ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষের দিকে যেতে পারে, এমন আশায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনার খবরে তেলের দাম কমেছে। যদিও এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানায়, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য বৈঠকের ইঙ্গিত বাজারে আশাবাদ বাড়িয়েছে। এতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার দাম ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ০৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানকে ঘিরে সংঘাত নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে থাকা হরমুজ প্রণালি প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ কমেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামও কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারের নিচে নেমেছে। এর আগে গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে তেলের দাম রেকর্ড গতিতে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছিল। সম্প্রতি তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও পুরো সপ্তাহজুড়ে ৯০ ডলারের ঘরেই অবস্থান করেছে।

এদিকে এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আবারও বৈঠক হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষের দিকে যেতে পারে বলে আমাবাদ তৈরি হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এশিয়ার শেয়ারবাজার নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে লেনদেন শুরু করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান দেখা গেলেও এশিয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রাথমিক লেনদেনে ১ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ের শেয়ারবাজারও ০.৬৯ শতাংশ নিচে রয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগের দিন উত্থান দেখা যায়, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিল এবং এই সপ্তাহান্তে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ০.৪৬ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করেছে, আর তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও প্রাথমিক লেনদেনে ০.৮০ শতাংশ কমেছে। শাংহাই শেয়ারবাজারও শুক্রবার ০.২৩ শতাংশ নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষের দিকে যেতে পারে, এমন আশায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনার খবরে তেলের দাম কমেছে। যদিও এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানায়, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য বৈঠকের ইঙ্গিত বাজারে আশাবাদ বাড়িয়েছে। এতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার দাম ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ০৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানকে ঘিরে সংঘাত নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে থাকা হরমুজ প্রণালি প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ কমেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামও কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারের নিচে নেমেছে। এর আগে গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে তেলের দাম রেকর্ড গতিতে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছিল। সম্প্রতি তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও পুরো সপ্তাহজুড়ে ৯০ ডলারের ঘরেই অবস্থান করেছে।

এদিকে এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আবারও বৈঠক হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষের দিকে যেতে পারে বলে আমাবাদ তৈরি হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এশিয়ার শেয়ারবাজার নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে লেনদেন শুরু করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান দেখা গেলেও এশিয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রাথমিক লেনদেনে ১ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ের শেয়ারবাজারও ০.৬৯ শতাংশ নিচে রয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগের দিন উত্থান দেখা যায়, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিল এবং এই সপ্তাহান্তে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ০.৪৬ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করেছে, আর তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও প্রাথমিক লেনদেনে ০.৮০ শতাংশ কমেছে। শাংহাই শেয়ারবাজারও শুক্রবার ০.২৩ শতাংশ নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে।