ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা, কোন গ্রেডে কত?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার মাঝে নতুন বার্তা দিল অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক সংকট এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (13th National Parliament Election) সামনে রেখে আপাতত নতুন পে স্কেল ঘোষণা থেকে সরে এসেছে সরকার। তবে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance – DA) প্রদানের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই মহার্ঘ ভাতা পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময়ের স্বল্পতা এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল (New Pay Scale in BD) ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের (National Pay Commission) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেবে, যা পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা যুক্তিযুক্ত নয়, তবে কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় পে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

বিদ্যমান আলোচনা এবং প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার হার নিম্নরূপ হতে পারে:

১ম থেকে ৯ম গ্রেড: এই গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ শতাংশ (15% DA) হারে মহার্ঘ ভাতা।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: এই গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ (20% DA) হারে মহার্ঘ ভাতা।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কাঠামো (8th Pay Scale) অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালে কার্যকর হয়েছিল। সাধারণত প্রতি ৫ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল ঘোষণার নিয়ম থাকলেও ৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতি (Inflation) বিবেচনায় এই ভাতার দাবি জোরালো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ৫ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা (Special Incentive) প্রদান করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫% ও ২০% মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হলে নির্দিষ্ট কিছু গ্রেডের (যেমন: ১১তম বা ১৬তম গ্রেড) মূল বেতনের সাথে কত টাকা যোগ হতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য হিসাব নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো।

১. হিসাবের ভিত্তি: সাধারণত মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান মূল বেতনের (Basic Salary) ওপর নির্ধারণ করা হয়। তবে ইনক্রিমেন্ট যোগ হওয়ার পর যাদের মূল বেতন বর্তমানে বেশি, তাদের ভাতার পরিমাণ আরও বাড়বে।

২. ৫% প্রণোদনা বনাম মহার্ঘ ভাতা: বর্তমানে ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর হওয়া ৫% বিশেষ প্রণোদনা সবাই পাচ্ছেন। নতুন করে ১৫% বা ২০% মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা হলে এটি তার অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হতে পারে অথবা সমন্বয় করা হতে পারে।

৩. ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: এই স্তরের কর্মচারীদের জন্য ২০% ভাতার কথা আলোচনা হচ্ছে কারণ নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির (Inflation) চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা, কোন গ্রেডে কত?

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার মাঝে নতুন বার্তা দিল অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক সংকট এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (13th National Parliament Election) সামনে রেখে আপাতত নতুন পে স্কেল ঘোষণা থেকে সরে এসেছে সরকার। তবে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance – DA) প্রদানের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই মহার্ঘ ভাতা পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময়ের স্বল্পতা এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল (New Pay Scale in BD) ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের (National Pay Commission) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেবে, যা পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা যুক্তিযুক্ত নয়, তবে কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় পে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

বিদ্যমান আলোচনা এবং প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার হার নিম্নরূপ হতে পারে:

১ম থেকে ৯ম গ্রেড: এই গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ শতাংশ (15% DA) হারে মহার্ঘ ভাতা।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: এই গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ (20% DA) হারে মহার্ঘ ভাতা।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কাঠামো (8th Pay Scale) অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালে কার্যকর হয়েছিল। সাধারণত প্রতি ৫ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল ঘোষণার নিয়ম থাকলেও ৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতি (Inflation) বিবেচনায় এই ভাতার দাবি জোরালো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ৫ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা (Special Incentive) প্রদান করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫% ও ২০% মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হলে নির্দিষ্ট কিছু গ্রেডের (যেমন: ১১তম বা ১৬তম গ্রেড) মূল বেতনের সাথে কত টাকা যোগ হতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য হিসাব নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো।

১. হিসাবের ভিত্তি: সাধারণত মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান মূল বেতনের (Basic Salary) ওপর নির্ধারণ করা হয়। তবে ইনক্রিমেন্ট যোগ হওয়ার পর যাদের মূল বেতন বর্তমানে বেশি, তাদের ভাতার পরিমাণ আরও বাড়বে।

২. ৫% প্রণোদনা বনাম মহার্ঘ ভাতা: বর্তমানে ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর হওয়া ৫% বিশেষ প্রণোদনা সবাই পাচ্ছেন। নতুন করে ১৫% বা ২০% মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা হলে এটি তার অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হতে পারে অথবা সমন্বয় করা হতে পারে।

৩. ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: এই স্তরের কর্মচারীদের জন্য ২০% ভাতার কথা আলোচনা হচ্ছে কারণ নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির (Inflation) চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।