ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১১তম গ্রেডের আশ্বাসে প্রাথমিকের শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১১তম গ্রেডের আশ্বাসে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা। সোমবার (১০ নভেম্বর) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে রাতে এই ঘোষণা দেন তারা।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদেরর আহ্বায়ক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের নিশ্চয়তা দিয়েছে অর্থ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে কথায় আস্থা-বিশ্বাস রাখছি আমরা।

তিনি বলেন, চলমান আন্দোলন আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে প্রত্যাহার করবো। আগামীকাল থেকে ক্লাসে ফিরে যাবো।

খায়রুন নাহার লিপি বলেন, রাষ্ট্র অস্থিতিশীল করার জন্য কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আসিনি। আমরা মূলত নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য, নিজেদের অভিব্যক্তি সমস্বরে উচ্চারণের দৃপ্ততায় দাঁড়িয়েছি।

এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১-তে উন্নীত করতে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান। আজ (সোমবার, ১০ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ও ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’—এর নেতাদের সঙ্গে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ অর্থ বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত কয়েকদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থা কর্মসূচি পালন করে আসছিল। তাদের দাবিগুলো— সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, শিক্ষকদের ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

বিকেলের সভায় শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন স্কেল উন্নীত করার বিষয়ে অর্থ সচিব জানান, বেতন গ্রেড ১১তম তে উন্নীত করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ এ পাঠিয়েছে। এটি জাতীয় বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পরে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

শিক্ষকদের ১০ এবং ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে অর্থ সচিব জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অর্থ বিভাগে একটি প্রস্তাব করলে অর্থ বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।

এছাড়া শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধিমালার আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বৈঠকে সব আলোচনার ফলে শিক্ষক নেতারা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

১১তম গ্রেডের আশ্বাসে প্রাথমিকের শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১১:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

১১তম গ্রেডের আশ্বাসে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা। সোমবার (১০ নভেম্বর) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে রাতে এই ঘোষণা দেন তারা।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদেরর আহ্বায়ক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের নিশ্চয়তা দিয়েছে অর্থ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে কথায় আস্থা-বিশ্বাস রাখছি আমরা।

তিনি বলেন, চলমান আন্দোলন আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে প্রত্যাহার করবো। আগামীকাল থেকে ক্লাসে ফিরে যাবো।

খায়রুন নাহার লিপি বলেন, রাষ্ট্র অস্থিতিশীল করার জন্য কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আসিনি। আমরা মূলত নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য, নিজেদের অভিব্যক্তি সমস্বরে উচ্চারণের দৃপ্ততায় দাঁড়িয়েছি।

এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১-তে উন্নীত করতে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান। আজ (সোমবার, ১০ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ও ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’—এর নেতাদের সঙ্গে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ অর্থ বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত কয়েকদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থা কর্মসূচি পালন করে আসছিল। তাদের দাবিগুলো— সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, শিক্ষকদের ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

বিকেলের সভায় শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন স্কেল উন্নীত করার বিষয়ে অর্থ সচিব জানান, বেতন গ্রেড ১১তম তে উন্নীত করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ এ পাঠিয়েছে। এটি জাতীয় বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পরে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

শিক্ষকদের ১০ এবং ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে অর্থ সচিব জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অর্থ বিভাগে একটি প্রস্তাব করলে অর্থ বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।

এছাড়া শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধিমালার আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বৈঠকে সব আলোচনার ফলে শিক্ষক নেতারা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।