ইরান নয় পাকিস্তান-তুরস্ক হতে পারে ইসরায়েলের নতুন শত্রু!
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
চলমান যুদ্ধের পর ইরান নয়, বরং তুরস্ক অথবা পাকিস্তান হতে পারে ইসরায়েলের নতুন প্রধান শত্রু। ইসরায়েলি দৈনিক পত্রিকা ‘মাআরিভ’-এ প্রকাশিত এক কলামে বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি মধ্যপ্রাচ্যের এ পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতি এবং ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
গোলানির মতে, বর্তমান যুদ্ধ এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ফলে ৩ দশক ধরে সুপ্রিম লিডার আলী খামেনির নেতৃত্বে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে ইরান যে ভূমিকা পালন করে আসছিল, তা থেকে তারা সরে যেতে বাধ্য হবে। আর এ শূন্যস্থান পূরণে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে নতুন কোনো দেশের আবির্ভাব অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছে বলে উল্লেখ করেন এ বিশ্লেষক। তিনি জানান, তুরস্কের ৮ কোটি ৫০ লাখ এবং পাকিস্তানের ২৪ কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি দেশেরই বিশাল সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং দেশ দুটির সরকার ব্যবস্থা অনেকটাই সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। আশ্চর্যজনকভাবে, ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও এ দুই দেশের কৌশলগত সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের হত্যা এবং ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। আঙ্কারা সম্প্রতি গ্রিস ও সাইপ্রাসের সাথে সম্পর্ক জোরদার করলেও, গ্রিক ‘শ্যাডো শিপ’গুলো তুরস্কের সেয়হান বন্দর হয়ে ইসরায়েলে তেল ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে সিরিয়াকে কেন্দ্র করেই তেলআবিব ও আঙ্কারার মধ্যকার এই বৈরিতা আরও ঘনীভূত হবে।
অন্যদিকে, চলমান যুদ্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানও দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক। সম্প্রতি ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দলের শান্তি আলোচনার ঠিক আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলকে ‘শয়তান’ এবং ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, যদিও পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বোয়াজ গোলানি তার বলেন, ইরানের সাথে লড়াই কমার পরপরই এই দুই দেশের যেকোনো একটির সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য ইসরায়েলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক সর্বাত্মকভাবে ধরে রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন এই বিশ্লেষক। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
























দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৭