ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, খেজুরের রস খাওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১০০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫ জেলাতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন।

উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০%)। গ্লোবালি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২%।

আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলা জেলায় নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য রোগী মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল না খাওয়া এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস, খেজুরের রস খাওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫ জেলাতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন।

উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০%)। গ্লোবালি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২%।

আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলা জেলায় নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য রোগী মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল না খাওয়া এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।