ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাওয়াদ-রিফাতের ব্যাটে রেকর্ড গড়ে জিতল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জিততে হলে গড়তে হবে রেকর্ড। কঠিন চ্যালেঞ্জে রান তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত জুটি গড়লেন জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি জাওয়াদ। তবে দুই ওপেনারের দেড়শছোঁয়া জুটিতে রেকর্ড গড়ে এশিয়া কাপে পথচলা শুরু করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

দুবাইয়ে আইসিসি একাডেমি মাঠে শনিবারের ম্যাচে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৩ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আফগানদের দেওয়া ২৮৩ রানের লক্ষ্য ৭ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলেছে আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন দল।

যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই ২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারতীয় যুবারা।

এছাড়া সব মিলিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৪ রানের লক্ষ্যে ৬ উইকেটে জিতেছিল তারা।

বাংলাদেশের জয়ের বড় কারিগর দুই ওপেনার জাওয়াদ ও রিফাত। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১৫১ রান। ৯ চার ও ৬ ছক্কায় ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন জাওয়াদ। রিফাতের ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান।

গত দুই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার হ্যাটট্রিকের মিশনে এশিয়া কাপ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে শুরুটা চ্যাম্পিয়নের মতোই করেছে তারা।

বিশাল লক্ষ্যে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। মাত্র ১৫ ওভারের মধ্যে একশ রান করে ফেলে তারা। এরপর কিছুটা কমে রানের গতি। শেষ পর্যন্ত ১৬০ বলে ১৫১ রান করে ভাঙে ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটারের উদ্বোধনী জুটি।

যুব এশিয়া কাপে রান তাড়ায় এটি সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। সব মিলিয়ে যুব এশিয়া কাপে এর চেয়ে বড় ওপেনিং জুটি আছে আর একটি। গত বছর ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান যোগ করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার শাহজাইব খান ও উসমান খান।

৫ চারের সঙ্গে ২ ছক্কা মেরে ৬৮ বলে ৬২ রান করে আউট হন বাঁহাতি রিফাত। কিছুক্ষণ পর জাওয়াদ ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অফে। সামনে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন খাতির স্ট্যানিকজাই। দুই ওপেনারকেই ফেরান রুহুল্লাহ আরব।

এরপর তামিম ও কালাম সিদ্দিকি এলিনের ৭১ বলে ৬৬ রানের জুটিতে আরও অনেকটা পথ এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩৬ বলে ২৯ রান করে ফেরেন এলিন। অধিনায়ক তামিমের ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ বলে ৪৮ রান।

শেষ দিকে রিজান হোসেন ১৩ বলে ১৭ ও শেখ পারভেজ রহমান জীবন ৭ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি আফগানিস্তান। তিন নম্বরে নেমে দায়িত্ব নেন ফয়সাল শিনোজাদা। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ৯৪ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটার।

বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৬ ইনিংসে শিনোজাদার এটির তৃতীয় সেঞ্চুরি। যুব ওয়ানডেতে নির্দিষ্ট কোনো দলের বিপক্ষে এটিই সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড।

শিনোজাদার সেঞ্চুরির সঙ্গে উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই ৪৪, আজিজুল্লাহ মিয়াখিল ৩৬, আব্দুল আজিজ ১৬ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেললে ৭ উইকেটে ২৮৩ রানের পুঁজি পেয়েছে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার আহমেদ।

একই মাঠে সোমবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাওয়াদ-রিফাতের ব্যাটে রেকর্ড গড়ে জিতল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জিততে হলে গড়তে হবে রেকর্ড। কঠিন চ্যালেঞ্জে রান তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত জুটি গড়লেন জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি জাওয়াদ। তবে দুই ওপেনারের দেড়শছোঁয়া জুটিতে রেকর্ড গড়ে এশিয়া কাপে পথচলা শুরু করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

দুবাইয়ে আইসিসি একাডেমি মাঠে শনিবারের ম্যাচে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৩ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আফগানদের দেওয়া ২৮৩ রানের লক্ষ্য ৭ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলেছে আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন দল।

যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই ২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারতীয় যুবারা।

এছাড়া সব মিলিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৪ রানের লক্ষ্যে ৬ উইকেটে জিতেছিল তারা।

বাংলাদেশের জয়ের বড় কারিগর দুই ওপেনার জাওয়াদ ও রিফাত। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১৫১ রান। ৯ চার ও ৬ ছক্কায় ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন জাওয়াদ। রিফাতের ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান।

গত দুই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার হ্যাটট্রিকের মিশনে এশিয়া কাপ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে শুরুটা চ্যাম্পিয়নের মতোই করেছে তারা।

বিশাল লক্ষ্যে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। মাত্র ১৫ ওভারের মধ্যে একশ রান করে ফেলে তারা। এরপর কিছুটা কমে রানের গতি। শেষ পর্যন্ত ১৬০ বলে ১৫১ রান করে ভাঙে ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটারের উদ্বোধনী জুটি।

যুব এশিয়া কাপে রান তাড়ায় এটি সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। সব মিলিয়ে যুব এশিয়া কাপে এর চেয়ে বড় ওপেনিং জুটি আছে আর একটি। গত বছর ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান যোগ করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার শাহজাইব খান ও উসমান খান।

৫ চারের সঙ্গে ২ ছক্কা মেরে ৬৮ বলে ৬২ রান করে আউট হন বাঁহাতি রিফাত। কিছুক্ষণ পর জাওয়াদ ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অফে। সামনে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন খাতির স্ট্যানিকজাই। দুই ওপেনারকেই ফেরান রুহুল্লাহ আরব।

এরপর তামিম ও কালাম সিদ্দিকি এলিনের ৭১ বলে ৬৬ রানের জুটিতে আরও অনেকটা পথ এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩৬ বলে ২৯ রান করে ফেরেন এলিন। অধিনায়ক তামিমের ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ বলে ৪৮ রান।

শেষ দিকে রিজান হোসেন ১৩ বলে ১৭ ও শেখ পারভেজ রহমান জীবন ৭ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি আফগানিস্তান। তিন নম্বরে নেমে দায়িত্ব নেন ফয়সাল শিনোজাদা। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ৯৪ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটার।

বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৬ ইনিংসে শিনোজাদার এটির তৃতীয় সেঞ্চুরি। যুব ওয়ানডেতে নির্দিষ্ট কোনো দলের বিপক্ষে এটিই সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড।

শিনোজাদার সেঞ্চুরির সঙ্গে উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই ৪৪, আজিজুল্লাহ মিয়াখিল ৩৬, আব্দুল আজিজ ১৬ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেললে ৭ উইকেটে ২৮৩ রানের পুঁজি পেয়েছে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার আহমেদ।

একই মাঠে সোমবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।