ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছে ২০ জন
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩১ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ১৫ দিনে (১৪ থেকে ২৮ মার্চ) দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জন (১৯.৮৬) মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৬৭ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সড়কেই নয়, প্রাণহানি ঘটেছে রেল ও নৌপথেও। রেলপথে ২৯টি দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত এবং ২০৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১১টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা। পরিসংখ্যানে দেখা যায় মোটরসাইকেলে ১১৬ জন নিহত (মোট নিহতের ৩৯%)। বাস যাত্রী ৪১ জন। থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-অটোরিকশা) ৫০ জন। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস যাত্রী ২০ জন। ট্রাক-পিকআপে ১৩ জন এবং স্থানীয় যানবাহনে ৯ জন নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে ১৬১টি। এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ১১৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ধরনে দেখা যায়, ১৫২টি ক্ষেত্রে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন এবং ৯৬টি ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ।
বিভাগীয় হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়। একক জেলা হিসেবেও শীর্ষ রয়েছে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১২ জন নিহত হয়েছেন বরিশাল বিভাগে।
প্রতিবেদনে এবারের ঈদে কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে রেলক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১৪ জনের মৃত্যু। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু। সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে ২ জনের মৃত্যু ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
ফাউন্ডেশনটি বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা আদতে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর প্রাণহানি ১২.২৪ শতাংশ কমলেও এটি কোনো উন্নতির সূচক নয়। মূলত জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেলের ব্যবহার কম হওয়ায় প্রাণহানি কিছুটা কম হয়েছে।
নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করেছে:
১. কাউন্সিল পুনর্গঠন: জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এর অধীনে বিআরটিএ ও বিআরটিসি পরিচালনা করা।
২. আধুনিক প্রযুক্তি: মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সরানো।
৩. দক্ষ চালক: দক্ষ চালক তৈরির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং তাদের বেতন-কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা।
৪. অবকাঠামো: মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ।
৫. সমন্বিত মন্ত্রণালয়: সড়ক, রেল ও নৌপথকে একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করা।
প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়তে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
























ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব