শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি: অভিযোগ করে না ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ১২:১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থামছে না শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি। এর এসব ক্ষেত্রে, গ্রেপ্তার হলেও বেশিরভাগ ঘটনার বিচার হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌন নিপীড়নের শিকার ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীই নানা ভয়ে অভিযোগ করেন না। সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের সোচ্চার হতে হবে। আর আইনের শক্ত প্রয়োগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ করতে পারে।
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩ এপ্রিল মামলা করা হয়। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয় ১৫ দিন পর। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ওই শিক্ষক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গেল বছরের ২রা নভেম্বর মাদ্রাসা ছুটি হলে ভয় দেখিয়ে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। এভাবে একাধিকবার ধর্ষণ করে ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। পরে মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনা জানাজানি হয়।
এর আগে, ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে র্যাবের হাতে আটক হন ওই শিক্ষক। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বায়তুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়।
ধর্ষণ ছাড়াও ছেলে শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বলাৎকারের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয় মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল মুন্নাফ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌন নিপীড়নের শিকার ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীই নানা ভয়ের কারণে অভিযোগ করেন না। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও বাবা-মা হারানো সন্তানেরা মাদ্রাসায় বেশি যৌন নির্যাতনে শিকার হন। সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও অভিভাবকদের শক্ত অবস্থানই পারে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিশ্লেষক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ধর্মীয়ভাবে অসম্ভব রকমের সচেতন কিন্তু নৈতিকভাবে ঠিক ততটাই অসচেতন। যখন সন্তান বাড়ি ফিরে বলছে শিক্ষক কোনো না কোনোভাবে তাকে ব্যাড টাচ করছে কিংবা বেত্রাঘাত করছে যেটাই হোক, নিপীড়নের শিকার হচ্ছে, আমরা বাবামায়েরা ধরে নেই সে পড়তে চায় না বলে সে শিক্ষকের নামে বদনাম করছে। এই ধারণা থেকে বের হতে হবে। বাচ্চারা যখন নিপীড়নের কথা বলছে তখন বাবামাকে সেটা আমলে নিতে হবে।’
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাজাহান জানান, মামলায় তথ্য উপাত্তের দুর্বলতা ও উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন কমছে না।
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাজাহান বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে যেগুলো হচ্ছে এগুলো আসলে খুবই ঘৃণ্য অপরাধ আমি মনে করি। এটাকে ধামাচাপা না দিয়ে এটার একজেম্পলারি একটা পানিশমেন্ট যদি দুই একটার হয়, এটা একটা ইনস্ট্যান্ট হলে এটা আরও দশটা ক্ষেত্রে এটার সুফল আমরা পাবো। সামাজিক অবস্থান থেকে বিচার করবেন না। জাজ সাহেব বিচার করবেন এভিডেন্সের আলোকে। আইনজীবী হিসেবে বলেন, অভিভাবক হিসেবে বলেন, এটাকে আপনার মেনে নেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের চার মাসে ১ হাজার ২৮ জন নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে।























জ্বালানি তেল নিয়ে বড় সুখবর