ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধে রাজি হিজবুল্লাহ!
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি শান্তি পরিকল্পনার আওতায় ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করতে হিজবুল্লাহ রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবানন। একই সঙ্গে এই চুক্তির অধীনে ইসরায়েলও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘উভয় পক্ষ থেকে হামলা বন্ধের মার্কিন প্রস্তাবে হিজবুল্লাহর সম্মতির বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে’।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি আমাদের শহর ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে বৈরুতে হামলা অব্যাহত থাকবে’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার পর এই বিবৃতিগুলো সামনে আসে। ট্রাম্প জানান, উভয় পক্ষই সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এর আগে ইরান সতর্ক করেছিল যে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য বড় হুমকি। সোমবার শেষদিকের এক বিবৃতিতে লেবানন দূতাবাস জানায়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিনিময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকবে। এই যুদ্ধবিরতি পুরো লেবানন জুড়ে কার্যকর করা হবে। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে।
উভয় পক্ষ লড়াই থামাতে সম্মত হয়েছে বলে ট্রাম্প জানানোর পরও কিছু সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ড্রোন ও কামানের গোলা ব্যবহার করে উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সৈন্যদের লক্ষ্য করে তিনটি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে ছোঁড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএএ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে এবং দেব্বিনে নামক একটি শহরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবে নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু’তে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের পর ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় সতর্কতা জারি করা হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি স্পষ্টভাবেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য এবং যেকোনো একটি ফ্রন্টে এর লঙ্ঘন মানে পুরো যুদ্ধবিরতিরই লঙ্ঘন। পাশাপাশি ইরানের আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করতে পারে। এছাড়া ইরান ও তার মিত্ররা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালীসহ অন্যান্য ফ্রন্ট সক্রিয় করে তুলতে পারে’ বলেও তাসনিম উল্লেখ করে।
তবে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং বৈরুতে কোনো ইসরায়েলি সৈন্য যাবে না, এমনকি অগ্রসরমান সৈন্যদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও তাঁর ভালো কথা হয়েছে এবং তারা পারস্পরিক গোলাগুলি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত লেবাননের পরিস্থিতিকে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছে। তবে ইরান, যারা দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহকে আদর্শিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে, তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যেকোনো চুক্তিতে লেবাননের শান্তি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। রবিবার (৩১ মে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কাছে ধাপে ধাপে উত্তেজনা হ্রাসের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে দুবার হামলা চালিয়েছে, যার শেষটি ছিল গত বৃহস্পতিবার। তবে আগের তুলনায় হামলার তীব্রতা কমেছে; ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তিতে পৌঁছানোর অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউজ বৈরুতে সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করতে ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে। সূত্র: বিবিসি























ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমলো ৫৫ টাকা