জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে; চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ
- আপডেট সময় : ১২:২২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব এখন ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ চেইনের ঘাটতিতে সবজি, মাছসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ, আর বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার অভিযোগও তুলছেন ভোক্তারা।
জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ চেইনে ঘাটতির কারণে নিত্যপণ্যের দাম চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ সবজির দামই কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে। তবে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আজকের বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি মূলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, টমেটো প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা এবং কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ফুল কপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এই বাড়তি দামের চাপ সরাসরি পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। বাজার তদারকির দুর্বলতাকেই এর জন্য দায়ী করছেন ক্রেতারা।
রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী মুকিদুর রহমান বলেন, আজ বাজার করতে এসে দেখছি সব ধরনের সবজির দাম অনেক বাড়তি। বেশিরভাগ সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, অন্যগুলো ৮০ টাকার ঘরে। অল্প কিছু সবজি ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বলতে গেলে প্রতিটা সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দাম খুব বেশি যাচ্ছে। যে যার মতো ইচ্ছে করে বাড়তি দাম আদায় করছে। অথচ বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ দেখছি না।
সোনালি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৩৮০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৯০ টাকা দরে করে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
তবে মাছের বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। ৩০০ গ্রাম সাইজের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নদীতে মাছ ধরতে জেলেদের যেতে না পারায় তৈরি হয়েছে মাছের সংকট। জ্বালানি ঘাটতি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নদীর মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে ভোজ্য তেলের বাজারে সরবরাহ সংকট থাকলেও দাম আপাতত স্থিতিশীল। ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ৯৫০ টাকা। তবে এর সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ১ লিটার সরিষার তেল কিনতে হচ্ছে, যা বড় কোম্পানিগুলোর প্রতারণা বলে মনে করছেন বিক্রেতারাই।
সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, আর এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।
























ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব