-১ এগিয়ে যাওয়ার উদযাপন শেষ হতে না হতেই সমতায় ফেরার বুনো উল্লাসে মাতে রিয়াল মাদ্রিদ। ইনজুরি টাইমের ৬ মিনিটে এবার গোলদাতার নাম গঞ্জালো গার্সিয়া। কর্নার থেকে ডিন হাউসেনের নেওয়া হেড রাফিনিয়ার মাথা ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার ভেতর নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট করেন গার্সিয়া। বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

যোগ করা সময়ের এমন অবিশ্বাস্য ‘ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার’ নাটক দেখা যায়নি এ শতাব্দিতে। একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো ক্লাসিকোয় ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেখা গেল তিন গোল।

বিরতের আগে দুই দলের এমন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমে ক্ষীর হয়ে যাওয়া লড়াই দেখে অনেকেই দ্বিতীয়ার্ধে গোল উৎসবের স্বাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই হয়নি। ৭৩ মিনিটে জয়সূচক গোল পেয়ে যায় বার্সা। কাতালান ক্লাবটির ৩-২ ব্যবধান করা গোলটি করেন রাফিনহা। বক্সের ভেতর স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাফিনিয়ার শট আসেন্সিওর পায়ে লেগে জালে জড়ায়।

এবার হান্সি ফ্লিকের ‘প্রিয় শিষ্যের’ ব্যাখা দেওয়ার সময়ও এসেছে। বার্সাকে জয় এনে দেওয়া গোলটি সবশেষ পাঁচ ম্যাচে রাফিনহার সপ্তম গোল এটি। মৌসুমের শুরুর দিকে চোটে পড়া রাফিনহা যখন থেকে দলে ফিরেছে, এরপর একটি ম্যাচও হারেনি বার্সা। মাঠে তাঁর উপস্থিতি স্প্যানিশ জায়ান্টদের খেলায় রেখেছে স্পষ্ট ছাপ। রাফিনহা ফেরার পর ১৪ ম্যাচের ১৩টিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। এমন পরিসংখ্যানের পর এই দলের অধিনায়ককে তো কোচের প্রিয় শিষ্য বলায় যায়।

রাফিনহা জাদুর আগে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের সুযোগ পেয়েছিল দুই দলই। ৫২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়ুসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গার্সিয়া। ফিরতি বল উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।

৭১ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল বার্সেলোনার। ১০ গজ দূর থেকে স্লাইডে ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। আর তারপরই আসে রাফিনহার ৩-২ ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোল।

সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া রিয়াল আশা দেখে গার্সিয়ার বদলি হিসেবে কিলিয়ান এমবাপে নামলে। সেমি ফাইনালে খেলতে না পারলেও ফাইনালে আগে যাকে উড়িয়ে নেওয়া হয় সৌদি আরবে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এই ফরাসি তারকাকে ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং।

বাকি সময়ে সুযোগ পায় দুই দলই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা বার্সেলোনার মার্কাস র‍্যাশফোর্ড রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারান। ১২ গজ দূর থেকে গোলকিপার বরাবর শট নেন রেয়ালের আলভারো কারেরাস। শেষ মুহূর্তে আসেন্সিওর হেড ঠেকান গার্সিয়া।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে বার্সা। সবশেষ ৬ এল ক্লাসিকোর পাঁচটিতেই জিতল তারা। বিপরীতে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া রিয়াল এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পঞ্চম হারের তেতো স্বাদ পেল।