বন্ধ হচ্ছে মার্কিন বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন বিমান চলাচলের ইতিহাসে গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে এল। বাজেট এয়ারলাইন হিসেবে পরিচিত স্পিরিট এয়ারলাইন্স আজ শনিবার (২ মে) ভোর ৩টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে তাদের সমস্ত ফ্লাইট বা বিমান চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মিডওয়ে এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটিই কোনো বড় মার্কিন বিমান সংস্থার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রথম ঘটনা। স্পিরিটের এই আকস্মিক পতনে বেকার হতে চলেছেন সংস্থাটির প্রায় ১৭ হাজার কর্মী। একইসঙ্গে কয়েক মিলিয়ন যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পিরিট এয়ারলাইন্সের দ্বিতীয় দফার দেউলিয়াত্ব কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনাটি মূলত ব্যর্থ হয়েছে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে। ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটি আর টিকে থাকতে পারছে না।
এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের একটি রেসকিউ প্যাকেজ বা উদ্ধার তহবিল নিয়ে আলোচনা চললেও শুক্রবার তা ব্যর্থ হয়। ঋণদাতাদের একটি বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন শর্তে রাজি না হওয়ায় এই সমঝোতা ভেস্তে যায়। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো ভালো চুক্তি সম্ভব না হলে আমাদের কিছু করার নেই। আমি কর্মসংস্থানগুলো বাঁচাতে চেয়েছিলাম।
এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স ফার্ম সিরিয়াম-এর তথ্যমতে, মে মাসের বাকি দিনগুলোতে স্পিরিটের প্রায় ৯,০০০ ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল, যাতে প্রায় ১৮ লাখ আসন রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বর্তমানে যারা স্পিরিট এয়ারলাইন্সের টিকিট হাতে নিয়ে ভ্রমণে বের হয়েছেন, তাদের অন্য এয়ারলাইন্সে চড়া দামে টিকিট কিনে ফিরতে হবে। তবে যারা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন, তারা ব্যাংক বা কার্ড ইস্যুকারীর কাছে টাকা ফেরতের দাবি করতে পারবেন। কিন্তু যারা নগদ টাকায় টিকিট কিনেছেন, তাদের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্পিরিট ছিল যুক্তরাষ্ট্রে কম খরচে বিমান ভ্রমণের অন্যতম পথিকৃৎ। তাদের এই বিদায় পুরো মার্কিন বিমান শিল্পে ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বল্পমূল্যের টিকিট সরবরাহকারী এই প্রতিদ্বন্দ্বী বাজার থেকে সরে যাওয়ায় অন্যান্য বড় বিমান সংস্থাগুলো টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
কোভিড মহামারির পর থেকেই স্পিরিট এয়ারলাইন্স ক্রমাগত লোকসানের মুখে ছিল। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এটি দ্বিতীয়বার দেউলিয়া হওয়ার আবেদন জানায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঋণদাতাদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও, এর মাত্র তিন দিন পরই ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে জ্বালানি তেলের সংকটে বিমান সংস্থাটির টিকে থাকার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।
বর্তমানে মার্কিন বিমান বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইউনাইটেড, আমেরিকান, ডেল্টা এবং সাউথওয়েস্ট-এই চারটি বড় সংস্থা। স্পিরিটের পতনে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: সিএনএন

























বিতর্ক ভালো কিন্তু অপপ্রচার-মিথ্যা কখনোই ভালো হতে পারে না: মির্জা ফখরুল