বন্যপ্রাণী বলে দিবে দলের ভবিষ্যদ্বাণী
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই ‘পল দ্য অক্টোপাসের’ কথা মনে আছে? জার্মানির একটি অ্যাকুরিয়ামে বসে একের পর এক ম্যাচের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়ে ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল সেই কিংবদন্তি অক্টোপাস। ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি মাঠের বাইরের এমন কিছু পাগলামি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে সেই চেনা উন্মাদনা আবার ফিরে এল। তবে এবার কোনো সমুদ্রের জীব নয়, ম্যাচ জয়ী নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে মেক্সিকোর এক চিড়িয়াখানার একঝাঁক বন্যপ্রাণী!
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানায় এখন উৎসবের আমেজ। আগামী ১১ জুন পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের। আর উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের ফল কী হতে পারে? তা জানতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আয়োজন করেছিল এক অভিনব ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ পর্বের।
হাতির পায়ে মেক্সিকোর ভাগ্য, পুমার দক্ষিণ কোরিয়া
ম্যাচের ফল নির্ধারণের জন্য চিড়িয়াখানার ভেতর তৈরি করা হয়েছিল একটি কৃত্রিম ফুটবল মাঠ। সেখানে দুই পাশে রাখা হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় পতাকা। আর তার নিচেই বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল সবুজ ঘাস। তারপর মাঠের ছেড়ে দেওয়া হয় বিশালদেহী দুটি হাতিকে। হাতি দুটির সামনে তখন কঠিন চয়েস—কোন পাশের ঘাস মুখে তুলবে তারা?
কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়িয়ে থেকে হাতি দুটি অলস ভঙ্গিতে হেঁটে গেল মেক্সিকোর পতাকার দিকে। ব্যস, চিড়িয়াখানায় উপস্থিত দর্শকদের করতালি আর উল্লাস! হাতির রায় মেনে দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছেন—উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেতে যাচ্ছে মেক্সিকোই।
চিড়িয়াখানার কিপার (এএফপি) ইভান রেইনোস বলেছেন, ‘মূল ভাবনাটা হচ্ছে, বিশ্বকাপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো নিয়ে প্রাণীরা এভাবে নিজেদের মতো করে ভবিষ্যদ্বাণী করবে।’
শুধু হাতিই নয়, জ্যোতিষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল চিড়িয়াখানার অন্য বাসিন্দারাও। ২৬ জুনের স্পেন ও উরুগুয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়েছিল ‘চেনচি’ ও ‘ফাউস্তিনা’ নামের দুটি গরিলার ওপর। তাদের সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল দুই দেশের জার্সির আদলে তৈরি দুটি ‘পিনিয়াতা’ (ভেতরে খাবার বা খেলনা ভরা মাটির পাত্র বা বাক্স)। কিছুক্ষণ থমথমে পরিস্থিতির পর একটি গরিলা আচমকাই উরুগুয়ের জার্সির দিকে ছুটে গিয়ে সেটি টেনে নেয়। পাশ থেকে এক চিড়িয়াখানা কর্মী উচ্ছ্বসিত গলায় চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, কে জিতল!’
‘মুলুক’ নামের একটি চিতা বাঘের (পুমা) সামনে দেওয়া হয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার অপশন। ৫ জুন এক বিশেষ এনরিচমেন্ট অ্যাক্টিভিটির সময় পুমাটি বেছে নেয় দক্ষিণ কোরিয়াকে। ফলে তার রায়—জয় পাচ্ছে এশিয়ান পরাশক্তিরাই। পিছিয়ে ছিল না জিরাফ বাহিনীও। ছয়টি জিরাফের এক দল কলম্বিয়াকে পেছনে ফেলে রায় দিয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পক্ষে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহোৎসবের আগে দর্শকদের এমন নিখাদ আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি এই আয়োজনের পেছনে অন্য একটি মহৎ উদ্দেশ্যও রয়েছে বলে জানান চিড়িয়াখানার কিপার ইভান রেইনোসো।
তাঁর মতে, এটি কেবল দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য নয়, খাঁচায় বন্দি প্রাণীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশেরও একটি অংশ। একে বলা হয় ‘অ্যানিমেল এনরিচমেন্ট’। রেইনোসো বলেন, ‘এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাণীদের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করে। এটি দর্শকদের জন্য যেমন দৃশ্যমান আনন্দ, তেমনি প্রাণীদের নিজেদের জন্যও দারুণ এক মানসিক খোরাক।’
মাঠের ফুটবলাররা বুট পায়ে নামার আগেই বন্যপ্রাণীদের এই ভবিষ্যদ্বাণীর খেলা বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।


























বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল