ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফাইনালে দক্ষিণ এশিয়ার দুই সেরা দলের লড়াই। বাংলাদেশের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ, ভারতের ট্রফি পুনরুদ্ধার। এমন ম্যাচে প্রথমার্ধে সমানে সমান থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর পেরে ওঠেনি লাল সবুজের মেয়েরা। প্রথমার্ধের গোলের সুযোগ মিস, আর দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণের দুর্বলতা, তাতে ভারতের কাছে ফাইনালে পরাজয় মেনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পিটার বাটলারের দলকে।

স্বাগতিক ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার ১-৩ ব্যবধানে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তবে পরের অর্ধে আরও দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। যার একটি ছিল আফঈদা খন্দকারের মারাত্মক ভুলে। এছাড়া গোলকিপার মিলি আক্তারের বেশ কিছু ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশের। দারুণ এই জয়ে ২০১৯ সালের পর সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ভারত।

শনিবার শিরোপা ধরে রাখার ম্যাচে শুরুর একাদশে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ বাটলার। সেমি-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে খেলা দল থেকে সৌরভি আকন্দ প্রীতি ও উমেহ্লা মারমাকে বসিয়ে অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে ফেরান বাংলাদেশ কোচ। দুজনেই এদিন ব্যর্থ হয়েছেন। তহুরার দুটি ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো।

পন্ডিত জওহর লাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১২তম মিনিটে প্রথম কার্যকরী আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। বা প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ক্রস দেন ঋতুপর্ণা, তবে বলে পা ছোয়াতে পারেননি ছোট বক্সে থাকা তহুরা। দুই মিনিট পর আবারও তহুরার মিস। বলের লাইনে থাকা এই ফরোয়ার্ড ছোট বক্সে ঢোকার আগে স্লাইডে বল কর্ণার করে দেন জুলি কিশান।

খানিক পর একটা লং বল ক্লিয়ার করতে পোস্ট ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসেন মিলি। এরপর লাফিয়ে উঠে ফিস্ট করলেও বল ক্লিয়ার করতে পারেননি বাংলাদেশ গোলকিপার। কোহাতির শটেও বল থেকে যায় বক্সের একটু সামনে। তবে ভারতীয় ফরোয়ার্ড আস্তাম ওরোন ফাঁকা পোস্ট পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

শুরুতেই বাংলাদেশের সুযোগ মিস, আর ভারতের এলোমেলো ফুটবল। তবে ২৩ মিনিটে আরেকবার অলিম্পিক গোলের আভাস মিলছিল ঋতুপর্ণার কাছ থেকে। তবে কর্নারে এবার কাঁপে পোস্টের উপরের জাল।

৩৮ মিনিটে ভারতের মানিশার দারুণ শট ডান দিকে ঝাপিয়ে আটকে দেন মিলি। তিন মিনিট পর আনিকার কাটব্যাকে তহুরার শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। তবে পরের মিনিটে ভারত আর ভুল করেনি। ৪২ মিনিটে মিলির ভুল অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তাঁরই মাথার উপর দিয়ে চিপ শটে জালে বল জড়ান ভারতের নাম্বার টেন পেয়ারি জাজা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। খানিক পর আনিকার দূরপাল্লার জোরালো শট ঝাপিয়ে পড়ে কর্নার করে দেন ভারতের গোলকিপার পান্থই চানু।

তবে এই অর্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ঋতুপর্ণাকে আটকে রাখতে পারেনি ভারত। তহুরার দারুণ পাসে বক্সে ঢুকেই নিচু শটে ভারতের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতি যায় দুই দল।

ঋতুপর্ণার গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিরতি থেকে ফিরেই সানফিদার হেডে ম্যাচে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৫১ মিনেটে ম্যাচে ফেরার সেই সুযোগ এনে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। তবে ছোট শামসুন্নাহারের হেডে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে।

৬০ মিনিটে আনিকাকে উঠিয়ে মনিকা চাকমাকে মাঠে নামান বাটলার। চার মিনিট পর সানফিদার ক্রসে মানিশার শট জালে জায়গা করে নেয়নি অল্পের জন্য।

এদিকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ পরের ১৫ মিনিটে পারেনি কোনো গোছানো আক্রমণ শানাতে। দেখা মেলেনি পাসিং ফুটবলের, বল রিসিভেও ভুল ছিল বাংলাদেশের। এছাড়া বিল্ডআপ মনোযোগী ছিলেন না রক্ষণের কোহাতি, আফঈদারা।

উল্টো ৮২ মিনিটে আফঈদার ভুলে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। নিজেদের বক্সে ফাকায় ছিলেন আফঈদা, বলটা চাইলেই তিনি ব্যাক-পাস দিতে পারতেন বা অনায়েসে ক্লিয়ার করতে পারতেন। কিন্তু ধীরস্থীর আফঈদা পা ঘুরিয়ে শট নেন দেরিতে। তারপর শট নিলেন ততক্ষণে তাঁর সামনে দৌড়ে আসেন মালাভিকা। এই বদলি খেলোয়াড়ের শরীরে লেগে বল চলে যায় গোলমুখের সামনে থাকা আরেক বদলি খেলোয়াড় লিন্ডা কোমের কাছে। আলতো টোকায় জাল কাঁপাতে কোনো ভুল করেননি লিন্ডা।

ম্যাচে ফেরার সুযোগ কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। এরপর আর গোলের কোনো ভালো সুযোগও তৈরি করতে পারেনি লাল সবুজের মেয়েরা। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোললাইন ক্লিয়ার করেন ম্যাচে নিস্প্রভ থাকা কোহাতি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের পরাজয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের।

নিউজটি শেয়ার করুন

হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১১:২২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ফাইনালে দক্ষিণ এশিয়ার দুই সেরা দলের লড়াই। বাংলাদেশের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ, ভারতের ট্রফি পুনরুদ্ধার। এমন ম্যাচে প্রথমার্ধে সমানে সমান থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর পেরে ওঠেনি লাল সবুজের মেয়েরা। প্রথমার্ধের গোলের সুযোগ মিস, আর দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণের দুর্বলতা, তাতে ভারতের কাছে ফাইনালে পরাজয় মেনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পিটার বাটলারের দলকে।

স্বাগতিক ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার ১-৩ ব্যবধানে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তবে পরের অর্ধে আরও দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। যার একটি ছিল আফঈদা খন্দকারের মারাত্মক ভুলে। এছাড়া গোলকিপার মিলি আক্তারের বেশ কিছু ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশের। দারুণ এই জয়ে ২০১৯ সালের পর সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ভারত।

শনিবার শিরোপা ধরে রাখার ম্যাচে শুরুর একাদশে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ বাটলার। সেমি-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে খেলা দল থেকে সৌরভি আকন্দ প্রীতি ও উমেহ্লা মারমাকে বসিয়ে অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে ফেরান বাংলাদেশ কোচ। দুজনেই এদিন ব্যর্থ হয়েছেন। তহুরার দুটি ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো।

পন্ডিত জওহর লাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১২তম মিনিটে প্রথম কার্যকরী আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। বা প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ক্রস দেন ঋতুপর্ণা, তবে বলে পা ছোয়াতে পারেননি ছোট বক্সে থাকা তহুরা। দুই মিনিট পর আবারও তহুরার মিস। বলের লাইনে থাকা এই ফরোয়ার্ড ছোট বক্সে ঢোকার আগে স্লাইডে বল কর্ণার করে দেন জুলি কিশান।

খানিক পর একটা লং বল ক্লিয়ার করতে পোস্ট ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসেন মিলি। এরপর লাফিয়ে উঠে ফিস্ট করলেও বল ক্লিয়ার করতে পারেননি বাংলাদেশ গোলকিপার। কোহাতির শটেও বল থেকে যায় বক্সের একটু সামনে। তবে ভারতীয় ফরোয়ার্ড আস্তাম ওরোন ফাঁকা পোস্ট পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

শুরুতেই বাংলাদেশের সুযোগ মিস, আর ভারতের এলোমেলো ফুটবল। তবে ২৩ মিনিটে আরেকবার অলিম্পিক গোলের আভাস মিলছিল ঋতুপর্ণার কাছ থেকে। তবে কর্নারে এবার কাঁপে পোস্টের উপরের জাল।

৩৮ মিনিটে ভারতের মানিশার দারুণ শট ডান দিকে ঝাপিয়ে আটকে দেন মিলি। তিন মিনিট পর আনিকার কাটব্যাকে তহুরার শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। তবে পরের মিনিটে ভারত আর ভুল করেনি। ৪২ মিনিটে মিলির ভুল অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তাঁরই মাথার উপর দিয়ে চিপ শটে জালে বল জড়ান ভারতের নাম্বার টেন পেয়ারি জাজা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। খানিক পর আনিকার দূরপাল্লার জোরালো শট ঝাপিয়ে পড়ে কর্নার করে দেন ভারতের গোলকিপার পান্থই চানু।

তবে এই অর্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ঋতুপর্ণাকে আটকে রাখতে পারেনি ভারত। তহুরার দারুণ পাসে বক্সে ঢুকেই নিচু শটে ভারতের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতি যায় দুই দল।

ঋতুপর্ণার গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিরতি থেকে ফিরেই সানফিদার হেডে ম্যাচে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৫১ মিনেটে ম্যাচে ফেরার সেই সুযোগ এনে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। তবে ছোট শামসুন্নাহারের হেডে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে।

৬০ মিনিটে আনিকাকে উঠিয়ে মনিকা চাকমাকে মাঠে নামান বাটলার। চার মিনিট পর সানফিদার ক্রসে মানিশার শট জালে জায়গা করে নেয়নি অল্পের জন্য।

এদিকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ পরের ১৫ মিনিটে পারেনি কোনো গোছানো আক্রমণ শানাতে। দেখা মেলেনি পাসিং ফুটবলের, বল রিসিভেও ভুল ছিল বাংলাদেশের। এছাড়া বিল্ডআপ মনোযোগী ছিলেন না রক্ষণের কোহাতি, আফঈদারা।

উল্টো ৮২ মিনিটে আফঈদার ভুলে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। নিজেদের বক্সে ফাকায় ছিলেন আফঈদা, বলটা চাইলেই তিনি ব্যাক-পাস দিতে পারতেন বা অনায়েসে ক্লিয়ার করতে পারতেন। কিন্তু ধীরস্থীর আফঈদা পা ঘুরিয়ে শট নেন দেরিতে। তারপর শট নিলেন ততক্ষণে তাঁর সামনে দৌড়ে আসেন মালাভিকা। এই বদলি খেলোয়াড়ের শরীরে লেগে বল চলে যায় গোলমুখের সামনে থাকা আরেক বদলি খেলোয়াড় লিন্ডা কোমের কাছে। আলতো টোকায় জাল কাঁপাতে কোনো ভুল করেননি লিন্ডা।

ম্যাচে ফেরার সুযোগ কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। এরপর আর গোলের কোনো ভালো সুযোগও তৈরি করতে পারেনি লাল সবুজের মেয়েরা। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোললাইন ক্লিয়ার করেন ম্যাচে নিস্প্রভ থাকা কোহাতি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের পরাজয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের।