ঈদে গণমুখী ১০ উদ্যোগ নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনগণের সুবিধায় ১০টি গণমুখী বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষ যেন স্বস্তিতে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন দিবস পালনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেয়া হতো। কিন্তু এবার সেই ধরনের কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়নি।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয়নি। শিক্ষার্থীদেরও রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়নি। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার না করে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশেই দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ শেষ পর্যায়ে গিয়ে সীমিত আকারে দাম সমন্বয় করেছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে জ্বালানির দাম এখনো কম রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
১. দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা:
নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সাথে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনদের সাথে আমরা এবার ছুটিতে কিছুটা বেশি সময় থাকতে পেরেছি। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে একযোগে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। প্রতিবছরের চেনা ছবি, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি, এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারপরও যতটুকু হয়েছে, সরকার সচেষ্ট থাকবে আগামীতে সেটারও সমাধানের জন্য।
এবার সামগ্রিক ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট উন্নতি এবং অতীতের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা কম হলেও, এর আড়ালে কিছু পরিবারের ঈদ আনন্দ রূপ নিয়েছে আজীবনের কান্নায়। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর অসচেতনতার জেরে এবারও বেশ কিছু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেড়ে নিয়েছে তাজা প্রাণ। টাঙ্গাইলে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর মত মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আমাদেরকে প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত করেছে। স্বজনহারা মানুষগুলোর ঈদ কাটছে শূন্যতা ও কান্নায়, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতের যে-কোনো উৎসবে যে-কোনো মূল্যে ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।
২. পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ:
তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে শ্রমবান্ধব সরকারের উদ্যোগে সকল ব্যাংক এবং অংশীজনদের সাথে কথা বলে কারখানার শ্রমিক, মালিক ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফলে আমরা দেখেছি, ঈদের ঠিক আগে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ বা শিল্পাঞ্চলে সেই রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, যা ছিল বিগত সময়ের নিয়মিত ঘটনা। প্রায় সকল কারখানায় সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয়েছে, নিশ্চিত করা হয়েছে উৎসবমুখর ঈদের পরিবেশ। এর ফলে লাখো শ্রমিক ও তাদের পরিবার আর্থিক স্বস্তি নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন এবং দেশের শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিরাজ করেছে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
৩. দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ:
স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পশুর হাটগুলোতে ছিল সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা। বাজারে দেশি গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দেশজুড়ে কোরবানির পশুর সংকট তৈরি হয়নি। প্রায় ১ কোটি ১ লক্ষ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লক্ষ এবং এভাবেই প্রথমবারের মত নিশ্চিত হয় কোরবানিতে পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে ব্যাবসা পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি রাস্তায় রাস্তায় গরুর হাট বসানোর ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, কিন্তু এবার রাস্তার বদলে খোলা জায়গায় গরুর হাট বসানোয় রাস্তার যানজট থেকে মানুষ রেহাই পেয়েছে।
দেশের অধিকাংশ প্রান্তিক খামারি ও গৃহস্থরা পশুর ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায়, শেষের দিকে কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্যে পশু বিক্রি করতে পারেননি। সরকারের দৃষ্টিও এ বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে তাদের ন্যায্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৪. দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা:
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও দেশের বড়-বড় পৌরসভাগুলোতে ঈদের দিন দুপুর থেকেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও অতিরিক্ত জনবল নিশ্চিত হয়। কোরবানির পরবর্তী ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে, যা অতীতে বেশ কয়েকদিন সময় নিত। বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গা ছাড়া প্রায় সর্বত্র ঈদের রাতের মাঝেই পরিচ্ছন্নতা অর্জন স্থানীয় নাগরিক সেবার একটি নতুন মাইলফলক। এই বর্জ্য অপসারণের সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীগণ, যারা পরিবারের সাথে সময় না কাটিয়ে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের সাধুবাদ জানাই।
ঈদের পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি, অর্থাৎ সরাসরি মাঠপর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেন, যা দেশীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে একটি বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা। পরিদর্শনকালে, ঈদুল আযহার কোরবানির বর্জ্য অপসারণে অবহেলার দায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সশরীরে তদারকি ও জনগণের সুখ-দুঃখের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার মানসিকতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্পৃহা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
৫. গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা:
ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ছিল। পাশাপাশি, প্রথমবারের মত রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা সংরক্ষিত কোচ বা বগি চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার উপর বিশেষ ছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটেনি, বরং লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়া রুট ভেদে ৫-৮% ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস, লঞ্চসহ সকল যানহবনে ডিজিটাল বোর্ড, স্টিকারের মাধ্যমে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। লঞ্চে হুইলচেয়ার, ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালামাল বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাভিত্তিকভাবে মানুষ এসব জায়গা থেকে যাত্রা করতে পেরেছে, সবাইকে সদরঘাটে যেতে হয়নি, এই ঘটনা নিশ্চয়ই সরকারের একটি অবিস্মরণীয় উদ্যোগ।
ন্যায্য ভাড়া ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল জোরালো ও সাহসী।
৬. চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান:
পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ও শক্ত ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে পশুর হাটে ইজারা বহির্ভূত চাঁদা আদায় বন্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল। মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি, মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের প্ররোচনায় অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়েনি এবং সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পশু ক্রয় করতে পেরেছেন।
৭. লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ:
ঈদের ছুটিতে কলকারখানা বন্ধ থাকার সুযোগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদনে বহু বছরের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, এই তীব্র গরমের মধ্যেও ঈদের দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশের সিংহভাগ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। একটি সমন্বিত ও কার্যকর বিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবতার আলোকে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌসুমি দুর্যোগের ফলে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে। আপনারা অবহিত আছেন যে, ইতোমধ্যে পুরো বিদ্যুৎ খাতকে আরও সেবামুখী ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির সকল উৎস ব্যবহারে সচেষ্ট।
৮. সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোরবানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামক আলোচিত মহিষটির সংরক্ষণ ও চিড়িয়াখানায় প্রেরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়িয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঈদুল আজহার দিন বা এই বন্ধে উল্লেখযোগ্য সামাজিক সংঘাত বা নৈরাজ্যজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ। ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধনে দেশজুড়ে উদ্যাপিত হয়েছে ঈদুল আজহা।
৯. চামড়া শিল্পের দাম নির্ধারণ ও তদারকি:
লবণের জোগান নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য যথারীতি আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেয় সরকার। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতীতে চামড়ার দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এবার মাঠপর্যায়ে নজরদারির কারণে চামড়া অবিক্রীত থাকার বা নষ্ট হওয়ার হার অনেকটাই কমেছে। কোরবানির মৌসুমে চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চামড়া কেনাবেচায় সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে না ঘটে, সেজন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি ও তথ্য অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়েছে। কোথাও-কোথাও চামড়া অবিক্রীত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও, তা সাম্প্রতিক বছরসমূহের তুলনায় অনেক কম। সরকার ভবিষ্যতে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ব্যাপারে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
১০. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীলতা:
ঈদের আগে চাল, ডাল, মশলা, তেল, চিনিসহ কোরবানি-সংশ্লিষ্ট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার তদারকি পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও, উৎসবের সুযোগ নিয়ে খুচরা বাজারে যেভাবে হঠাৎ দাম আকাশচুম্বী করা হতো, এবার সরকারি নজরদারির কারণে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গিয়েছে। উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রান্তিক মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মাঝে রাখার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নে ক্লান্ত জনগণ।





















গৃহকর্মী থেকে এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিমন্ত্রী