বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
২০০২ সালের ২২ জুন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ তৈরি করে তারেক ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। ২০০৯ সালে দলের সম্মেলনে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরপরই তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি।
এর মধ্যে এক-এগারোর সময় জেলে যেতে হয়েছিল তারেক রহমানকে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকার তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিল। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে এতকিছুর পরও তারেক রহমানকে দমিয়ে রাখা যায়নি। প্রতিকূল সময়েও সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমকে দলকে রাজপথে রেখেছেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানায় লাখো মানুষ। পূর্বাচলে লাখো মানুষের সামনে সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে।করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। ফলে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি আর রাজনীতিতে ফিরে আসেননি। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।
তারেক রহমানের আগে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আশির দশকের শুরু থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। ওই আন্দোলনেই মায়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন তারেক রহমান।
বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন।
২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেফতার হন এবং চিকিৎসা নিতে লন্ডন যান।২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন।
তারেক রহমান ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত করা হয়।























পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী