মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি
- আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তা ঢাকা সফর করেন। চলে দফায় দফায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। নেয়া হয় চুক্তি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ।
এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীও জানান, বাণিজ্য চুক্তির কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিপক্ষে যায় তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই আছে। আর চুক্তিতে সই করা সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন, চুক্তিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক, তবে চুক্তির ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট-নীতি’ মেনে কাজ করবে সরকার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের এগ্রিমেন্ট অন্যান্য দেশের এগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়েন, তাহলেই বুঝবেন যে আমরা কী রেট পেয়েছি। পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে রয়েছে ধোঁয়াশা। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে শুল্ক কমলেও এটি দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। একে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার হুমকি হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে- সেখানে বাজার সুবিধার বিনিময়ে শ্রম অধিকার, মেধাস্বত্ব, পরিবেশনীতি, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সমন্বয় এর মতো বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে। সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলছেন, এই চুক্তিতে দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ভারতের সাথে সম্পর্কে ভারসাম্যে মার্কিন এই নিরাপত্তা আইন চাপ সৃষ্টি করবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেকগুলো কমপ্লায়েন্স, অনেকগুলো জিনিস মেনে চলতে হবে এবং এটা বাংলাদেশের বৃহত্তর স্বার্থের পরিপন্থী বলা হচ্ছে। এর কারণ, আমাদের তো চীন, ভারত বা অন্য অনেক দেশের সাথে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আমাদের বিজনেস আছে। সুতরাং আমরা যদি সবকিছু এক দেশের সাথে দিয়ে দিই, তাহলে তো অন্য রাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্কের কী হবে? এটাকে নিয়ে আমার মনে হয় বৃহত্তর পরিবেশে এটা আলোচনা হলে ভালো হয়।’
এছাড়াও, এই নীতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সবার সাথে বন্ধুত্ব-নীতির পরিপন্থী এবং বর্তমানের বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিরও সাংঘর্ষিক। বিশ্লেষকদের মতে এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রর কৌশলগত বলয়ে অংশ নিতে বাধ্য হবে।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশ চুক্তি করতে পারে অন্য দেশের সাথে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের চুক্তি হতে পারে। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আদেশ মানতে বাধ্য নই। সরকার বলছেন যে বাংলাদেশ হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ, কিন্তু সরকারের ভূমিকা কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যদের যে তৎপরতা, সেটাতে মনে হচ্ছে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রকে সার্ভিস—যুক্তরাষ্ট্র শুধু নয়, এটা যুক্তরাষ্ট্র বললেও ভুল হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্পোরেশন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে সেবা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের বড় ধরনের কিছু গোষ্ঠী, তারা এই কাজগুলো করেছে। বর্তমান সরকার নির্বাচিত সরকার, তাদের উচিত হচ্ছে এটা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করা।’
পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি দ্রুত এই চুক্তির বিভিন্নধারা নিয়ে কূটনৈতিক প্রয়াস চালানোর পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

























এআই ক্যামেরার ভয়ে ফাঁকা রাস্তাতেও সিগন্যাল মানছেন চালকেরা